টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রেশন বুক ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি .

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

kটেকনাফ  ….সরকার ও এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআরের যৌথ উদ্যোগে মায়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার, পোষাক ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদত্ত রেশন বুক অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে বিদেশে।
রেশন বুকে উল্লেখিত পরিচয় পরিবর্তন করে নিজের নাম বসিয়ে শরণার্থী দেখিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে অবস্থানসহ শরণার্থীদের সার্বিক সুবিধা ভোগের জন্য এই রেশন বুক বিদেশে প্রাচার করা হচ্ছে। মায়ানমারের রোহিঙ্গা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে যারা জাল ভিসা নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছে বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে তারা অবৈধভাবে এই রেশন বুক ক্রয় করছেন। যাতে অভিবাসনসহ একজন শরণার্থী হিসেবে সার্বিক সুবিধা ভোগ করতে। এতে পশ্চিমা বিশ্বে রোহিঙ্গারা স্থায়ী হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নষ্টসহ বিভিন্ন অপরাধকর্ম চালাচ্ছে। অন্যদিকে মায়ানমার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে রীতিমত মরিয়া হওয়ার পেছনে রেশন বুকও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই রেশন বুককে মাধ্যম করে রোহিঙ্গাসহ একটি বিশাল মাফিয়া সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আয় করছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প ও উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রামুর খুনিয়াপালং এলাকার আলি আহম্মদ ও রতœাপালংয়ের আব্দুল্লাহ সওদাগর সহযোগিতায় কাজ করছেন সিলেট জেলার সিন্ডিকেটের প্রধান বিশ্বনাথ থানার খানদিগাঁও এলাকার অলি আহম্মদ ও আব্দুর সালাম। আর তাদের সাথে লন্ডনে কাজ করছে আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি।
সিলেটে অবস্থানরত সিন্ডিকেটের সদস্য আব্দুর সালাম দীর্ঘদিন রামু খুনিয়াপালং এলাকায় এ অপকর্ম চালিয়েছিল। পরে স্থানীয় সিন্ডিকেট শক্তিশালী করে তিনি সিলেট চলে যান। যদিও তাকে মাঝে মধ্যে খুনিয়াপালং এলাকায় দেখা যায়।
এদিকে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সদস্য আবদুল্লাহ্ সওদাগর রেশন বুকগুলো বিভিন্ন রোহিঙ্গার কাছ থেকে ক্রয় করে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়। পরে সিলেটে অবস্থানরত অলি আহম্মদ ও আব্দুর সালামের কাছে বইগুলো বিক্রি করে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায়। আর ওই রেশন বুকগুলো বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে বিক্রি হয় লক্ষ লক্ষ টাকায়।
এই রেশন বুককে মাধ্যম করে মায়ানমার অনেক রোহিঙ্গা ফ্রান্স, হল্যান্ড, ইতালি, আমেরিকাসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া ও রামু উপজেলার অনেকে ওইভাবে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। তারা আরো জানান, চট্টগ্রামের একটি আবাসিক হোটেলকে এ অপকর্মের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কক্সবাজার জেলার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কেন্দ্রের সিনিয়র প্রত্যাবাসন সহকারী শাহ্ জাহান জানান, জেলায় ২টি রেজিস্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্প হল টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প ও উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প। এ দুই ক্যাম্পে বর্তমান শরণার্থী সংখ্যা ২৪ হাজার ৭শ জন। তন্মধ্যে নয়াপাড়া ক্যাম্পে ১৪ হাজার এবং কুতুপালং ক্যাম্পে ১০ হাজার ৭শ।
মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রেশন বুক প্রদান করা হয় ১৯৯২, ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে। এই রেশন বুকের মাধ্যমে ক্যাম্পে অবস্থানরত শরণার্থীরা মাসিক চাল, ডাল, তেল, চিনি, কাপড় ও মেডিকেল সহযোগিতা সহ বিভিন্ন নন ফুড ও ফুড আইটেম সাহায্য পায়। রেশন বুক সনাক্তের জন্য একটি নাম্বার (এমআরসি) রয়েছে এবং ওই নাম্বারের মাধ্যমে কার্ডের মালিক নির্ধারণ করা হয়। যদিও ওই কার্ডে কোন ছবি থাকে না।
রেশন বুক পাচারের বিষয়ে তিনি জানান, এই অপকর্ম দীর্ঘদিন চলে আসছে বলে শুনা যাচ্ছে শরণার্থী ক্যাম্পে। বিশেষ করে রেশন বইয়ে ব্যবহারকারীর ছবি না থাকা ও আইন প্রয়োগে কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এই অপকর্মের প্রবণতা বেড়েছে বলে তিনি ধারণা করেন। এছাড়া অনেক রোহিঙ্গা রেশন বুক জমা না দিয়ে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছে এবং পরে ওই রেশন বুক বিক্রি করে দিয়েছে পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে। এছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে কিছু রোহিঙ্গা রয়েছে যারা ইচ্ছে করেই রেশন বুক বিক্রি করে হারিয়ে গেছে বলে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিছুদিন বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে রেশন বইয়ের কাজ চালিয়ে পরে একটি নতুন রেশন বই নেয়।
এই অপকর্ম বন্ধের জন্য আগামী ১ অক্টোবর থেকে পুরনো সকল রেশন বুক পরিবর্তন করে নতুন রেশন বুক দেওয়া হবে। নতুন রেশন বুকটি একটি মাত্র কার্ডে করা হবে। ওই বুকে ব্যবহারকারীর ছবি ও ক্রমিক নাম্বার থাকবে। এছাড়া ওই বুকটি ব্যবহারের মাধ্যমে যতবার ক্যাম্প থেকে রেশন উঠাবে তত বার বুকটি ফুটো করে দেওয়া হবে। যেন বিদেশে পাচার হওয়ার কাজে ব্যবহার হতে সমস্যা হয়।
তিনি আরো জানান, পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশ থেকে লোকবল নেয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কোটা থাকে। অবৈধভাবে এই রেশন বুক পাচারের ফলে দেশের কোটা পূর্ণ হতে থাকায় বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক কর্মকর্তা জানান, রেশন বুককে মাধ্যম করে অপকর্মের বিষয়টি ইউএনএইচসিআরের দেখার বিষয় নয়। এটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে সরকার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT