টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩
  • ২২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
                                                                         লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের  পৌর ময়দান  
.
.
.
সৌদি আরব প্রতিনিধি::::: বিশ্ব মুসলমানদের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ আজ। সোমবার ভোর থেকে প্রায় ২৬ লাখ হাজির পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। মুসলমান নারী-পুরুষ সাদা কাপড় পরে একই তালবিয়া ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ (হে আল্লাহ, তোমার দরবারে হাজির) উচ্চারণে আরাফার ময়দানে সমবেত হচ্ছেন।
আরাফার ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে আজ পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। হজের খুতবা থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হবে মুসলমানদের। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শনিবার। এদিন সন্ধ্যায় তারা মক্কা থেকে মিনায় চলে আসেন। লাখ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পবিত্র মিনা প্রান্তর।
সোমবার ভোর থেকে আরাফাহর ময়দানে উপস্থিত হচ্ছেন হাজিরা। এখানেই তারা হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের (জুহরাইন) নামাজ আদায় করবেন তারা। সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাহর ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারো এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
মঙ্গলবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানি করে পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করার মধ্য দিয়ে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতোই হজ পালনের মধ্যেও আল্লাহর আদেশ পালনের পাশাপাশি বান্দার জন্য ইহ ও পরকালীন প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। হজ শুধু ইবাদতই নয় বরং আত্মিক পরিশুদ্ধতার এক অনস্বীকার্য পদ্ধতি। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হজের বিনিময় নিশ্চিত জান্নাত। বাংলাদেশ থেকে এ বছর ৯০ হাজারের বেশি হাজি এই মুহূতে হজব্রত পালনের জন্য মিনা-আরাফায় অবস্থান করছেন।

লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত


পবিত্র হজ শুরু

মক্কা: হজ ইসলামের পাঁচটি ‍স্তম্ভের একটি। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন। এই দিনেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার গুনাহ সর্বোচ্চ পরিমাণে মাফ করে থাকেন। হাদীস অনুযায়ী হজের মাধ্যমে বান্দা যেন সদ্যজাত শিশুর ন্যায় বেগুনাহ মাসুম হয়ে যায়।
হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর সময় থেকে শুরু এই হজের মাধ্যমে বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত বর্ষিত হতে থাকবে যুগ যুগ ধরে, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত।
হজের মুল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসাবে হাজিরা ইতিমধ্যে মিনায় পৌঁছেছেন। মিনাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং রাত্রিযাপন শেষে সোমবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন হাজিরা। সেখানে এক আযানে যোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন তারা।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে আরাফায় অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক খুৎবা (বক্তব্য) পাঠ করবেন সৌদি গ্রান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল শেখ। খুৎবা চলবে ঘন্টা ব্যাপী।
হজের তিন ফরজের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হিজরী ১০ সালে অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হজ চলাকালীন সময়ে আরাফায় অবস্থিত জাবালে রহমত পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে হযরত মোহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ (সা.)এর জীবিতকালে এটা ছিলো শেষ ভাষণ। তাই সচরাচর এটিকেই বিদায় খুৎবা বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ অনুযায়ী মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে এই ভাষণেই চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেওয়া ছিলো।   সারাদিন আরাফায় অবস্থান শেষে সন্ধ্যায় হাজিরা মুজদাফিলার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়।
পরদিন সকালে অর্থাৎ মঙ্গলবার জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হবে। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। ইচ্ছে করলে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) রিয়াল(টাকা) জমা দিয়ে কোরবানি দিতে পারবেন। কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন।   এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।
সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে হাজিদের বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানও হাজিদের খাবার সহ নানা ধরনের উপহার দিচ্ছেন।     এদিকে মুসলমানদের সর্ববৃহত মিলনমেলা পবিত্র হজকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ২০ লক্ষাধিক মুসলমানের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র শহর মক্কা এবং এর আশপাশের ৩শ’ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী। মোতায়েন করা হয়েছে ৯৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী।
যথাযথা কাগজপত্র ছাড়াই প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বিপদজনক রাস্তা এবং পাহাড় বেয়ে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করে থাকেন। আর এই অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ঠেকাতে নিয়মিত ৩০টি চেক পোস্টের পাশাপাশি ৫০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী এবং দক্ষ বাহিনী সার্বক্ষনিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT