হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদবিচিত্র

রোহিঙ্গা কিশোরীর ‘কানছেঁদা’ অনুষ্টানে কোটি টাকার হাদিয়া !

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফের ঘটনাবহুল জনপদ জাদীমুরায় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামী কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের কিশোরী কন্যার জমকালো ‘কান ছেঁদা’ অনুষ্টানের চমকপ্রদ খবর পাওয়া গেছে। এতে পাওয়া গেছে এক কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ নানা উপহার।
ঘটনাবহুল সেই ২২ আগস্ট। ঘটনাবহুল জাদীমুরা। জাদীমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুট, আনসার কমান্ডার খুন, কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাতদের অভয়ারণ্য ছাড়াও ২২ আগস্ট বৃহষ্পতিবার ছিল দুনিয়া জুড়ে প্রচারিত বহুল প্রতিক্ষিত পূর্বনির্ধারিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। আর এই ২২ আগস্ট রাতে কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের নেতৃত্বে হামলায় নৃসংশভাবে খুন হয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক।
যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জাদীমুরাসহ পুরো এলাকা উত্তপ্ত হওয়ায় এতদিন ধামাচাপা ছিল কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের কিশোরী কন্যার জমকালো ‘কান ছেঁদা’ অনুষ্টানের চমকপ্রদ খবর। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২২ আগস্ট নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের কিশোরী কন্যার জমকালো ‘কান ছেঁদা’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ‘বস’কে খুশী করতে স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ টাকা, ছাগল, মুল্যবান সামগ্রী, পোষাক ইত্যাদি উপহার নিয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এক কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ নানা উপহার। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে মুখরোচক আলোচনা চলছে।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ অনেক মামলার রয়েছে এবং তিনি মোস্ট ওয়ানটেড আসামি। কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে এরকম উপহার সামগ্রী উঠার খবর আমাদের কাছে এসেছে। এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদকে ধরার জন্য কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি তার বিশাল অস্ত্রধারী ডাকাত বাহিনী নিয়ে টেকনাফের পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের বাংলাদেশে ৪টি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দু’তলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি। রোহিঙ্গারাই তাদের ‘বসের’ কন্যার কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে এক কেজির মত স্বর্ণালংকার এবং সেই সাথে নগদ টাকাসহ রীতিমত প্রতিযোগিতা করে উপহার সামগ্রী দিয়েছে। যে কারণেই এরকম অস্বাভাবিক পরিমাণে উপহার উঠেছে’।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান (এখনও শপথ হয়নি) রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনই রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ তার কন্যার কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এতে গরু-ছাগল জবাই করে আয়োজন করা হয় বড় ধরণের ভোজ অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা ডাকাত, সন্ত্রাসী ও রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারির দল। ১৯৯২সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় এসে প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে ছিলেন। ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন’।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী চট্রগ্রামের ঠিকানায় বাংলাদেশী স্মার্টকার্ড তৈরী করে ফেলেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। পিতার নাম কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম, জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৩ ইংরেজী, এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্রগ্রাম।
অপরদিকে শনিবার ৩১ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী পাহাড়ী এলাকা থেকে কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদকে আমান উল্লাহ নামে অপর একজন সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেলেও এবিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.