হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদসাহিত্য

রোহিঙ্গা মুসলিম তুমি কার কে তোমার?

হারুনুর রশিদ আরজু

হারুনুর রশিদ আরজু:: জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। গত ২৪শে আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ চেকপোস্টে রোহিঙ্গাদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যায় বলে মিয়ানমার সরকার অভিযোগ আনে এবং ২৫শে আগস্ট রাজ্যে সেনা অভিযান চালায়। শুরু হয় মিয়ানমারের বর্তমান ‘রাখাইন রাজ্যে’ রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন। সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। সেইসাথে গুলি করে গলা কেটে জ্বালিয়ে ধর্ষণ করে গণহত্যা চালায়। যার ফলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ শিশু বৃদ্ধা। কেউ টানা ৭-১৪দিন পায়ে হেঁটে, কেউ নৌকায় চড়ে দালালকে টাকা দিয়ে এপারে বাংলাদেশে আসে। তাদের সেসব কষ্টের কথা বর্ণনা করা যায় না, এমনকি চোখেও দেখা যায় না। এ পর্যন্ত সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই নিয়ে গত ৪০ বছরে (১৯৭৮ সালে ১৯৯১-৯২ সালে ২০০৫ সালে ২০১২ সালে ২০১৬ সালে এবং ২০১৭সালেসহ) ধাপে ধাপে সব মিলিয়ে মোট ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে উখিয়া থানা পর্যন্ত এই অঞ্চল এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। প্রতিদিন আমরা দেখছি কিভাবে রোহিঙ্গারা খাদ্য এবং আশ্রয়ের জন্য লড়াই করছে। এক এক জন ৫দিন ৭দিন না খেয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন। কোলে শিশু সন্তানকে নিয়ে রোদে-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণের অপেক্ষা করছে। প্রায় প্রত্যেক নারীর কোলে শিশু সন্তান রয়েছে। এক এক জনের ৫ থেকে ১২জন সন্তান রয়েছে। শুধু তাই না যারা এসেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার নারী গর্ভবতী। অনেকে সমালোচনা করেন যে এদের এতো বাচ্ছা কেনো? আসলে মিয়ানমারের সেনাদের ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা একটার পর একটা বাচ্ছা গর্ভ ধারণ করে। নারীদের গর্ভবতী দেখলে সেনারা ধর্ষণে আগ্রহী হয় না। তাই বেশীর ভাগ মেয়েকে সেখানে ১০ কিংবা ১২ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এমন একটি ‘দেশ নামক দোযখ’ সম্পর্কে জানার কৌতুহল জাগে সবার মনে।
বর্তমান মিয়ানমার নামক দেশটির পূর্ব নাম ছিলো বার্মা। ফার্সি বারহামা থেকে এসেছে ইংরেজি বার্মা নামটি । বার্মা ছিলো ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ। বার্মার পূর্ব রাজধানীর নাম ছিলো রেঙ্গুন। রেঙ্গুন তথা বার্মা ১৯৪২-৪৫ পর্যন্ত সময়ে জাপানিদের দখলে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় জাপানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি। জাপানিদের তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল ‘বার্মা ইনডিপেনডেন্ট আর্মি’। তৎকালীন বার্মা থেকে ব্রিটিশ শাসনের উৎখাতের পরে জাপানিদেরও বিতাড়িত করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বার্মা স্বাধীনতা অর্জন করে। বার্মার স্বাধীনতার মহানায়ক হলেন অং সান যিনি সু চি’র পিতা। বার্মার স্বাধীনতা-চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ছয় মাস আগে ১৯৪৭ সালের ১৯শে জুলাই আততায়ীর গুলিতে অং সান মারা যান। মিয়ানমারের মোট আয়তন ৬,৭৬,৫৫২ বর্গকিলোমিটার। মিয়ানমার দেশটি মূল মিয়ানমার অঞ্চল এবং আরও সাতটি রাজ্য নিয়ে গঠিত। এগুলি হলো চিন, কাচিন, কারেন, মন, রাখাইন, এবং শান। মূল মিয়ানমার সাতটি বিভাগে বিভক্ত – ইরাবতী, মাগোয়ে, ম্যান্ডালে, পেগু, রেংগুন, সাগাইং এবং তেনাসসেরিম। মিয়ানমারের পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মিজোরাম, উত্তর-পশ্চিমে ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর অবস্থিত। মিয়ানমারের সীমানার উত্তর-পূর্বাংশের তিব্বত এবং চীনের ইউনান প্রদেশ। দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে লাওস ও থাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর। মিয়ানমার অর্থনৈতিকভাবে তেমন শক্তিশালী নয়৷ বর্মী ভাষা মিয়ানমারের সরকারী ভাষা। বর্মী ভাষাতে মিয়ানমারের প্রায় ৬০% লোক কথা বলেন। এছাড়াও মিয়ানমারে স্থানীয় আরও প্রায় ১০০টি ভাষা প্রচলিত। ১৯৬২ সালের ২রা মার্চ মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে। সামরিক জান্তার প্রধান ছিলেন নে উইন। রাজধানী ‘রেঙ্গুন’ নামটি ১৯৮৯ সালে সামরিক শাসকেরা পরিবর্তন করে রাখেন ‘ইয়াঙ্গুন’। ২০০৫ সালের ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অত্যন্ত পরিকল্পিত নতুন শহর ‘নাইপেডু’কে মিয়ানমারের রাজধানী করা হয়।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ‘আরাকান রাজ্য’ যার বর্তমান নাম ‘রাখাইন’। রাখাইন শব্দটি এসেছে পালী শব্দ রাক্ষাপুরা থেকে, যার সংস্কৃত প্রতিশব্দ হলো রাক্ষসপুরা। রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা হলো ২৫ লাখ। এদের ওপরই এখন চলছে বর্মী সেনাবাহিনী এবং রাখাইন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বীভৎস নিপীড়ন। রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তিনটি জেলা – মংডু, বুথিডং ও রাথেডং থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস ‘মগ’ ও ‘রোহিঙ্গা’। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে একটি প্রচলিত গল্প রয়েছে যে, সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমে বেঁচে গেছি। এই রহম থেকেই এসেছে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি। তবে, ওখানকার রাজসভার বাংলা সাহিত্যের লেখকরা ঐ রাজ্যকে রোসাং বা রোসাঙ্গ রাজ্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল বা ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য ছিল। ১৭৮৫ সালে বার্মিজরা আরাকান দখল করে। বর্মীরা রোহিঙ্গাদের ‘কালা’ নামে ডাকে। বাংলাদেশী বাঙালীদের এবং ভারতীয়দেরও তারা ‘কালা’ বলে ডাকে। এই ‘কালা’ শব্দটি সেখানে সীমাহীন ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিক জান্তা তাদের বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ। এমনকি শেষ পর্যন্ত ১৯৮২ সালে জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্বও বাতিল করে। নাগরিকত্ব বাতিল করে তারা ধারাবাহিকভাবে এই মর্মে মিথ্যাচার করতে থাকে যে- রোহিঙ্গারা বর্মী নয়, রাখাইন তথা মিয়ানমারে তারা বাংলাদেশী অনুপেবেশকারী। তাই এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে তারা হটিয়ে দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা সমগ্র বর্মী জনগোষ্ঠীর মাত্র ৪ শতাংশ। এই ৪ শতাংশের অস্তিত্বও তারা সহ্য করতে রাজি নয়।
রোহিঙ্গাদের আজকের এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী তথাকথিত শান্তিবাদী নেত্রী ‘অং সান সু চি’র সরকার। যিনি গণতন্ত্রের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই তার সম্পর্কে কিছু জানা এবং বলা দরকার। এই মহিয়সী (?) নারীর নাম ‘অং সান সু চি’। পারিবারিক নামের সংকলনের একটি নাম অং সান সু চি। অং তার পিতার নামের অংশ, সান তার পিতার নানীর নামের অংশ এবং চি তার মায়ের নামের অংশ। তার পিতা অং সান ছিলেন মিয়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও সমরনায়ক। ১৯৪৫ সালের ১৯শে জুন সু চি ইয়াঙ্গুনে জন্ম গ্রহণ করেন। সু চি ছিলেন তার বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান। সুু চি’র জন্মের মাত্র ২ বছর পর পিতা অং সান আততায়ীর গুলিতে মারা যান। সু চি’র মা খিন-চি তিন সন্তান সু চি ও তার দুই ভাই সান লিন ও সান উ-কে মানুষ করার দায়িত্ব নেন। ইতোমধ্যে তার এক ভাই সান লিন মাত্র আট বছর বয়সে পানিতে ডুবে মারা যান। সু চির মা ‘খিন-চি’ ষাটের দশকে ভারত ও নেপালে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন। তখন ভারতে পড়তে আসেন সু চি। তিনি প্রথমে দিলি¬র লেডি শ্রীরাম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৬৪ সালে সেন্ট হিউজ কলেজে রাজনীতি দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভের জন্য অক্সফোর্ড যান।
১৯৭১ সালে সু চি ব্রিটিশ নাগরিক মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন। সু চি প্রথম দিকে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না, একজন সাধারণ গৃহবধূ হিসেবেই জীবন শুরু করেছিলেন। বিয়ের এক বছর পরই প্রথম সন্তান আলেক্সান্ডারের জন্ম হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় সন্তান কিমের জন্ম হয়। ১৯৮৮ সালে সু চির মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাকে দেখতে তিনি নিজ দেশ মিয়ানমারে আসেন। দেশে এসেই তিনি আটকা পড়েন সামরিক সরকারের নজরে। তিনি জড়িয়ে পড়লেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। গঠন করেন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (এনএলডি)। যার ফলে সামরিক জান্তা সরকারের রোশানলে পড়েন সু চি। অবশেষে ১৯৮৯ সালে তাকে গৃহবন্দী করা হয়। এভাবে মিয়ানমারে আটকা পড়ে প্রায় দুই দশক গৃহবন্দী ও কারাগারে কাটান সু চী। গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজন তো দূরের কথা, দু-একজন গৃহপরিচারিকা ছাড়া স্বামী বা সন্তানের সঙ্গেও ঠিকমতো দেখা হয়নি তার। সু চি চাইলেই মুক্তি পেতে সামরিক জান্তা সু চিকে এই শর্ত দেয় যে, স্বামী-সন্তানকে দেখতে একবার দেশ ছাড়লে আর কখনোই দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাই দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে বন্দী জীবনকেই বেছে নিলেন। সামরিক সরকার ২৭ মে ১৯৯০ সালে প্রথম নির্বাচন দেয়। এ নির্বাচনে অং সান সু চি এর দল “ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি” ৮২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়া সু চির দলকে সামরিক জান্তা নির্বাচনী আইনের মাধ্যমে তা বাতিল করে। ১৯৯০ সালে সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল জয়লাভ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি সামরিক জান্তা। ফলে আপসহীন গণতন্ত্রকামী হিসেবে আন্দোলন চালিয়ে যান সু চি। তাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন সু চি। ১৯৯৫ সালে বড়দিনে স্বামীর সঙ্গে শেষ দেখা করতে দেয়া হয় কিন্তু ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। চার বছর পর ১৯৯৯ সালে তার স্বামী মারা যান। ২০১০ সালের ১৪ই নভেম্বর বিকাল ৫টার সময় গৃহবন্দিত্ব থেকে সু চি মুক্তি পান।
সুদীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতি ঘটিয়ে ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করার কারণে সু চির নির্বাচিত হলেও সু চি সরকার প্রধান হতে পারেননি। তবে তিনি সেই দেশের ‘স্ট্যাট কাউন্সিলর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ সু চির দলে সরকার প্রতিষ্ঠার পর রোহিঙ্গা মুসলিমরা শুধু নির্যাতিত হচ্ছেন না, একেবারে দেশছাড়া হচ্ছেন। অথচ নোবেল গ্রহণকলে সু চি ভাষণ দিয়েছিলেন এই বলে,“আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা, যা হবে বাস্তুচ্যুত, গৃহহীন ও আশাহত মানুষমুক্ত। একটি পৃথিবী যার প্রতিটি কোণ হবে সত্যিকারের অভয়াশ্রম। যেখানে বসবাসকারীদের থাকবে স্বাধীনতা এবং শান্তিতে বসবাস করবার সক্ষমতা।”
কিন্তু আজ সু চির সরকার রোহিঙ্গাদের বসতি থেকে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশে। এমনকি তারা বলছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমানেরর নাগরিক নয়। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা কথা। ১৯৪৮ সালে বার্মার স্বাধীনতার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ১৯৪৭ সালের নির্বাচনে এম এ গাফ্ফার এবং সুলতান আহমেদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে সাধারণ নির্বাচনে ৫জন রোহিঙ্গা তৎকালীন বার্মার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জুরা বেগম। তৎকালীন বার্মার নির্বাচিত প্রথম ২জন নারীর একজন হলেন এই জুরা বেগম। ১৯৫৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ৬জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিল, তাতে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বধীন ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর হিউম্যান রাইট’ ৪টি আসলে জয়ী হয়। ওই ৪জন এমপি হলেন- সামসুল আনোয়ারুল হক, ইব্রাহিম, ফজল আহমেদ ও নুর আহমেদ। সুলতান মাহমুদ নামে একজন রোহিঙ্গা রাজনীতিবিদ বার্মা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসকরা ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বার্মার মন্ত্রী এমপি সংসদীয় সচিব এবং বহু সরকারী উচ্চপদে আসীন ছিলেন। এমনকি ১৯৮২সাল পর্যন্তও তো রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক ছিলো। যদিও তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। এরপরও কি শুনতে হবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, তারা বাঙ্গালী? এখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে- রোহিঙ্গা মুসলিম তুমি কার কে তোমার, বল ভাই একবার শুনি?
তারিখ ঃ ২৬-০৯-২০১৭

 

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.