টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

লুটপাটের মাধ্যমে মোটাতাজা আওয়ামী নেতারা পালাবার পথ পাবে না

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২
  • ৯২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে…বিচার ও শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকুন সরকারের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া# তথ্য-প্রমাণসহ বর্তমান সরকারের অন্যায়ের বিচার করা হবে# বিশ্ব চোর সরকারকে প্রতিহত করতে সকল ধর্মাবলম্বীরা ঐক্যবদ্ধ হউন#আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের দল# ধর্মনিরপেক্ষতা দাবি করা আওয়ামী লীগের মুখোশ#ওদের সঙ্গে থাকলে জামায়াত রাজাকার নয়
বিএনপি কোনো প্রতিহিংসা ও বদলার রাজনীতি করে না দাবি করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তথ্য-প্রমাণসহ বর্তমান সরকারের অন্যায়ের বিচার করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব চোর, দুর্নীতিবাজ বর্তমান সরকারকে প্রতিহত করতে ও দেশকে রক্ষ করতে সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। আওয়ামী লীগ দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে মিথ্যা মামলা দেব না। তথ্য-প্রমাণসহ মামলা দিয়ে প্রচলিত আইনে বিচার করব। এজন্য আপনারা প্রস্তুত থাকুন। তিনি আরও বলেন, বৌদ্ধ ধর্মালবম্বীদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় সরকারের লোকজনই জড়িত। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি সত্ত্বেও তারা তা করেনি। কারণ সুষ্ঠু তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে যাবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের রামু যাওয়ার পথে চকরিয়া বাসস্টেশনে এক পথ জনসভায় ও বিকালে রামুর খিজারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্প্রীতি সমাবেশের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।  চকরিয়ার পথসভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যুগ্মমহাসচিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন কুতুবি প্রমুখ। রামুর সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদুল হক চৌধুরী। রামুর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম মোর্দেশ খান, স্থানীয় এমপি লুৎফর রহমান কাজল, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া, অধ্যাপক সুদ্ধানন্দ মহাথেরো প্রমুখ। রামুর সম্প্রীতি সমাবেশে খালেদা জিয়াকে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে চিবর দান করা হয়।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে নিচ্ছেন। কিন্তু আপনি যে গান পাউডার দিয়ে, লগি-বৈঠার মাধ্যমে মানুষ হত্যার হুকুম দিয়েছেন-সেই রেকর্ড কিন্তু আছে। তা থেকে আপনি কীভাবে রেহাই পাবেন? তাই সাবধান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। এ জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দবিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তারা ক্ষমতার জোরে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভোট ঢুকিয়েছে। এদের অধীনে কখনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না।

সরকারের উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে নির্দলীয় সরকার বিল পাস করে নির্বাচন দিন। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। তখন সরকারের জন্য তা কঠিন সময় হবে। এসম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছিল। জ্বালাও-পোড়াও করেছিল। মানুষ হত্যা করেছিল। এমনকি সংসদের মেয়াদ শেষের এক বছর আগেই তারা সংসদ থেকে পদত্যাগও করেছিল। সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আমরা নির্বাচন করে সংক্ষিপ্ত সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়কের বিধান সংবিধানে যুক্ত করেছিলাম। সেই ব্যবস্থায় নির্বাচনে শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় এসেছিল। অথচ হঠাৎ করে তারা সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে এই ব্যবস্থা বাতিল করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সেই আশা জনগণ কোনোদিন পূরণ হতে দেবে না।

রামুর বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুব লীগকে দায়ী করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দিরে সন্তাসীরা হামলা চালায়। ঘটনার পর আমি উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত দল গঠন করি। তারা নিরপেক্ষতার মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে। এ নিয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে হামলার কারণও জানিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা সরকারের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও করেছিলাম। কিন্তু তারা তা করেনি। কারণ নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় কমিটির মাধ্যমে তদন্ত হলে তাদের লোকদের নামই উঠে আসবে। ঘটনার সঙ্গে তো তাদের লোকজনই জড়িত।

আওয়ামী লীগ নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে পরিচয় দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা দাবি করা তাদের মুখোশ। তাদের কর্মকান্ড সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী।

খালেদা জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ এই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এমনকি এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে তার অধীনে নির্বাচনও জামায়াতের সঙ্গে করেছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে আজ জামায়াতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে জামায়াত রাজাকার। ওই সময় জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার কোনোটাই ছিল না। এখন জামায়াতকে সঙ্গে নিতে না পেরে জামায়াতকে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী বলছে তারা।

যুদ্ধাপরাধের বিচার হোক এটা আমরাও চাই দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, তবে তা প্রশ্ন বিদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘণ করে নয়। তা হতে হবে প্রচলিত ও আর্ন্তজাতিক বিধি অনুযায়ী। তিনি দাবি করেন, জামায়াতকে সঙ্গে নেয়ার জন্যই আওয়ামী লীগ জামায়াত বিরোধীতা করছে। তলে তলে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কি না তা আমরা বলতে পারি না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির করে বর্তমান সরকার বিশ্বচোর পরিচিতি পেয়েছে। এই সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে একটি নয়, দুইটি পদ্মা সেতু করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে দেশে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চায় না। কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ-গ্যাস নেই। বিদ্যুতের মূল্য ছয় দফা বাড়ানো হয়েছে। হলমার্ক ও ডেসটিনির অর্থ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে সরকার বিদেশে অর্থপাচার করেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, এসব ঘটনায় কোনো বিচার হয়নি। কাউকে ধরা হয়নি। বরং জামাই আদরে রাখা হয়েছে। কারণ এসব ঘটনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও মন্ত্রীদের পরিবার জড়িত। চকরিয়া অঞ্চলে লবণচাষীদের দুরাবস্থায় সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে লবণচাষীরা তাদের পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে লবণ চাষীদের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করব। তিনি তার শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কেবল রাজধানী ও বড় বড় শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও উন্নয়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসের দল উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণের কোনো উন্নয়ন হয় না। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তনও হয় না। দেশে কোনো উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন হয় শুধু ওই দলটির নেতাদের। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের সম্পদ লুটপাট করে, দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। মোটাতাজা হয়েছেন। জনগণ রুখে দাড়ালে আপনারা যাবেন কোথায় ? এদিক দিয়ে পালাতে চাইলে টেকনাফের নাফ নদী পারি দিতে হবে। কিন্তু যাবেন কি করে। কারণ আপনাদের নৌকাতো ফুটো হয়ে গেছে। তাই সাবধান।

এর আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত কাটানোর পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজরের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। দুপুরের পর রামুর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার সীমা কেন্দ্রীয় বিহার পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে বেশ কিছু সময়  বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা ও সাধারণ ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। হামলা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। তাদের প্রতি তিনি সহমর্মিতা জানান।

চট্টগ্রাম থেকে চকোরিয়া পর্যন্ত পথে পটিয়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘ সময় পর এই অঞ্চলে খালেদা জিয়ার আগমনে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এসময় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার ফেস্টুন, পোস্টার নিয়ে আনন্দ উল্লাস করে নেতাকর্মীরা এ সময় এক উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত ব্যানারও এ সময় কারো কারো হাতে দেখা যায়। শনিবার কক্সবাজার সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে আজ সকালে উখিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার পরিদর্শন ও সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখার পর ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন খালেদা জিয়া।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT