হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপর্যটন

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও লোকসানে নেই মোটেল প্রবাল

এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন: নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে চলছে পর্যটন মোটেল প্রবাল এর ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন কর্পোরেশনের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও লোকসানে নেই বলে দাবী করছেন মোটেল কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষ মনে করেন, আধুনিক মানসম্মত ভবন নির্মানের পাশাপাশি রুমভাড়া কমাতে পারলে প্রচুর পর্যটক আসবে, সেই সাথে বাড়বে পর্যটন কর্পোরেশনের আয়ও। তবে পর্যটকদের অভিযোগ ভিন্ন।তারা মনে করেন, সুন্দর পরিবেশ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই বাড়বে পর্যটক,বৃদ্বি পাবে পর্যটন কর্পোরেশনের আয়ও।পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যটন কর্পোরেশনের দেয়া লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারকে ভ্যাট দেয়া হয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার টাকা। অথচ ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় করেছিল ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। তারমধ্যে ভ্যাট দেয়া হয়েছিল ১০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
জানা যায়, ১৯৫২ সালে শহরের মোটেল রোডে মোটেল প্রবালের যাত্রা শুরু হলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি)’র উদ্দ্যেগে ও অর্থায়নে বড় পরিসরে ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে ৩ তলা বিশিষ্ট মোটেল উপলে ৩৮ টি রুম রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১ টি রেষ্টুরেন্ট ও ১টি ডরমেটরী। সেই সাথে মোটেল সংলগ্ন নয়নাভিরাম ১ টি বিশাল লেকও রয়েছে।
সূত্র জানায়, মোটেল প্রবাল ১৫ বছরের জন্য বিগত ২০০২ সালে সান এন্ড শেইড নামের চট্টগ্রামের একটি কোম্পানীকে লীজ দেয়া হয় পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। কিন্তু ওই কোম্পানী চুক্তিমত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ২০০৫ সালে পর্যটন কর্পোরেশন সান এন্ড শেইড এর সাথে চুক্তি বাতিল করে এবং মোটেলটি পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। একই সাথে ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পর্যটন কর্পোরেশন সান এন্ড শেইড এর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ওই মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মোটেল প্রবালের ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জল হোসেন জানান, নানা কারণে গত অর্থবছরে মোটেলে পর্যটক কম আসায় আয়ও কমে গেছে। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মোটেলটি কি ভাবে পর্যটকদের আরো বেশী আকর্ষণীয় করা যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটেল প্রবালের ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জল হোসেনের কঠোর নজরদারী থাকার পরও স্থানীয় ও নিজেদের সরকারদলীয় লোক পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এ মোটেল কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে একটি অপরাধী চক্র। এ চক্রের মধ্যে রয়েছে শহরের চিহ্নিত ডজন খানেক অপরাধী ও অন্তত দশ জনের অধিক নারী। সেখানে থাকা একমাত্র রেষ্টুরেন্টটি যৌনকর্মী ও অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। যার কারণে পর্যটকরা স্ব-পরিবারে রেষ্টরেন্টে বসতে অনেকটা অস্বস্থিবোধ করেন বলে পর্যটকদের অভিযোগ। তবে ভয়ে এসব অপরাধীদের নিষেধ করতে পারেনা বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোটেল প্রবালের এক কর্মকর্তা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, কলাতলির বাবুল, নুনিয়ারছড়ার জাহাঙ্গীর ও রামুর পাভেল নামের তিন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে মোটেল প্রবালে চলছে মাদক ও নারী ব্যবসা। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে তাদের সিন্ডিকেটের নারী সদস্যদের দিয়ে কৌশলে এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর প্রতিদিন এ অপরাধী সিন্ডিকেটের আড্ডা জমে মোটেল প্রবাল-এ।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোটেল প্রবালের ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জল হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের মার্চ-এ কক্সবাজারের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বর্তমান ঢাকা তেজগাঁও জোনের ডিসি মো: ইমাম হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশ মোটেল প্রবাল-এ অভিযান চালিয়ে প্রবালের অভ্যর্থনাকারী জলিল সহ ১২ জনকে অসামাজিক কার্যক্রম চলাকালীন অবস্থায় আটক করেছিল। ওই সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন ধরণের মাদক উদ্ধার করেছিল। অথচ পুলিশের হাতে আটক সেই জলিল এখনও মোটেল প্রবাল-এ কর্মরত রয়েছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.