টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীর আলম……টেকনাফে মালয়েশিয়া আদম পাচারের নিয়মিত হিড়িক পড়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আদম পাচারে জড়িত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এতে করে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় আদম পাচার থেমে নেই। এমন কোন দিন নেই, কোন কোন ভাবে প্রশাসনের হাতে মালয়েশিয়ার যাত্রী ধরা পড়ছেনা। অল্প খরচে বিদেশ পাড়ি ও অধিক ইনকামের আশায় উঠতি বয়সী যুবক থেকে শুরু করে অধিকাংশই মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য উৎপেতে থাকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ-পাশ এলাকা লেদা, মোচনী, জাদীমুরা, দমদমিয়া, আলীখালী, রঙ্গিখালী ও বৃহত্তর হ্নীলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মালয়েশিয়ার নেওয়ার নামে আদম পাচারকারী সিন্ডিকেটটি প্রতিনিয়ত প্রতারাণা করে আসছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক উক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা দিন দিন আরো বেশী আদম পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্নীতিবাজ সদস্য, এক শ্রেনীর ভূইফোঁড় কপি-পেষ্ট তথাকথিত নামধারী সীমান্ত বিবেকের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তায় এ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। এমন কোন দিন নেই লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক এ সিন্ডিকেটের আদম মালয়েশিয়া যাচ্ছে না। সুত্র মতে, সেন্টমার্টিনের অদূরে বিশাল শীপ নোঙর করে বসে থাকে। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট নৌকায় সুযোগ বুঝে ইঞ্জিল চালিত বড় নৌকা দিয়ে ক্যাম্প ও বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত লোকদের বড় শীপে পৌছিয়ে দেয় পাচার চক্রের সদস্যরা। রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের সিন্ডিকেটটি এতই বিস্তৃত যে, সুদুর মায়ানমার- মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড পর্যন্ত কানেকশন রয়েছে। এলাকাবাসী বলে এরা পেটি দালাল নই, যেন তেন করে এদের আইনের আওতায় আনা যাবে। এরা এখানে বসে মালয়েশিয়া পর্যন্ত ইচ্ছামত করতে পারে। রিমোড কন্ট্রোলের মত ক্যাম্পে বসে থাইল্যান্ডের গহীন অরণ্যে স্বীকৃত বন্দিশালা থেকে সহজেই মানুষ ছাড়িয়ে নিতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে যাওয়া লোকদের থাইল্যান্ডের নির্যাতন শালা থেকে মুক্ত করতে ক্যাম্পে এসে দিন দুপুরে এদেও সাথে লেনদেন করে। সাগর দিয়ে কোন ভাবে থাইল্যান্ড পৌছলেই যথেষ্ট। এরপর বন্দিশালায় আটক করে নানা রকম নির্যাতনের মাধ্যমে বাবা-মা ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে ২লক্ষাধিক টাকা আদায় করে। থাইল্যান্ডের বন্দিশালায় উক্ত সিন্ডিকেটের লোক থানায় এ পাচারকারী সিন্ডিকেট কোন প্রকার জামানত ছাড়াই মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করে থাকে। দক্ষিণ আলীখালী এলাকার নামধারী মৌলভী গবী সোলতানের পুত্র মোহাম্মদ মিয়া ও টালের চেয়ারম্যানখ্যাত হাফেজ আইয়ুবের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের নুর মোহাম্মদ মাঝি, এ ব্লকের ডাঃ কবীর, বি ব্লকের জাহেদ, সি ব্লকের নাজির হোছন, ডি ব্লকের আব্দু করিম, ই ব্লকের মো: শফি মাঝি, ই ব্লকের নুরু, বি ব্লকের আবু ছিদ্দিক, সি ব্লকের বাইল্যা ও হামিদ হোছনের নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেটটি মাসের পর মাস মালয়েশিয়া আদম পাচার করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিজন আদমের পিছনে থানা পুলিশকে ৩ হাজার টাকা করে দিতে হয়। বর্ষার বৃষ্টি ও সাগর উত্তালে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝেও আদম পাচার করতে গিয়ে শত শত মানুষের সলীল সমাধি হয়েছে। অথচ এসব চিহ্নিত আদম বেপারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা কেন তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে? টেকনাফ থানার ওসি ফরহাদ মালয়েশিয়া আদম পাচারের কথা স্বীকার করে বলেন, ক্যাম্প কেন্দ্রীক দালালদের ব্যাপারে অভিযোগ শুনেছি। তবে এসব দালালদের ধরতে স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুলিশী অভিযান পরিচালনার কথা জানান।  এদিকে (চলবে)।    ##############

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT