টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রাজধানীর ৫০ পয়েন্টে সিসিটিভি!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১২
  • ১৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নাশকতারোধে রাজধানীর অন্তত অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘিরে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশিন (সিসিটিভি) ক্যামেরা বসিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব পয়েন্টে শুক্রবার দিনভর দু’শতাধিক ক্যামেরা স্থাপন করেছে ডিএমপির ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) বিভাগ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে গোটা রাজধানীকেই সিসিটিভির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব ক্যামেরা পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের অতর্কিত হামলাসহ সব ধরনের নাশকতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ডিএমপি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নগরীর যানজট ব্যবস্থাপনাতেও এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা পুরো রাজধানীকেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করছি। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।”

ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীসহ সারাদেশে শিবির ক্যাডাররা ঝটিকা মিছিল বের করে পুলিশের উপর অতর্কিতে হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় হলে রাজধানীতে পুলিশের উপর শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ডিএমপিতে ‌উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে শিবির মিছিল বের করতে পারে এমন অর্ধশতাধিক স্থান চিহ্নিত করে সেগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। এসব ক্যামেরা নাশকতার আগাম তথ্য পেতে ও হামলা হলে অপরাধী শনাক্ত করতে দারুণ কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় ওই বৈঠকে। ওই বৈঠকের পর শুক্রবার সকাল থেকেই চিহ্নিত স্থানগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

যেসব পয়েন্টে সিসিটিভি

সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো পয়েন্টগুলো হলো- কাকরাইল মোড়, নয়াপল্টন, শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা মোড়, পান্থপথ, ফার্মগেট, মিরপুর ১০ গোলচত্বর, ধানমন্ডি ২৭, সায়েন্স ল্যাব, মগবাজার মোড়, হাইকোর্ট টার্নিং মোড়, প্রেসক্লাব, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, খিলগাঁও, শনির আখড়া, মহাখালী ইত্যাদি। এসব পয়েন্টের চারিদিকে এমনভাবে ক্যামেরা বসানো হয়েছে যাতে পুরো চত্বরকে মনিটর করা সম্ভব হয়।

ডিএমপি সূত্র বলছে, অনেক সময় সব স্থানে সার্বক্ষণিক পুলিশ রাখা সম্ভব হয় না। যে কারণে মিছিল বের হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ পাঠানোও সম্ভব হয় না। এ কারণে মিছিলকারীরা অতর্কিতে গাড়ি ভাঙচুরসহ নাশকতা চালিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর ফলে এসব স্থান ও তার আশেপাশে কি হচ্ছে সব কিছুই পুলিশের নজরদারির মধ্যে থাকছে। কেউ ঝটিকা মিছিলের জন্য জমায়েত হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তথ্য পেয়ে যাবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও ওই সব স্থানে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আসামি শনাক্ত করা সহজ হবে।

সূত্র আরো বলছে, সংঘর্ষের সময় পুলিশের অজান্তেই অনেক সময় নিরীহ মানুষ গ্রেফতার হয়ে যায়। কিন্তু এসব ক্যামেরা লাগানোর ফলে মানুষ এই হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।

পুলিশের বক্তব্য
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা পুরো রাজধানীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে যাচ্ছি। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কিছু স্থানে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীকেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ আমরা কন্ট্রোল রুমে বসেই যেন পুরো রাজধানীর চিত্র দেখতে পাই এবং সে অনুযায়ী নির্দেশনা দিতে পারি, তার জন্য এই চেষ্টা।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শুধু যে নাশকতা ঠেকানোই উদ্দেশ্য তা নয়, রাজধানীর নিত্য সমস্যা যানজট। যানজট সামলাতেও এসব ক্যামেরা অনেক কাজে দেবে।”

সৈয়দ আনোয়ার আরো বলেন, “এছাড়া কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা ঘটার আগেও আমরা তা জানতে পারবো। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। তাই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ডিএমপিকে আরো আধুনিক করা হচ্ছে। ”

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT