টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

লাইলাতুল ক্বদরঃ ফযীলত ও আমাদের করনীয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩
  • ২০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

mail“লাইল” শব্দটি আরবী, এর অর্থ রাত বা রজনী, আর ‘ক্বদর’ অর্থ- সম্মান ও মাহাতœ্য, যদিও ক্বদরের অর্থ- পরিমাপ নিরুপন, মহিমা ও ভাগ্য নিয়ন্ত্রনসহ আরো অনেক অর্থ রয়েছে। তাবে এখানে “লাইলাতুল ক্বদর” অর্থ সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত। আমাদের দেশে “লাইলাতুল ক্বদর” এর চেয়ে “শবে ক্বদর” বেশী পরিচিত।

লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও ফযীলতঃ

লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব অপরিসীম। সমগ্র জাহানের হিদায়াত ও কল্যাণের জন্য নাযিলকৃত মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এই রাতেই নাযিল হয়। কুরআন-হাদীসে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। কুরআনুল করীমে ‘আল-ক্বদ্র’ নামে পূর্ণঙ্গ একটি সূরাও নাযিল করা হয়েছে।

“আমি তা (আল-কুআরন) অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতৈ। তুমি কি জন মহিমান্বিত রজনী কি? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ; সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ [জিব্রাইল (আঃ)] অবতীর্ণ হন প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি- সে রজনীতে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।” (সূরা- আল-ক্বদ্র)

এই সুরার বর্ণনা অনুযায়ী লাইলাতুল ক্বদর এর তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ

১। এ রাতে কুরআন নাযিল করা হয।

২। এ রাতে হাজার মাস (৮৩ বছর ৪মাস) অপেক্ষা শ্রেয় এবং

৩। এ রাতে হযরত বিজ্রাঈল (আ) ফেরেশতা দলসহ শান্তির পয়গাম নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন।

কুরআনে কারীমের সূরা দুখানেও এ রাতের গুরুত্ব ও মাহাতœ্য বর্ণনা করা হয়েছে।

“শপথ সুস্পষ্ট কিতাব (আল-কুরআন)- এর। আমি তো তা অবতীর্ণ করেছি মুবারক রজনীতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়- আমার আদেশক্রমে” ( সূলা দুখানঃ ২-৫)

অধিকাংশ মুফাস্সির এ ব্যাপারে একমত যে, এখানে কুরআন নাযিলের রাতটি সেই সূরা ক্বদর এ বর্ণিত ক্বাদরেরই রাত। এ সূরার বর্ণনা অনুযায়ী লাইলাতুল ক্বদরের বৈশিষ্ট্য হলঃ

১। এর কুরআন নাযিল হয়;

২। এটি বরকতময় রজনী;

৩। এ রাতে সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তা’য়ালার ফায়সালা নির্ধারণ করা হয়। মুফাস্সিরিনগনের বর্ণনা অনুযায়ী এ রাতে আল্লাহ তা’য়ালা সাংবাৎসরিক ফায়সালার ফিরিস্তি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের নিকট অর্পণ করেন।

হাদীসেও এ রাতের বহু ফযীলত ও গুরুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূল (সা) বলেন,

“যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমান সহ সওয়াবের নিয়্যতে ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে তার পেছনের সকল গুনাহ (সগীরাহ) মাফ করে দেয়া হবে।” (বুখারী)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (স) বলেন,

“তোমাদের কাছে এ মাস (রমযান) এসেছে। এমাসের মধ্যে এমনএকটি রাত আছে, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যাক্তি এ রাত থেকে বঞ্চিত হবে সে সমগ্র কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হবে। এর কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগা লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয়না।” (ইব্নে মাজাহ্)

অন্য এক হাদীসে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে, “লাইলাতুল ক্বদরে হযরত জিব্রাঈল (আ) একদল ফেরেশতা নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন। তারা সে সব লোকের জন্য দু’আ করতে থাকে, যারা এ রাতে দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে।” (বায়হাকী, ইবনে কাছীর)

প্রকৃতপক্ষে লাইলাতুল ক্বদর উম্মতে মুহাম্মদী (সা) এর জন্যএকটি মহামূল্যবান নিয়ামত, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুগ্রহ। পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের উম্মতগণ দীর্ঘদিন আয়ু পাওয়ার কারণে স্বভাবতই আল্লাহর ইবাদত বেশি বেশি করতে পারতেন পক্ষান্তরে উম্মতে মুহাম্মদী (স) স্বল্প আয়ু পাওয়া সত্ত্বেও যাতে ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে তাঁদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে সেজন্য মাহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দয়াপরবশ হয়ে তাদের জন্য এহেন মহিমান্বিত রজনীর ব্যবস্থা করেছেন।

ক্বদরের রাত কোনটিঃ

ক্বদরের রাত কোনটি এ নিয়ে মতভেদ  সাহাবায়ে কিরামদের কাল থেকেই চলে আসছে। এ সম্পর্কে অনেকের অনেক মন্তব্য আছে, তা থেকে কয়েকটি উক্তি এখানে পেশ করছি।

া তোমরা রমযানের শেষ দশ দিনে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করো। (বোখারী)

া তোমরা রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোত (লাইলাতুল ক্বদর) তালাশ করো। (অর্থাৎ- রমযানের ২১,২৩,২৫,২৭ ও ২৯তম রজনীতে)।  (মুসলিম)

া মুসলিম শরীফে হযরত উবাই ইবনে ক্বাব বর্ণনা করেছেনঃ লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে রমযানের ২৭শে রাত।

া হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা), ইবনে উমর (রা), এবং হযরত মুআবিয়া (রা), প্রিয় নবী (স) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ  লাইলাতুল ক্বদর হচেছ ২ ৭শে রমযান।

আমাদের দেশে অধিকাংশ আলেমগণের মতে ২৭শে রমযান অর্থাৎ- ২৬শে রমযান দিবাগত রাতই হচ্ছে ক্দরের রাত। এ রাতই ক্বদর হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে আমাদের দেশে। তবে আসল ক্বদরের রাত কোনটি তা আল্লাহ তা’য়ালাই ভাল জানেন। তবে রমযানের শেষ দশ দিনে হওয়া সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস আছে বিধায় অনেক বুযুর্গ রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করেন, এ ধারাটি প্রশংসার দাবীদার। তাই যাদের সুযোগ আছে তাদের জন্যে রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করা অতীব বুদ্ধিমানের কাজ।

এ রাতে আমাদের করনীয়ঃ

হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, “আমি একদা রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যখন লাইলাতুল ক্বদর পাবো, তখন কি দু’আ করব? রাসুলুল্লাহ্ (স) ইরশাদ করলেন, “ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউবুন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু আন্নী।” অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি মহিয়ান, ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা তুমি বালবাসো। তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করো।

হাদীস শরীফে আছে, রাসূল (সা) লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে আখিরাতের মুক্তির আশায় ক্বদরের রাতটি ইবদতে কাটাবে, আল্লাহ তা’আলা তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ্ মাফ করে দেবেন।” তাই রাসূলুল্লাহ (স) এ রাতে তাঁর পরিবারের লোকজনকে জাগিয়ে তুলতেন। আর কবর যিয়ারত করতেন। সাহাবায়ে কিরাম তাঁর অনুসরণ করতেন। এ রাতেই যেহেতু কুরআন মজীদ নাযিল শুরু হয়েছে তাই তিলাওয়াতে কুরআনও বিশেষ সওয়াবের মাধ্যমে। নফল নামায, যিকির-আযকারের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করতে পারলে অশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। আল্লাহ তা’য়ালা চান বান্দা তার গুনাহর জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করুক, তিনি তা কবূল করবেন। তাই এই মহিমান্বিত রজনীর রহমত লাব করতে হলে প্রত্যেক মু’মিনকে খালেস নিয়্যতে তাওবা-ইস্তিগফার করে আল্লাহ রাব্বুল ইয্যতের দরবারে হাজিরা দেয়া উচিত। তাহলে এই মহান রাতের ফযীলত ও বরকত নসীব হবে, লাভ করতে পারবে মাগফিরত।

 

 

রহমত সালাম খতীব়় আলফি-লাম-মীম জামে মসজদি লাবণী বীচ়ককসবাজার। প্রভাষক়রাজাপালং ফাজলি ডগ্রিী মাদরাসা়উখয়িা। ৎধযসধঃথংধষধস@ুসধরষ.পড়স

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT