রাত পেরোলেই ঈদ

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ৮:২৭ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: রাত পেরোলেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু কেনা সম্পন্ন, রাজধানী ঢাকা বা দেশের অন্য এলাকায় যাঁরা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে থাকেন, তাঁরাও বরাবরের মতোই গ্রামের বাড়ি গেছেন, যাচ্ছেন। কাল শনিবার ১০ জিলহজ। এখন অপেক্ষা শুধু রাত পেরোনোর। তারপরই ঈদের আনন্দ।

রাজধানী থেকে দেশের প্রান্তবর্তী জেলাগুলোর অধিকাংশ সড়কই এখন ভাঙাচোরা। ট্রেন-লঞ্চেও প্রচুর ভিড়। তা সত্ত্বেও ঈদের আগের সেই চিরচেনা দৃশ্য। বাক্সপেটরা নিয়ে হাজার হাজার মানুষ সপরিবার গ্রামে যাচ্ছেন। সড়কপথের যাত্রীদেরই দুর্ভোগ বেশি। দূরপাল্লার গাড়ির সময়সূচি ঠিক নেই। যানজটে পথেই আটকে থাকতে হচ্ছে লম্বা সময়। প্রতিবছরই ঈদের যাত্রীদের এই দুর্ভোগে পড়তে হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার নেই। সেই দুর্ভোগ মেনেই এবারও ঈদের যাত্রীরা ঢাকা ছেড়েছেন আনন্দের দিনে প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের জন্য।

ঈদুল আজহা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। কিন্তু আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় পশু কোরবানি করে থাকেন। পশু কোরবানির কারণে এই ঈদ সাধারণ মানুষের কাছে কোরবানির ঈদ বলেই পরিচিত।

ঈদুল আজহায় মুসল্লিদের প্রধান কর্তব্য দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায় করে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। ঈদের জামাতের খুতবায় খতিব ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরবেন। নামাজ আদায়ের পর শুরু হবে কোরবানি। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা হলেও, ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে।

দেশে এবার একটু ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঈদ উদ্‌যাপিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে প্রবল বন্যা হয়েছে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলহানি হয়েছে।

অনেক এলাকার ঈদগাহও ডুবে গেছে। পানি নামতে শুরু করলেও অনেক ঈদগাহে এখনো ঈদের জামাত আদায় করার মতো পরিবেশ নেই। সেই সব জায়গায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহার জামাত।

বন্যাকবলিত শস্যসম্পদ হারানো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁধ, সড়ক বা উঁচু স্থানে অস্থায়ী ঝুপড়িঘর করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতির বাস্তবতায় এসব দুর্গত মানুষের পক্ষে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। তবে সমাজের বিত্তবান, সামর্থ্যবান, যাঁরা কোরবানি করবেন তাঁদের কোরবানিতে হক রয়েছে দুস্থ অসহায় মানুষের। এটি ধর্মেরও বিধান। কাজেই আনন্দের দিনে আর্ত-অসহায় মানুষের কথা ভুলে থাকলে চলবে না। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই আনন্দের দিনে ওই অসহায় নিঃস্ব মুখগুলোতে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারলেই সার্থক হবে ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন।

 

বাণী

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ, জাতিসহ গোটা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন।


সর্বশেষ সংবাদ