টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রামুতে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা পরিকল্পিত.. বৌদ্ধ বসতি আক্রান্ত: বাড়ি-মন্দিরে আগুন, লুট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে, ৩০.০৯.১২
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে দলবেধে বৌদ্ধবসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত তিনটার মধ্যে কমপক্ষে ৬টি বৌদ্ধ মন্দিরসহ ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে শতাধিক বাড়ি।
পুলিশ সুপার (এসপি) সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছেন। রাত তিনটা দিকে তিনি জানান, রামু উপজেলা সদরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আশপাশে তখনও উত্তেজনা ছিল। তিনি বলেন, “বৌদ্ধ এলাকাগুলোয় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি নেমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক সুরেশ বড়–য়া। রাত সাড়ে তিনটার দিকে রামু সদর উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রামু মিঠাছড়ির বনবিহারে ও কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক নিতিশ বড়–য়া। ওই এলাকায় বিমুক্তি বিদর্শন বাবনা কেন্দ্রে নির্মাণাধীন শতফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মুর্তি ভাংচুর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলে কক্সবাজার জেলা কমিটির দপ্তর স¤পাদক গিয়াস উদ্দিন জিকু জানিয়েছেন, ঝিলংজার বিভিন্ন সংখ্যালঘু পল্লীকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা জড়ো হলে তিনি গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। তিনি পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে দাবি করেছেন। “জামায়াতের লোকজন হামলার জন্য আবার জড়ো হওয়া চেষ্টা করছে।” রামুর স্থানীয় লোকজন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কোরআন শরিফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করার অভিযোগ এনে শনিবার রাত ১০টায় একটি ইসলামি দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, রামু উপজেলার বৌদ্ধ পাড়ার উত্তম বড়–য়া নামের এক যুবকের ফেইসবুক একাউন্টে কোরআন অবমাননাকর ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। বক্তারা ওই যুবককে আটকের দাবি জানান। সমাবেশ শেষ হওয়ার কিছু পর ফের আবারো একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামু বড়–য়া পাড়ার দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলটি ওই পাড়ায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের কয়েকজন যুবক বড়–য়াদের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর কমপক্ষে ১৫টি বসত বাড়ি,সাদা চিং ও লাল চিং নামের দুইটিসহ তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর হয় শতাধিক বাড়ি বলে জানান তারা। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত দেড়টাতেও অগ্নিকাণ্ড অব্যাহত ছিল। পুলিশ সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় দীপক বড়–য়া জানান, ৩টা মন্দির, বাড়ি ১৫টি স¤পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা। স্থানীয় এক সাংবাদিক আক্রান্ত এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় জানান, তার বাড়ির পাশের চেরাংঘাটা বড়ক্যাং মন্দিরটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাত পৌনে তিনটায় তিনি বলেন, ওই মন্দিরে আগুন নিভে গেছে। এছাড়া, রামু মৈত্রী বিহার,রামু সীনা বিহার ও জাদীপাড়া বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সবকটি মন্দিরে ভাংচুর ও লুটতরাজ করা হয়েছে। কমপক্ষে ১০টি বৌদ্ধ গ্রামে হামলা চালানো হয়েছে। পূর্ব মেরোংলোয়া পাড়াটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১০/২০টি ঘর ছিল বলে জানান তিনি। রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল জানান, উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, কয়েকজন ফেইসবুক ইউজার জানিয়েছেন, উত্তম বড়–য়া নামের রামুর যুবকের ফেইসবুকে কোরআন অবমাননাকর ছবিটি তার পোস্ট করা নয়। এরজন্য উত্তম কোনোভাবে দায়ী নয়। ‘ইনসাল্ট আল্লাহ’ নামের এক ফেইসবুক আইডি থেকেই ছবিটি শেয়ার/ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। সাম্প্রতিককালে সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পর তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকালে দেশের নাগরিক সমাজের একটি অংশ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। সরকার এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িক শক্তির ইন্ধন ছিল বলে মনে করছে।

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে, ৩০.০৯.১২
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বৌদ্ধবসতিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ হামলায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। রোববার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, “সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। পেট্রোল, গান পাউডার দিয়ে ঘর-বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলা পূর্বপরিকল্পিত না হলে এটা সম্ভব হতো না।” হামলায় জড়িতদের সনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার সব প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।” এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘর-বাড়ি পুনর্নিমাণে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলেও জানান মহীউদ্দিন খান আলমগীর। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর গাফিলতিতে এভাবে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় কারো গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রামের একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে শনিবার রাতে রামুতে বৌদ্ধবসতিতে হামলা চালিয়ে রাতভর তা-ব চালায় র্ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা এই হামলায় রামু উপজেলার সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, প্রায় ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে রামুর মেরং লোয়া বড়–য়া পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত রামু সীমা বিহার পরিদর্শন করেন তারা। ৩০০ বছরের পুরনো এ বৌদ্ধ মন্দিরেও ব্যাপক তা-ব চালানো হয়। স্বরাষ্ট্র ও শিল্পমন্ত্রী বৌদ্ধ বিহার ও আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা মন্দিরের ভিক্ষু ও মন্দির পরিচালনা পরিষদের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। হামলায় ঘর-বাড়ি হারানোদেরও কথা শোনেন তারা। এরপর রামু বাজারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কথা বলেন দুই মন্ত্রী। এ সময় শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়–য়া বলেন, “একটি কুচক্রী মহল এ হামলা চালিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা যতোই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিচার হবে।” ওই এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সোপান গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর এ হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ‘সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকা- সরকার বরদাশত করবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন’ বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন। এ হামলার নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পাহাড়িদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “রামুতে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা পরিকল্পিত.. বৌদ্ধ বসতি আক্রান্ত: বাড়ি-মন্দিরে আগুন, লুট”

  1. alammahmud says:

    Mr. Home Minister, don’t blame to other. Investigate the issue then comment. Reality is difference from your statement. maximum protectors were Awami leage workers and Leaders. Among them Mr. Nurul Islam Badal. But you have blamed the Fundamentalists.which very much unexpected. On the other hand Mr. Farid (jurnalist) has mixed the report with Truth and False. As a reprter this is marking his reporting questionable. Uttam Barua is liable for that incident, because he shared the Photos with other his friend intentionally. It’s should be investgated why he did such mis deeds. It is heared from the citizens of Ramu that, Mr. Uttam is Awami Jobu Leage Leader/Worker. Mr. Home Minister has any answer at your end about this? How ever, we condemn this Barbarism and expect Govt.should take necessary steps agaisnt those miscreants who are liable by proper investigation.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT