টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রক্ত পিপাষু সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১২
  • ১১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে…বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামীলীগকে বিশ্ব চোরের দল আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই বিশ্ব চোরদের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর একটাই পথ, আর সেটি হচ্ছে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমাদের দেশে নির্বাচন হবে, তবে তা আওয়ামী লীগের অধীনে নয়, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাল্লাহ। এই সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুধু জনগণের রক্ত, আর রক্ত পিপাষু সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকারও নেই। যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশের জনগণের রক্ত তাকে দিয়ে দেশের কোনো কল্যাণ হতে পারে না। এদের ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। এই সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে। সংসদ বহাল রেখে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এটা অবৈধ। এখন আমরা যদি বলি বর্তমান সরকারই অবৈধ। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি নিয়ে অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে তাদের অধীনেই শপথ নিয়েছে। তাই এসরকারকে বলতে চাই, অবৈধতার ধোঁয়া তুলে জনগণের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনর্বহাল করুন। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

পদ্মাসেতু, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই দুর্নীতিবাজ চোরদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সফর করে বেড়াচ্ছেন।

দেশের আজকে এমন অবস্থা কোনো ধর্মের মানুষই বর্তমান সরকারের অধীনে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারছে না। সরকারের অত্যাচার নির্যাতনে মানুষ আজ নিস্পেষিত। কোনো ধর্মের মানুষই এই সরকারের শাসনামলে নিরাপদ নয়। বৌদ্ধরা অত্যন্ত নিরীহ। অথচ আজকে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আজকে এই সরকার অযোগ্য ও নির্যাতনের সরকার। কাজেই অযোগ্য ও নির্যাতনের সরকারের কোনোভাবেই ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। এই সরকারের লোকেরা হিন্দুদের উপরও হামলা চালায়। তাদের মন্দির দখল করেছে। তাদের মন্দির থেকে দামি দামি স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে। হিন্দু মেয়েদের  ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। তাদের উপর হামলা চালায়। তাদের সম্পত্তিও দখল করে নিয়ে যায়। এরা মুসলমানদের উপরও হামলা করে। এরা কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে, মুখে দাড়ি দিয়ে মুসলমানদের অপমান করেছে। নিজেদের এরা অসাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার করে। এসব হচ্ছে তাদের মুখোশ। এদের অধীনে কোনো ধর্মের লোকেরাই নিরাপদ নয়। এরা নিজেরা হামলা করে। আর অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়। তাই আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। বিএনপি ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলি না। আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বলি। ধর্মীয় মূল্যবোধ হচ্ছে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, মুসলমান সবাই মিলে দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির উচ্চ আসনে নিয়ে যাব।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে শুধু মানুষ নয়, দেশও নিরাপদ নয় উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার একমাসের মধ্যে বিডিআর ধ্বংস করেছে। বিডিআর ও সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। সেসময় সেনাবাহিনীকে তাদের উদ্ধারে অনুমতি দেয়নি। কি ভয়ংকর কথা। অনুরূপভাবে বৌদ্ধদের উপর হামলার সময়ও সরকার পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেনি। প্রশাসনিকভাবে এ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের বিদায় করতে হবে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য বিএনপির কেনো বিকল্প নেই। তাই আগামি  নির্বাচনে সকলে মিলে বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

আওয়ামী লীগেরই শাসনামলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না দাবি করে খালেদা জিয়া আরো বলেন, সরকারের চার বছরের শাসনামলে উখিয়াতে কোনো উন্নয়ন হয় নাই। আমাদের শাসনামলে এখানে টেলিভিশন রিলে স্টেশন হয়েছে। সাব মেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন, টেকনাফ বন্দর, মেরিন ড্রাইভসহ সকল উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী সংসদ সদস্য থাকাকালে এসব উন্নয়ন হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান মন্ত্রী ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে প্রমাণ করেছেন, তার সরকারই এই নাশকতা পৃষ্ঠপোষক। আসুন আমরা সবাই আওয়ামী লীগকে এক ঘরে করে ঐক্যবব্দ হয়ে দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসি।

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের তরুণ-যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যদিয়ে চলছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম বিপর্যস্থ। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখিন। তোমরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম বা দেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারনি। তাই এবার সুযোগ এসেছে দেশ এবং দেশের মানুষকে বাঁচানোর সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন: এর আগে খালেদা জিয়া উখিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ দীপংকর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান। তারা গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের হামলার বিবরণ ও ক্ষতিগ্রস্থ বুদ্ধমূর্তি, পুড়ে যাওয়া বিহার, প্রাচীন ধর্মলিপি ও স্থাপনা ঘুরে দেখান। হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার তাদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনেন এবং ক্ষমতায় গেলে দোষীদের বিচার করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মীলম্বীদের স্বান্তনা দিয়ে বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে দেশে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলার ঘটনার ঘটেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচার করা হবে বলে তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বস্ত করেন।

এর আগে খালেদা জিয়া উখিয়ায় সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে দুপুর সাড়ে ১১ টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজ থেকে তার গাড়ীবহর নিয়ে রওয়ানা দেন। তিনি উখিয়াতে পৌছেন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। সেখানে পৌছে তিনি দীপংকর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করে উখিয়া হাই স্কুল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহম্মেদ, বরকতউল্লাহ বুলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর নেতা এম শামসুল ইসলাম এমপি, জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও উখিয়ার উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এস.এম শাহ আলম। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম. মোক্তার আহমদ ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার চৌধুরী।

কক্সবাজার থেকে উখিয়া পর্যন্ত যাওয়ার পথে পথে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রচুর সংখ্যক নারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। রাস্তায় অর্ধশতাধিক রং বেরঙের তোরণ ও পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। খালেদা জিয়াকে দেখার পরই উল্লাসিত জনতা ব্যাপক শ্লোগান ও করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন হাত নেড়ে প্রতি উত্তর দেন। খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য সমাবেশ স্থল উখিয়া হাই স্কুল মাঠের আশপাশ ও এর চারপাশের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বড় বড় গাছেও কর্মীরা অবস্থান নেয়। খালেদা জিয়ার আগমনকে ঘিরে পুরো উখিয়া অঞ্চলে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।

উখিয়া সমাবেশের পর বিরোধী দলীয় নেতা সরাসরি চট্টগ্রাম ফিরেন। জানা গেছে, তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পটিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি আক্রান্ত বৌদ্ধদের সান্তনা জানান। পরে তিনি তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে ফেনী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT