হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদরোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করা ৪৭টি এনজিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানামাত্রিক কাজ করে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রায় ২৫০টি এনজিও। এগুলোর মধ্যে একটি অংশ এনজিও ব্যুরোর অনুমতি সাপেক্ষে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এলেও বেশ কিছু এনজিও কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উসকানি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করা ৪৭টি এনজিওকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এখনো বেশ কয়েকটি চিহ্নিত এনজিও তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি স্বনামখ্যাত এনজিও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে কক্সবাজার এলাকায় এখন বাহারি কর্মসূচি নিয়ে তৎপর রয়েছে ভুঁইফোড় কিছু এনজিও। আর এসব এনজিওর পেছনে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন শত শত সাংবাদিক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা, যাদের অধিকাংশেরই সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আর এভাবেই চলছে কোটি কোটি ডলারের এনজিও বাণিজ্য।
এদিকে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার লেদা, মুছনী, বাহারছড়া, কুতুপালং ও বালুখালী এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী ‘ব্যবসায়িক ফায়দা’ লুটছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। আর সে জন্য কারণে-অকারণে গেল বছর ধরেই অব্যাহত রয়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা। রোহিঙ্গাদের সেবার নামে সীমান্ত এলাকায় আসে নিষিদ্ধ-ঘোষিত এনজিও ইসলামী আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা (আইআইআরও), ইসলামী রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড (আইআরডব্লিউ), আল হারামাইন, ইত্তেহাদুল মুসলিমিন, ওয়ামি, মুসলিম এইডসহ আরও অনেক এনজিও। কিছুদিন পর এসব এনজিওর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ থাকায় রোহিঙ্গা শিবিরে তাদের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করে দেয়। এর পরও ‘রোহিঙ্গা সেবকদের’ তৎপরতা থেমে নেই। পাকিস্তান, সুদান, সৌদি আরব, চীন, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও মালয়েশিয়া থেকে নানা এনজিওর নামে প্রতিনিধিদল সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে আসে। প্রতিনিধিদের অনেকেই ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে এনজিও কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। ইতিপূর্বে এ ধরনের অনেককে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। ৪ জুলাই টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকা বিতরণকালে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ সাতজনকে আটক করেছিলেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসেট। চীনা নাগরিক ছাড়া আটক দুই বাংলাদেশি হলেন টেকনাফ গোদারবিল আনাস বিন মালিক মাদ্রাসার পরিচালক মৌলভি মো. শফিউল্লাহ ও চট্টগ্রামের বেসরকারি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জামিল তাহের। গেল বছর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মওলানা আজিজ উদ্দিনকে ৯৯টি গরুসহ টেকনাফ থানা পুলিশ আটক করেছিল। তুরস্কের এনজিওর টাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি এসব গরু কিনেছিলেন।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.