টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের হুমকি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Rohinga Camp

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জন্য প্রকট আকার ধারণ করেছে রোহিঙ্গা সমস্যা। দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, খাদ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় উস্কানি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গারা। পুরো দেশের জন্য রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট এসব নানাবিদ সমস্যার প্রধান শিকার কক্সবাজারবাসী। কাগজে-কলমে কক্সবাজারে প্রায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা থাকার কথা বলা হলেও জেলায় রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এতো বিপুল সংখ্যক বিদেশী নাগরিকের ভারে ন্যুজ কক্সবাজার তথা পুরো দেশ। এসব রোহিঙ্গারা স্থানীয় শ্রমবাজার, খাদ্য ও  সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় উস্কানি, রাজনৈতিক এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছে কক্সবাজারের প্রশাসন ও কক্সবাজারবাসী। কিন্তু এর পরও কিছুতেই থামছেনা মিয়ানমারের নাগরিকদের অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ। প্রতিদিনই সীমান্ত প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শত শত মিয়ানমার নাগরিক কৌশলে ঢুকে পড়ছে দেশে। আর সীমান্ত রক্ষীদের হাতে প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকজন করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছে। একদিকে মিয়ানমারের নাগরিকরা প্রতিদিন অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে না মিয়ানমার। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে আছে। এর মধ্যে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদেরও স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে একাধিকবার দু’দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এটিও অদৃশ্য কারণে গতি পাচ্ছে না। অভিযোগ আছে, মিয়ানমার তাদের দেশে বিভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কৌশলে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে ইন্ধন দিচ্ছে। এছাড়া বিদেশী কিছু সংস্থা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যাটি জিইয়ে থাকার পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি’র রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। কক্সবাজারের প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যু কক্সবাজারের জন্য প্রধান সমস্যা। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বাড়তি বোঝা। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শ্রমবাজার দখল করে স্থানীয়দের দূর্ভোগে ফেলেছেন। কক্সবাজারের স্থানীয়দের চাহিদামতো খাদ্য কক্সবাজার থেকে উৎপাদিত হলেও সেখানে ভাগ বসাচ্ছে রোহিঙ্গা। যার কারণে খাদ্য ঘাটতিও তৈরী হয়েছে। এরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করছে সামাজিক সম্প্রীতিতেও। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে তারা এদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রেও এরা বড় ধরণের ভ’মিকা রাখছে। দেশের কতিপয় অসাধু রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে এসব রোহিঙ্গাদের। যার কারণে এদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রেই রোহিঙ্গারা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে রোহিঙ্গাদের সক্রিয় ও পরিকল্পিত অংশগ্রহণ এদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পনা ও অংশগ্রহনে ইতোমধ্যেই কক্সবাজার, রামু ও উখিয়ায় শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতিও নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে লজ্জায় ফেলার পেছনে এই রোহিঙ্গাদের হাত রয়েছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনী প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির পেছনে সিংহ ভাগই দায়ী রোহিঙ্গারা। প্রায় প্রতিদিন জেলায় ঘটে যাওয়া চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, হামলা, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গাদের নাম। কক্সবাজারকে রোহিঙ্গা মুক্ত করা গেলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পুরো দেশের মধ্যে কক্সবাজারেই সবচেয়ে ভালো থাকবে বলে মনে করেন স্বয়ং আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় সচেতন লোকজন। এছাড়া খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাড়বে এই পর্যটন শহরের।

– See more at: http://dainandincox.com/archives/29479#sthash.3sHU39Ue.dpuf

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT