টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শচিনের বিদায়ী সিরিজে দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামের আশাবাদ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩
  • ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ী সিরিজের বাকি এখনো পাক্কা তিন সপ্তাহ। কিন্তু উত্তাপ এখনই তুঙ্গে। ক্রিকেট এবং শচিন ভক্তরা কোলকাতা ও মুম্বাইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ‘হিরো’কে  বিদায় জানানোর লক্ষ্যে টিকিটের পয়সা জমাচ্ছেন।
টেস্ট ক্রিকেটে সকল অর্জনের মালিক শচিনের বিদায়ে দর্শকদের বিশেষ করে ভারতীয়দের এই আগ্রহের পেছনে কাজ করছে অনেক আবেগ।
উদাহরণস্বরূপ কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামের কথাই ধরা যাক। বিগত ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে ইডেন উদ্যানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ভারত। সেবার খেলেছিলেন শচিনও। সেই ম্যাচের প্রথম দিনে টিকিট বিক্রি হয়েছিল ১০০’র কম। সেবার একদিনও দর্শক পরিপূর্ণ হয়নি ইডেনের গ্যালারি। প্রথম তিনদিনের খেলা হয়েছে বলতে গেলে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১২ সালে মুম্বাইয়ে ভারতীয় দল খেলার সময়টাতেও চিত্র ছিল একই রকম। মাত্র ২৭ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি কোনোদিনই দর্শকে পরিপূর্ণ হতে দেখা যায়নি।
এতে করে একটা বিষয় সুস্পষ্ট, আইপিএলে আকৃষ্ট ভারতীয় দর্শকদের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন । বিষয়টা ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যানদের অন্যতম শচিনের শেষ দশটি দিন দেখা নিয়ে। বলা যায়, ক্রিকেটের সেরা ৬০টি ঘণ্টা দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কেউ।
ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয়টা বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে। এমনকি পরাজিত হওয়া ম্যাচেও ভারতীয়রা ব্যক্তিগত অর্জনকে রীতিমত উদযাপন করেছে। অ্যাডিলেডে ১৯৪৭-৪৮ সালে বিজয় হাজারের জোড়া সেঞ্চুরি সেরকমই একটা উদাহরণ। ভারতীয়রা সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হলেও বিজয় হাজারের জোড়া সেঞ্চুরি নিয়ে উৎসাহের কমতি ছিল না।
লর্ডসে ১৯৫২ সালে ভিনু মানকড়ের কীর্তিটাও পরাজিত হওয়া ম্যাচে। কোনো ভারতীয়র সেরা ওই অল রাউন্ড পারফরম্যান্সে মানকড় দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৭২ এবং ১৮৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১৯৬ রানে শিকার করেছিলেন পাঁচ উইকেট।
অবশ্য, এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য সেইসব কীর্তির বিশ্লেষণ নয়। ভারতীয়রা বরাবরই আইকনদের কীর্তি উদযাপন করতে ভালোবাসে। যে কারণে ভারতীয়রা সেরা ক্রিকেটারদের বিদায়বেলাটা  স্মরণীয় করে রাখায় চেষ্টার ত্রুটি করে না। শচিন টেন্ডুলকার টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাতে করে তার বিদায় বেলাটা অন্যরকম করা চেষ্টা তো থাকবেই।
শচিনের বিদায়ী ম্যাচ তাই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে দেখাটা প্রকারান্তরে ভারতীয় দর্শকদেরই অপমানের বিষয়। এই মুহুর্তে ক্রিকেটপ্রেমের দিক দিয়ে ভারতীয় দর্শকরাই যে শীর্ষে অবস্থান করছে, সেটা বোঝানোর জন্য হলেও গাঁটের পয়সা খরচ করে দর্শক পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামে শচিনের বিদায়ী সিরিজ দেখার আশাবাদী বোর্ড অব ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।
ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেছেন, ঘরের মাঠে দর্শক পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচ খেলার এ্টাই তার সেরা সুযোগ। ধোনির বক্তব্য যথার্থ বলেই মানা হচ্ছে। শচিন টেন্ডুলকার শুধুই একজন আইকন মাত্র নন। তিনি সকলেরই কাছে নন্দিত। আর এখন শেষবারের মত হাততালি দিয়ে তাকে বিদায় জানানোর পালা।
টিমমেটদের সাথে মিড অফ অথবা মিড অনে শচিন তেন্ডুলকার ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানোর সময়টাতে পুরো ভারত তার ২৪ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং অর্জনকে সম্মান জানাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে। তার প্রতিটা নড়াচড়াকেই করতালিতে অভিনন্দিত করা হবে। এর মধ্য দিয়ে জৌলুস হারাতে বসা টেস্ট ক্রিকেটকে কিছুটা হলেও  সম্মান জানানো হবে।
বলা বাহুল্য যে, শচিন টেন্ডুলকারের জন্ম একবারই হয়েছে। অতীতে যেমন হয়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও আর হবেনা। এক জনমে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ক্রিকেটকেও কম দেননি। শেষ সিরিজে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে  অন্তত ভারতের মাঠে দর্শক টানার মধ্য দিয়ে ক্রিকেটকেই প্রকারান্তরে দিতে চলেছেন। নিঃসন্দেহে টেস্ট ক্রিকেটেকে জীবন্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন শচিন।
নতুনবার্তা/এসডি/এসএফ

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT