হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়াপ্রচ্ছদরোহিঙ্গা

শরণার্থী ক্যাম্পে ‘রোহিঙ্গা বিশ্বকাপ’

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::
রাশিয়া বিশ্বকাপ পাঁচদিন আগে শেষ হয়ে গেলেও এর রেশ এখনও চলছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কোনো দলই বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও তাদের সমর্থনে পতাকাগুলো এখনও উড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এই বাংলাদেশেরই দক্ষিণ প্রান্তে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফুটবল বিশ্বকাপ আনন্দ বয়ে এনেছে তাদের জীবনেও।
লক্ষ লক্ষ শরণার্থী কখনো নিজেদের দেশে ফিরতে পারবে কিনা জানে না। শিশুরা জানে না, তারা কখনও পড়তে পারবে কিনা। এই শরণার্থীদের সাহায্যের ধুয়া তুলে বহু মানুষ নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু হতভাগা রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরত পাঠানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তবে থেমে থাকে না জীবন। রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরোরা তাই আয়োজন করেছিল অন্যরকম এক ফুটবল বিশ্বকাপের!
রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরেরা এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য একটি ট্রফিও জোগার করেছিল। যাতে সাদা কাগজের লেবেলে মার্কার পেন দিয়ে ইংরেজিতে লেখা আছে, ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৮’।

বিজয়ী দল এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেও আসলে দুই দলের সবাই এই ট্রফির মালিক। ফুটবল তো একটি ভালোবাসার নাম, এখানে ভাগাভাগি হবে কেন?
৬ বছরের মোহাম্মদ রেজা আকাশী নীল আর সাদায় চেক জার্সি পরে খেলছিল। বোঝাই যাচ্ছে এটি কোন দলের জার্সি। ওইটুকু বাচ্চা দাঁত বের করে বলছিল, ‘আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। আমি ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ফাইনাল দেখেছি। ফ্রান্স জিতেছে আর ক্রোয়েশিয়া হেরেছে। ৮ বছর বয়সী নুরুল আফসার কিন্তু রেজার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মানে বুঝতেই পারছেন, সে ব্রাজিল সাপোর্টার। এই দুই দলের সমর্থকদের পাগলামিতে দেশে অনেক মারামারি-হানাহানি হয়েছে। ব্রাজিলের জার্সি পরা নুরুল সেই পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই বলল, ‘আমার প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার। আমি তাকে ভীষণ পছন্দ করি। ‘
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেইমারের বেশ কয়েকজন ভক্ত পাওয়া গেল। তাদের একজন জাহাঙ্গীর আলম (১৭) নেইমারের জার্সি পরে জাগলিং করছিল। সে যেহেতু বয়ঃসন্ধিতে আছে, তাই তার চিন্তাটাও একটু ভিন্ন। জাহাঙ্গীর বলল, ‘নেইমারের চুলের ছাঁট আমার দুর্দান্ত লাগে। তার খেলা দেখে আমি মুগ্ধ। ওর মতো চুলের ছাঁট যদি আমি করাতে পারতাম…। ‘
জাহাঙ্গীরের চুলের ছাঁট নেইমারের মতো হয়েছে কিনা সেটা ওখনও জানা যায়নি; তবে এই ফুটবল বিশ্বকাপ অভাগা মানুষগুলোর জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। হাসি ফুটিয়েছে মুখে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.