টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোহিঙ্গাদের জন্মশাসনের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিডিনিউজ:huvhhihl রেশন সুবিধার জন্য পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় একটি কমিটি। কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে থাকা মিয়ানমারের এ্ই নাগরিকদের কোনো সন্তান জন্ম নেয়ার পর থেকে পূর্ণ রেশন সুবিধা পায়। এক্ষেত্রে দুই সন্তানের বেশি হলে রেশন না দেয়ার প্রস্তাব করে নিয়ম সংশোধনেরও সুপারিশও করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত ১৭ ও ১৮ অগাস্ট কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবির ঘুরে আসার অভিজ্ঞতায় কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, স্থানীয় জনসংখ্যার চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা ‘ঘনীভূত’ হচ্ছে। মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই দশক আগে সে দেশের মুসলিম নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢোকা শুরু হয়। বর্তমানে কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। তবে বাইরে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ বলে ধারণা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। তিাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার বাস্তব দিক খতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিলুফার জাফর উল্লাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও কমিটির সদস্য নাজমা আকতার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এর একটি অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনসংখ্যার তুলনায় বেশি বাড়ছে বলে সমস্যা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। শরণার্থী শিবিরে নিবন্ধিতরা প্রতিমাসে জনপ্রতি ১২ কেজি চাল রেশন পায়। সন্তান জন্মের দিন থেকে পূর্ণ রেশন পাওয়ায় জন্মনিয়ন্ত্রণে তাদের অনীহা রয়েছে। শরণার্থী শিবিরে একটি পরিবারে সর্বোচ্চ ১৮ জন সদস্যও পেয়েছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিলুফার জাফর উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রেশন পায় বলেই তাদের জনসংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়দের চেয়ে তাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া একটা সমস্যা। এজন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছে।” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকনাফের নোয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার ৫৭ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এদের মধ্যে ৫৮ শতাংশের জন্ম বাংলাদেশে। শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ২৩টি স্কুল রয়েছে। কমিটি বলছে, তারা বাংলাদেশিদের চেয়ে ‘বেশি’ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের ওপর জোর দিয়ে নিলুফার জাফর উল্লাহ বলেন, শরণার্থীরা দেশে ফিরে যেতে চায়। তাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আলোচনা করার জন্য বলা হয়েছে। গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের সুপারিশঃ  মিয়ানমারের মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের বাঙালি নারীদের বিয়ে করে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতাও ধরা পড়েছে সংসদীয় কমিটির কাছে। এজন্য সীমান্তের চার কিলোমিটারের বেশি তাদের ঢুকতে না দেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। নিলুফার জাফর উল্লাহ বলেন, “আমাদের সর্তক থাকা দরকার। তারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্যই এ সুপারিশ করা হয়েছে।” শরণার্থী শিবিরের পাশাপাশি টেকনাফ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকারী কমিটির সদস্যরা ‘অনুপ্রবেশ’ করা মিয়ানমানের নাগরিকদের নির্দিষ্ট এলাকায় ‘আবদ্ধ’ রাখার সুপারিশও করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে টহলের সুবিধার জন্য ৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করেছে সংসদীয় কমিটি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT