যৌথ অভিযান শীর্ষ ১৭ ইয়াবা কারবারির আলিশান বাড়িতে

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৯ : অপরাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ কক্সবাজার []

শীর্ষ মাদক কারবারিদের আলিশান ঘরে অভিযান চালিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্স। অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রির নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। গত দু’দিন কক্সবাজার ও টেকনাফে ইয়াবা পাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে গঠিত টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান চলে। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক বিক্রির ২৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫৭ টাকা জব্দ করা হয়। এ অভিযানের নেতৃত্বে দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস ও গোয়েন্দা) ও টাস্কফোর্সের সভাপতি ড. এএফএম মাসুম রব্বানী। তাঁর নেতৃত্বে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার, রামু ও টেকনাফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরমধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ব্যাটালিয়ন আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে তালিকাভুক্ত মাদকব্যবসায়ী টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়ার এনামুল হক মেম্বার, দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার রেজাউল করিম রেজা, মৃত আব্দুল গাফফারের ছেলে মোহাম্মদ মোজাম্মেল, সাবরাং এর শামসুল আলম মার্কিন, হ্নীলার ইউপি সদস্য মো. নুরুল হুদা, জামাল হোসেন ও হাসান আবদুল্লাহর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই দিনে কক্সবাজার সদরের লারপাড়ার লাল মোহাম্মদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে দেশী ১৬টি অস্ত্রসহ নগদ ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৭ টাকা জব্দ করা হয়। অভিযানকালে ইয়াবা পাওয়া যাওয়ায় লাল মোহাম্মদের স্ত্রী সায়েরা খাতুনকে ছয় মাসের কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এরপরের দিন ১০ সেপ্টেম্বর তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার হাজী সাইফুল করিম, পুরান পল্লান পাড়ার শাহ আলম, নাজিরপাড়ার জিয়াউর রহমান, শাহ পরীর দ্বীপের আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া ও রেজাউল করিম রেজু মেম্বারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রেজু মেম্বারের বাড়ি হতে মাদক বিক্রির ২৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এঘটনায় রেজু মেম্বারের ভাই ফরিদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ

অধিদপ্তর টেকনাফ সার্কেল পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) উক্ত ঘটনায় বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,১৯৯০ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক আটক ফরিদ আহমেদকে মূল আসামি এবং রেজু মেম্বার ও তার অপর ভাই আব্দুল মাজেদকে পলাতক দেখিয়ে টেকনাফ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া একই দিনে কক্সবাজার সদর উপজেলার লারপাড়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মো. শাহজান আনসারী ও তার দুই ভাই রশিদ আনসারী ও আবু সুফিয়ান আনসারীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া রামুর জোয়ারিয়ানালার চেয়ারম্যান এম এম নুরুচ ছাফার বাড়িতেও অভিযান চালায় টাস্কফোর্সের সদস্যরা। দুই দিনের টাস্কফোর্সের অভিযানে মোট ৭ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা হয় মাদক বিক্রয়ের ২৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫৭ টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে ১০০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, চারটি রামদা, দু’টি কিরিচ, দশটি ছোরা ও দু’টি ধামা।
অভিযানে অংশগ্রহণ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী, বিভাগীয় গোয়ান্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম শওকত হোসেন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল, কক্সবাজার পুলিশের সিনিয়র এএসপি সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ থানার ওসি রণজিত বড়–য়াসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল পূর্বকোণকে বলেন- যাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে তারা সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি। অনেক বাড়ি থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে।
তিনি বলেন- শীর্ষ মাদক কারবারিরা সব সময় বাড়িতে থাকে না। আর বাড়িতে মাদকও মজুদ রাখে না। কিন্তু তাদের আলিশান বাড়ির অবস্থাই বলে দেয় এসবের উৎস কী। কিভাবে এতো সম্পদের মালিক হল। যেসব বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে সবগুলো শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আলিশান বাড়ি। দ্রুত সময়ে তাদের হিসেব ও সম্পদের বিবরণ চাওয়া হবে। আর এতো সম্পদের বিষয়ও খোঁজ নেওয়া হবে। সঠিক হিসেবে দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হবে। এই অভিযান আরো অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।


সর্বশেষ সংবাদ