হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

আর্ন্তজাতিকপ্রচ্ছদ

রাখাইন পরিদর্শনে সু চির পরামর্শক প্যানেল

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক []

বিদেশ ডেস্কসাবেক মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসনের পদত্যাগের পর নড়েচড়ে বসেছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির রাখাইন পরামর্শক প্যানেল। চলমান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের খবর নিতে শুক্রবার সকালে রাখাইন সফরে যান তারা। দিনশেষে তারা দাবি করেন, এখনও অনেক কাজ বাকী, তবে পরিস্থিতি উত্তোরণের সদিচ্ছা রয়েছে সরকারের।

২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছিল বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব। গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সমঝোতায় পৌঁছান। ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৬ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্তে অস্থায়ী ক্যাম্পে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মঙ্গলবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা যায়নি। তাই প্রত্যাবাসন পিছিয়ে গেছে।

ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, রিচার্ডসন ছাড়াই অ্যাডভাইজরি কমিটি রাখাইনে উত্তরাঞ্চলে যান। বুধবার সকাল থেকেই তারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। রাজধানী সিতেতে মধ্যাহ্ণভোজ সেরে তারা রাখাইনের অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো দেখতে থাকেন। সরকারের আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমেই রাখাইন আগের চেহারা ফিরে পাবে। প্রস্তাবিত ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলও’ ঘুরে দেখেন তারা।

এরপর বিকালে কিয়াকফিউয়ে চীনের অর্থায়নের নির্মিতব্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করে সু চির কমিটি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটির কাজ ফলাওভাবে বলতে থাকেন সদস্য রোয়েলফ মেয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকান এই রাজনীতিবিদ নিজ দেশের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, সেটা থেকে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনতে সৎ চেষ্টা করছে সরকার।’

এখনও অনেক কাজ বাকি স্বীকার করে মেয়ার বলেন, ‘আমরা মনে করি সবাইকে ফিরে আসতে উৎসাহিত করা উচিত।’

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.