টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

যে কোন মুহুর্তেই বিচ্ছিন্ন হতে পারে ঈদগাঁও-জালালাবাদ-পোকখালী সড়ক যোগাযোগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঈদগাঁওতে জামায়াত শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও। কেন্দ্র ঘোষিত রোববারের দেশ ব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঈদগাঁওতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির। রবিবার বিকাল ৫ টায় ঈদগাঁও বাসষ্টেশন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক সহ বিভিন্ন অলিগলি প্রদক্ষিণ শেষে মাতব্বর মার্কেট চত্তরে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা শিবির সেক্রেটারী লুৎফুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জামায়াত নেতা মাও. ছলিম উল্লাহ ও ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা শিবিরের সদ্য কারা মুক্ত সভাপতি লায়েক ইবনে ফাজেল। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মো. ইউছুপ, শিবির নেতা দেলোয়ার হোসেন, জয়নাল আবেদীন,রাশেদুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, আপনাম চৌধুরী, মফিজ উদ্দিন, বেলাল উদ্দিন, আনিছ উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Image-Eidgah-A (2)আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও। কক্সবাজার জেলাসদর ও ঈদগাঁও বাজারের সাথে যে কোন মুহুর্তেই বিচ্ছ্ন্নি হয়ে যেতে পারে জালালাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ। সে সাথে  ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে দু’তিন গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ী, মসজিদ, মক্তব, স্কুল-মাদ্রাসা ও কক্সবাজার সদরের শষ্যভান্ডার খ্যাত জালালাবাদ ধংকাবিলের শত শত একর রোপা আমনের ধানক্ষেত। গত ২ দিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে ঈদগাঁও নদীতে উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের ফলে জন ও যানচলাচলের জন্য গুরুত্বপুর্ণ ঈদগাঁও-ফরাজীপাড়া-পোকখালী সড়কের জালালাবাদ পূর্ব ফরাজী পাড়া অংশে মৌলভী মনজুরের দোকান পয়েন্টের ১’শ গজ দেিণ ঈদগাঁও নদীর বেড়ীবাঁধ দূর্বল হয়ে যাওয়ায় উক্ত  স্থানে সড়কের মাত্র ৮/১০ ফুটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর স্রোত ধারা। গত ২৯ জুন সকালে নদীতে বন্যা  নামলে পূর্ব ফরাজীপাড়ার উপরোক্ত পয়েন্টে বেড়ীবাঁধে ফাটল ধরে প্রবল বেগে ঢলের পানি ঢুকতে থাকে। তখন এলাকার সর্বস্তরের ছাত্র জনতা প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটিকেটে ও বালির বস্তা ফেলে কোন রকমে বেড়ীবাঁধ রা করে। গত দুদিনের প্রবল বর্ষণের ফলে রবিবার সকালে আবারো নদীতে বন্যা নামলে উক্ত পয়েন্টে ভাঙ্গন আশংকা দেখা দিয়েছে। রবিবার দুপুর ২ টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বাঁধের ফাঁটল অংশ মেরামতে নেমেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পূর্ব ফরাজী পাড়ার ছাবের আহমদ বলেন, উক্ত অংশে ভাঙ্গণ সৃষ্টি হলে জনগুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও-জালালাবাদ-পোকখালী সড়কের দু’তিনশ গজ অংশ নদীতে বিলিন হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পোকখালী, চৌফলদন্ডী ও জালালাবাদ ইউনিয়নের হাজারো জনগণ ও ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন এ সড়কদিয়ে ঈদগাঁও বাজার ও বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকে। পোকখালী মুসলিম বাজারের ব্যবসায়ীরা উক্ত সড়ক দিয়ে ঈদগাঁও বাজার থেকে মালামাল পরিবহণ করেন। এমনকি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ব্যবসায়ীরাও উক্ত পথে পণ্য সরবরাহ নেন। উপকূলীয় ইউনিয়ন পোকখালী ও চৌফলদন্ডীর অর্ধ শতাধিক চিংড়ি প্রজেক্টে উৎপাদিত হাজার হাজার টন চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ উক্ত সড়ক দিয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় সরবরাহ করা হয়। লবণ উৎপাদন মৌসুমে পরিবহণ করা হয় লবণ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার যান বাহনের আনাগোনায় মুখরিত থাকে উক্ত সড়ক। বিগত ২০১২ সালের ২৫ জুন ঈদগাঁও নদীর বন্যায় উপরোক্ত পয়েন্টে বেড়ী বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সহ দু’তিন গ্রামের শতাধিক বসত বাড়ী প্লাবিত হয়েছিল। তিগ্রস্থ হয়েছিল আমন চাষের বীজ তলা। তখন বন্যা কবলিত শতাধিক বসতঘরে ১ সপ্তাহ ব্যাপী চুলাও জ্বলেনি। ভাঙ্গন মেরামতে সরকারী ভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় পরে স্থধানীয় জনগণ চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে বালিভর্তি ৪/৫ হাজার বস্তা ফেলে কোন রকমে বন্যার পানি আটকিয়ে রেখেছিল বলে জানান কৃষি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ঈদগাঁও বীজ ভান্ডারের মালিক স্থানীয় নুরুল আলম। চলতি বছরেও বর্ষার নামার পরে প্রতিটি বন্যাতেই উক্ত পয়েন্টে বেড়ী বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে নদী ভাঙ্গণ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। যেকোন রকম ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার আগেই এ স্থানে নদী শাসন ও ভাঙ্গন ঠেকাতে তড়িত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, মহাজোট প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও  প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন জালালাবাদ ও পোকখালীর জনসাধারণ। রবিবার সন্ধ্যা ৭ টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উপরোক্ত স্থানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে ও এলাকাবাসী রাত জেগে নদীর বেড়ীবাঁধ পাহারা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT