টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রামুর বৌদ্ধপল্লিতে ঘটনার চার্জশিট চুড়ান্ত, ঈদের পরেই প্রকাশ: ১বছরে ও উত্তম বড়য়া খোঁজ নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৩
  • ৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক রামু,::::::Ramu picফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমামনার ছবি কেন্দ্র করে ২৯ শে সেপ্টেম্বর রামুর সে কালো রাত শুধু দেশে নয় বিশ্বের কাছে শরণীয় হয়ে থাকবে। জানা যায়, রামুর সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামুতে মামলা হয়েছে ৮টি, আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাতসহ হাজার হাজার জনসাধারণ, প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও অনেকে জামিনীমুক্ত হয়েছে।
রামু বৌদ্ধপল্লিতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টের ২০৫ জন এর তালিকা প্রেরণ করে রামু থানায়। সে রিপোর্টকে অভিযোগ করে চট্টগ্রাম দায়রা জজ এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে ২৯৮ জনের নাম অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঐ তালিকাটি কোর্টে হস্তান্তর করলে অনেকে তালিকাটি সংগ্রহ করে বিভিন্ন মানুষের হাতে চলে গেলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ২৯৮ জনের তালিকাটি পত্র পত্রিকাসহ ছাপানো হলে হামলাকারীরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে বলে মনে করেন বড়–য়া সম্প্রদায়ীরা। আবার অনেকে মনে করেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনটি মানুষের হাতে আসলে নামগুলো দেখে আলোচনার মধ্যে উঠে আসে প্রকৃত দোষীদের বাদ দিয়ে শক্রুতামূলক নাম দিয়েছে। যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে একজনের সাথে আলোপ কালে বলেন, ভাই আমাদের নাম গুলি শক্রুতা মূলক দিয়েছেন। আমিওতো আর একজনের নাম বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কাছে নাম বলতে পারতাম? যদি আমরা বৌদ্ধপল্লিতে হামলা না করেও আমাদেরকে আসামী করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের যদি কিছু হয় তাহলে তাঁদের আমরা ছাড় দেব না। রামু থানার অফিসার ইনর্চাস অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর মন্দির, ঘর, বাড়িতে হামলার বিষয়ে যে মামলা গুলো হয়েছে তদন্ত রির্পোট প্রায় শেষের দিকে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এস.পি) মোঃ আজাদ মিয়া জানান, রামু, উখিয়াসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর মন্দির, ঘর, বাড়িতে হামলার বিষয়ে ১৯ টি মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান ১৯টি মামলার মধ্যে ১৫ টি মামলার (চার্টশিট) সম্পন্ন হয়েছে, বাকী মামলা ৪টি শেষের দিকে চলছে।
ঈদের পরে রামু, উখিয়াসহ সহিংস ঘটনার হামলাকারীদের যে মামলা গুলো হয়েছে ঐ মামলার (চার্টশিট) দেওয়া হবে। ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমামনার ছবি কেন্দ্র করে ২৯ শে সেপ্টেম্বর সহিংস ঘটনায় যাদের বাড়ী হামলা করা হয়েছে, বিজিবি কর্তৃক নিমিত্ত তালিকায় রয়েছে, নতুন বাড়ী নির্মাণ ১০টি, বাড়ী মেরামত ৮টি, বাড়ী বাউন্ডারী মেরামত ১৫টি, দোকান মেরামত ৪টি, মন্দিরের সহযোগিতা ২টি, রন্ধন সামগ্রী বিতরণ ১৭ পরিবার, রেশন সামগ্রী বিতরণ ৫৭ পরিবার, বস্ত্র সামগ্রী বিতরণ ৪২ পরিবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
রামুর ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির গুলো হচ্ছে- সীমা বিহার- মেরংলোয়া, উমংরি বৌদ্ধ বিহার (লাল চিং), মৈত্রী বিহার- চেরেংগাটা, অজান্তা বৌদ্ধ বিহার- চাকমারকুল, আর্যবংশ বৌদ্ধ বিহার- উখিয়ারঘোনা, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র- উত্তর মিঠাছড়ি, প্রজ্ঞা মিত্র বন বিহার- উত্তর মিঠাছড়ি, উখিয়ারঘোনা জেতবন বৌদ্ধ বিহার- উখিয়ারঘোনা, উ চেন চি রাখাইন বড় বৌদ্ধ বিহার- চেরেংগাটা, উ ক্যজরী রাখাইন বৌদ্ধ বিহার (সাদা চিং)- চেরেংগাটা, অর্পনাচরণ বৌদ্ধ বিহার- চেরেংগাটা, বিবেকারাম বৌদ্ধ বিহার- ফাঁড়িকুল।
উখিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির গুলো হচ্ছে- দীপংক বৌদ্ধ বিহার- পশ্চিম মরিচ্য, খয়রাতিপাড়া বৌদ্ধ বিহার- খয়রাতিপাড়া, পশ্চিম রতœা শাসনতীর্থ সুদর্শন বিহার- রতœাপালং, রাজাপালং জাদি বৌদ্ধ বিহার- রাজাপালং, রেজুরকুল সদ্ধর্ম বিকাশ বৌদ্ধ বিহার- রেজুরকুল, উত্তর বড়বিল সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার- উত্তর বড়বিল।
ছবির ক্যাপশন- রামুর ২৯ সেপ্টেম্বর সহিংস ঘটনার আলোচিত উত্তম বড়–য়ার স্ত্রী ও তাঁর ছেলে।
১১ মাস ধরে উত্তম বড়–য়ার খোঁজ নেই পরিবার বিফাঁকে
মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক রামু, (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১১ মাস ধরে উত্তম বড়–য়ার খোঁজ নেই পরিবার বিফাঁকে। রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার পর থেকে পালাতক উত্তম কুমার বড়–য়া। এগার মাসেও প্রশাসন খুঁজে পায়নি উত্তমকে। সচেতন মহল মনে করেন, উত্তম বড়–য়া বাংলাদেশে নেই। আবার অনেকে মনে করেন, পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেছেন। সে আলোচিত উত্তম বড়–য়াকে পেলে রামুর ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমামনার ছবি কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসত।
পুলিশ জানান, বৌদ্ধপল্লিতে হামলার পরে উত্তম বড়–য়া এখনও খোঁজ মিলেনি উত্তমকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি। পুলিশ আরো জানান, উত্তমকে পাওয়া জন্য অনেকে অনেক তথ্য দিলেও সেখানে গিয়ে আমরা উত্তমকে পাইনি। উত্তমকে পেলে রামুর সহিংস ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসত।
উত্তম বড়–য়া স্ত্রী রিতা বড়–য়া জানান, রামু ফতেখাঁরকুল এর চেরাংঘাটা গ্রামের সুদত্ত বড়–য়ার ছেলে, তিনি রামু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। তিনি আরও জানান, আমার  ১ ছেলে আদিত্য    বড়–য়া (পাঁচ বছর) কে তিনি উপজেলার পার্শ্ববর্তী মেরংলোয়া গ্রামের বড়–য়া পাড়ার হৃদয় রঞ্জন দাশের ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আলোচিত উত্তম এর খবর জানতে চাইলে রিতা জানান, ‘সে সহিংস ঘটনার দিন (গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উত্তম পালিয়ে গেল, এখনও খোঁজ খবর নেই। কেউ বলছেন, থাইল্যান্ড গেছে, কেউ বলেন মিয়ানমার। কিন্তু সে বেঁচে আছে কি না, তা-ও জানতে পারছি না। তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। ছেলেটা বাবার জন্য প্রায় সময় কান্নাকাটি করে।’
রিতা বড়–য়া কান্না বিজরিত কন্ঠে আরও জানান, ‘ঘটনার দিন রাতে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে উত্তম বড়–য়ার ফাঁসি চেয়ে বিােভ মিছিল করছিল। তখন ছেলেটাকে নিয়ে কোন রকম বাবার বাড়িতে     (বড়–য়া পাড়ায়) আশ্রয় নেই। রাত নয়টার দিকে লোকজন উত্তমের খোঁজে সেখানে হইচই শুরু করে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিপে ও ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আশপাশের আরও ১০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই হয়। অবস্থা খারাপ দেখে কোলের শিশু নিয়ে পালাতে থাকি। সারা রাত ছেলেকে নিয়ে বাইপাস সড়কের আমতলি নামক স্থানে ধানেেত লুকিয়ে থাকি। পরদিন ভোরে সেখান থেকে বাসে চরে যাই চকরিয়া। সেখান থেকে বাসে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় এলাকায়। এক ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে আশ্রয় নেই। পরিচয় গোপন করে ওই ঘরে দেড় মাস রান্নাবান্নার কাজ করেছিলাম।’
অসহায় রিতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, রামুর সহিংস ঘটনার পরে সরকারী, বেসরকারী, দেশ, বিদেশ, এনজিও সংস্থা সহ বড়–য়া সস্প্রদায়কে টাকা, পঁয়সা, ঘর, বাড়ী, আসবাপত্রসহ সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছে, কিন্তু আমি এত কষ্ট পাওয়ার পরেও আমাকে কোন ধরনের সহযোগিতা করে নাই? এখন আমাদের থাকার মত কোন ঘর বাড়ি নেই এবং খাবার মত কোন টাকা পঁয়সা নেই। এতদিন ধরে উত্তমের কোন খবর পাচ্ছিনা বলে আমার ছোট্ট ছেলেটাকে আমি অনাথ আশ্রমে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমার ছেলেটাকে খাবার দিতে পাচ্ছিনা, কাপড় চোপড় দিতে পাচ্ছিনা। কিভাবে আমরা জীবন যাপন করছি, কেউ কোন দিন খোঁজ খবর নেয় নাই। আমাদের কেউ কোন দিন কোন ধরনের সহযোগিতা করে নাই। আমার ছোট্ট বাচ্চাটাকে আমি অনেক কষ্ঠ করে রাখতে হচ্ছে কারণ ওর বাবা নাই সে এখন খুব অসহায় জীবন যাবন করছে। এই হতভাগা অসহায় রিতা ও তার ছেলে পাশে দাড়াঁনোর কেউ নেই?

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT