হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদফিচার

লাভজনক হওয়ায় সমুদ্রপথে পাচার বেড়েছে

অ্যাডভোকেট সালমা আলী :::সমুদ্রপথে মানব পাচার লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এটি আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ এখন বিদেশে কাজ করার জন্য মধ্যপাচ্12_79123যে নয়, বরং থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ ওয়েস্টার্ন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে আগ্রহী। এজন্য তারা অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে এ দেশগুলোয় দলে দলে যাচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যবশত পাচারকারী সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ছে। পাচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী। গতকাল দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। পাচার নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে সালমা আলী বলেন, ‘সরকারের মধ্যে কিছু লোক আছেন যাদের কারণে মানব পাচারের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে যে দেশগুলোয় বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার হচ্ছে তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও আমাদের গ্রাম পর্যায়ে পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড সবাই মানব পাচার বিষয়ে অবগত আছে। কিন্তু যারা এ ঘটনা রোধ করবেন তারা যদি এ সম্পর্কে জানার পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পাচারকারীদের সাহায্য করেন তবে মানব পাচার রোধ করা যাবে না।’ এই আইনজীবীর মতে, মানব পাচার একটি ‘পরিকল্পিত অপরাধ’। আর এ অপরাধ রোধে দেশে শক্তিশালী আইনও আছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অনেক আলোচনাও করেন কিন্তু মানব পাচার রোধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা যদি সঠিকভাবে নিজেদের কাজ করতেন তাহলে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে পাচার সম্পর্কিত সব তথ্য থাকে। তারা চাইলেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। সালমা আলী বলেন, ‘পাচার সম্পর্কে সরকারের মনিটরিং গ্রুপ, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ দাতা সংস্থাগুলো সচেতন আছে। আমি মনে করি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও পাচার প্রতিরোধের ব্যাপারে সদিচ্ছা আছে। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি। এমনকি এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতাও আছে। কিন্তু স্থানীয় এমপি, পৌরসভার মেয়র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সবাই মিলে এ পরিকল্পিত অপরাধে জড়িত। কিন্তু তারা পাচার রোধে কাজ না করে লাভজনক এ ব্যবসায় জড়িত থেকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব।’ সালমা আলী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অবৈধ পাথে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশগুলোয় গিয়ে ভালোভাবে জীবিকা অর্জন করছেন। তারা অনিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমে সে দেশগুলোয় গিয়েছেন। কিন্তু সবাই যে এভাবে গিয়ে ভালোভাবে জীবিকা অর্জন করতে পারবেন এমনটি ভাবা ঠিক নয়। বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালকের মতে, মানব পাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট ও স্থানীয় অপরাধী চক্র জড়িত। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদেরও যোগসাজশ আছে। তারা বাংলাদেশ থেকে সস্তায় শ্রমিক নিয়ে তাদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করান। এমনকি নারীদের যৌন পেশায় বাধ্য করানো হয়। সরকারের উচিত যে দেশগুলোয় বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার করা হচ্ছে সে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সালমা আলী মনে করেন, অন্য দেশে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় সরকারের ভিতরের লোকেরা টাকা খেয়ে মানব পাচারের প্রসার ঘটাচ্ছেন। কিন্তু এটি না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যে দেশগুলোয় বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা আছে সে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে যদি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। বাংলাদেশি শ্রমিকদের আর দাসশোষণের শিকার হতে হতো না। একই সঙ্গে মানব পাচার বন্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে এ বিষয়ে সময়ে সময়ে দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং পাচারকৃত দেশগুলোয় পাচার নিয়ে কাজ করে যেসব এনজিও ও সংস্থা তাদের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের আলোচনায় বসা উচিত। সালমা আলী বলেন, পাচার বিষয়ে একই সঙ্গে গ্রামপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একজন অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে কাজ করে ভালোভাবে অর্থ উপার্জন করলে বাকিরাও যে সফল হবেন এমন ভুল ধারণা ভাঙতে হবে। বিশেষ করে সরকার ও গণমাধ্যমকে পাচারের শিকার মানুষদের ভয়াবহ ঘটনাগুলো সামনে তুলে নিয়ে এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। – See more at: http://www.bd-pratidin.com/special/2015/05/05/79123#sthash.lUPPdF0w.dpuf

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.