টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে জমি দখল, বাণিজ্য

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ১০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক []

মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় বাণিজ্য শুরু করেছে একটি চক্র। চক্রটি বন বিভাগ ও সরকারি খাসজমি দখল করে ঘর তুলে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। ঘরপ্রতি অগ্রিম নেওয়া হয়েছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। মাসে ভাড়া ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা।
উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদায় রোহিঙ্গাদের অনিবন্ধিত শিবিরের পাশে চলছে এই দখল ও ঘর তুলে বাণিজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় ৩৯ জন ব্যক্তি এসব ঘর তুলছেন।
উখিয়ার কুতুপালং পাহাড়ের জায়গা দখল করে শতাধিক ঝুপড়িঘর (বাঁশ, কাঠ, মাটি ও পলিথিন দিয়ে তৈরি) নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আহমদ। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ঘরপ্রতি অগ্রিম নেওয়া হয়েছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ভাড়া ৩০০ টাকা।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বস্তি ঘুরে দেখা গেছে, ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গা নারী ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঝুপড়িঘরগুলোতে বাস করছেন। এর একটি ঘর ভাড়া নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ছেনুয়ারা বেগম (৪৫) বলেন, পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকার কোনো জায়গা না থাকায় ওই ঘরে উঠতে হয়েছে। কানের একটি সোনার দুল বিক্রি করে অগ্রিম হিসেবে ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন সৈয়দ আহমদের স্ত্রীর হাতে।
জানতে চাইলে সৈয়দ আহমদ বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতেই তিনি সরকারি বনভূমিতে শেডঘর তৈরি করেছেন। ঘর ভাড়ার জামানত না নিলে রোহিঙ্গারা অন্যত্র পালিয়ে যাবে, ছড়িয়ে পড়বে।
এলাকা ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুতুপালংয়ে সরকারি ও বন বিভাগের জমি দখল করে এমন বেশ কয়েকটি বস্তি তৈরি করেছেন স্থানীয় ফরিদ আলম, আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল কবির, জাগির হোসেন, শাহাবুদ্দিন, ওমর আলীসহ অন্তত ২৫ জন। এসব ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছে নতুন আসা প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা যত বাড়ছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘর।
রাখাইন রাজ্যের কাউয়ারবিল গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন ও তাঁর ভাই সৈয়দ হোসেন কুতুপালং এসেছেন কয়েক দিন আগে। তাঁরা ৩ হাজার ২০০ টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছেন। মাসে ভাড়া ৮০০ টাকা। কুতুপালং গ্রামের ফরিদ আলম এই বস্তি ভাড়া দিয়েছেন। ওই বস্তিতে তাঁর ৩৮টি শেড আছে। প্রতি শেডে ২০ থেকে ৩০টি ঘর।
বড় আকারের একটি শেডে ৩১টি ঘর নির্মাণ করে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গারা যাতে সুন্দরভাবে থাকতে পারে, সে জন্য বস্তি নির্মাণ করেছি। ঘর তৈরি করার খরচ তো রোহিঙ্গাদের দিতে হবে।’
বন বিভাগের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে ফরিদ আলম, আলী হোসেন, নুরুল কবির বলেন, রোহিঙ্গারা এমনিতেই পাহাড়-জঙ্গল দখল করছে। তাঁরা করলে সমস্যা কোথায়? রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার সময় তো জমি নিয়ে যাবে না।
টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত শিবিরের পাশে আবুল কাশেম বন বিভাগের জমিতে বেশ কয়েকটি কক্ষের লম্বা টিনশেড করেছেন। এর একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আছেন জোবেদা খাতুন। সঙ্গে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সপ্তাহ খানেক আগে তিনি রাখাইনের গজরবিল থেকে এসেছেন। বললেন, তাঁর স্বামী রশিদ আহমদকে গজরবিলে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের অগ্রিম হিসেবে ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন। মাসে ভাড়া ৫০০ টাকা। ভাড়ার এই টাকা কোথায় পাবেন জানেন না।
আবুল কাশেমের শেডের পাশে সরকারি জমিতে ঘর তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছেন স্থানীয় কামাল, জামাল, রুহুল আমিনসহ অন্তত ১৪ জন।
আবুল কাশেম বলেন, ঘর তৈরি না করলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা যাবে কোথায়?
জানতে চাইলে কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আলী কবির বলেন, রোহিঙ্গারা যেসব পাহাড় দখল করে বস্তি স্থাপন করেছে, সেখানে সহজে বনকর্মীরা যেতে পারছেন না। অনেক সময় বনকর্মীরা ধাওয়ার মুখে পড়েন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসূত্র থাকে। তিনি বলেন, সম্প্রতি টেকনাফ ও উখিয়ার কয়েকটি এলাকা থেকে বনকর্মীরা শতাধিক ঘর উচ্ছেদ করেছেন। কিন্তু বনকর্মীরা চলে আসার পর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মিলে সেখানে আবার ঘর বানাচ্ছেন। এসব ঘর উচ্ছেদ করা বন বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, এমনিতেই ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আছে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে। তার ওপর নতুন করে আসা আরও ৪০ হাজার রোহিঙ্গা নিয়ে কিছু লোকের রমরমা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তাঁরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী বলেন, জায়গা দখল করে ঘর বানিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দেওয়া এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT