হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ধর্ম ও দর্শনপ্রচ্ছদ

যাকাতের গুরুত্ব ও না দেয়ার পরিনাম

মুফতী রহিমুল্লাহ শরীফ = ইসলামের মূল পাঁচটি রোকন বা ফরযের একটি হল যাকাত ৷ সালাত ও সওমকে শারীরিক রোকন হিসেবে গণ্য করা হয় ৷ হজকে শারীরিক ও আর্থিক রোকনের সমন্বয় হিসেবে গণ্য করা হয় ৷ নিরেট আর্থিক রোকন হিসেবে যাকাতই একমাত্র রোকন ৷ আভিধানিক অর্থ: আরবী শব্দ যাকাতের অর্থ: বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি ৷ বহ্যিক দৃষ্টিতে দেকা যায় যাকাত দানে সম্পদ কমে যায় ৷ কেননা একশ টাকার যাকাত আড়ই টাকা দেয়ার পরঅবশিষ্ট থাকে সাড়ে সাতানব্বই টাকা ৷ তাহলে সম্পদের বৃদ্ধি কোথায়? মূলত যাকাত দেয়ার কারণে আল্লাহ তাকে এমন আগাম বিপদ থেকে রক্ষা করেন, যা তার জানা ছিল না ৷ হয়ত সেই বিপদে পতিত হলে অনেক বেশি টাকা তাকে খরচ করতে হতো ৷ যাকাতের অল্প টাকা ব্যায় করে বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যায় করা থেকে সে বেঁচে গেল ৷ এটাই বৃদ্ধি ৷ যাকাতের অংশটুকু সম্পদের ময়লা, এতটুকু বের না করলে পুরো সম্পদই ময়লাযুক্ত হয়ে ব্যবহার অযোগ্য হবে ৷ যেমন কেউ এক হাজার টাকা খরচ করে জামা তৈরি করল, কয়েক ব্যবহারের পর জামাটি ময়লা হয়ে ব্যবহারের অযেগ্য হয়ে পড়ল ৷ এখন ৮/১০ টাকা খরচ করলে পুরো জামাটা পরিচ্ছন্ন হবে আবার ব্যবহারযোগ্য হবে ৷ এমনিভাবে শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিলে পুরো সম্পদটাই পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হবে এবং ব্যবহারযোগ্য হবে ৷ মানুষ যদি মনে করে, এত কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করেছি, কেন আমি তা থেকে অন্যকে দিয়ে দেব তাহলে সেই ব্যাক্তির মতো হবে যে আঙ্গুর, বেদানা, ফল ফলাদি ইত্যাদি ভিটামিন জাতীয় অনেক খেয়েছে— এবার ভাবছে, এগুলো কিছুই আমি আমার পেট থেকে বের হতে দেব না ৷ কারণ অনেক পয়সা খরচ করে আমি খেয়েছি ৷ স্বাভাবিকভাবে যখন সে পেট থেকে বের হতে দিল না, ২৪/৪৮ ঘন্টা পর দেখা যাবে অপারেশন করে হলেও তাকে তা বের করতে হবে ৷ এমনিভাবে কেউ যদি স্বাভাবিকভাবে যাকাতের অর্থ ব্যয় করতে কার্পণ্য করে, দেখা যাবে আল্লাহ এমন অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন শুধু আড়াই টাকা নয় আড়াই লক্ষ টাকা তাকে খরচ করতে হবে ৷ তাই সম্পদের মালিককে বুঝতে হবে, যাকাত তার হক নয়, গরীব-মিসকীনের হক ৷ তাদেরকে তাদের হক কড়া-গন্ডা হিসাব করে দিয়ে দিতে হবে ৷ পারিভাষিক অর্থ: যাকাত হচ্ছে মুসলিম ভিত্তবানদের (নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক) ধন সম্পদে আল্লাহ নির্ধারিত সেই অপরিহার্য অংশ, যা সম্পদ ও আত্মার পবিত্রতা, সম্পদের ক্রমব়দ্ধি সাধন এবং সর্বোপরি আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় শরীয়ত নির্ধারিত খাতে ব্যয় বন্টন করার জন্য দেয়া হয় ৷ যাকাতের গুরুত্ব: ইসলামী শরীয়তে যাতের গুরত্ব সালাতের গুরুত্বের চেয়ে কোন অংশে কম নয় ৷ কুরান মজিদের অধিকাংশ যায়গায়ই নামাজের সাথে যাকাতেরও আদেশ দেয়া হয়েছে ৷ যেমন- واقيموا الصلوة واتوا الزكوة.. ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো ৷’① হযরত আবু বকর রা. খেলাফত লাভের পর একদল লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করল ৷ অাবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করলেনে ৷ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম আমি সেসব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করব, যারা নামাজ ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করে ৷ নামাজ শরীরের হক আর যাকাত হল মালের হক ৷ আল্লাহর কসম কেউ যদি একটি উটের বাচ্চা অথবা একটি উটের রশি যাকাত হিসেবে দিতে অস্বীকার করে যা রসূলের যুগে দিয়েছিল, আমি তার বিরুদ্ধেও লড়াই করব ৷’ দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত: দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম ৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায রা.কে ইয়ামেনে প্রেরণকালে বলেছিলেন যে, ‘ তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা ধনীদের নিকট থেকে নেয়া হবে আর দরিদ্র্যদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হবে ৷’ আল্লাহ যাকাতের অর্থ ব্যয়ের খাত হিসেবে প্রথমেই ফকীর-মিসকীনদের কথা উল্লেখ করেছেন ৷ এতে বুঝা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনই যাকাতের মূল লক্ষ্য ৷ আল্লাহ বলেন, خذ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ.. ‘তুমি তাদের সম্পদ হতে যাকাত গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে আর তাদের জন্য দুআ কর, নিঃসন্দেহে তোমার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তির কাকণ আর আল্লাহ খুব শুনেন, খুব জানেন ৷’② যাকাত না দেয়ার পরিনাম: কুরআন-সুন্নায় যাকাত আদায় না করার কঠিন শাস্তির কথা ঘোষনা করা হয়েছে ৷ আল্লাহ বলেন- ‘ আল্লাহ যাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সম্পদ দান করেছেন তাতে তারা কৃপণতা করে, (যাকাত আদায় না করে) এটা যেন তারা কিছুতেই কল্যাণকর মনে না করে বরং এটা তাদের জন্য অকল্যাণকর ৷ যাতে তারা কৃপণতা করবে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলার বেড়ি হবে ৷’ ③ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং উহা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না (অর্থাৎ যাকাত আদায় করে না) তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও ৷ সেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং এর দ্বরা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এটা তোমার সেই সম্পদ যা তুমি পুঞ্জিভূত করে রেখেছিলে ৷ সুতরাং এর শাস্তি আস্বাদন কর ৷’④ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যাক্তিকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন আর সে ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করেনি সেই সম্পদ কিয়ামতের দিন মাথায় টাক পড়া সাপে পরিণত হবে ৷ এ সাপের দুই চোখের উপর দুইটি কাল দাগ থাকবে (অর্থাৎ খুবই বিষধর সাপ) ৷ এরপর এ সাপ গলায় বেড়ি হয়ে সেই ব্যাক্তির দুই চোয়াল আকড়ে ধরে দংশন করবে আর বলবে, আমি তোমার মাল আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ ৷’⑤ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের সম্পদ বিষধর সাপের রূপ ধারণ করবে ৷ মালিক এর থেকে পলায়ন করবে, সাপ মালিককে খুজতে থাকবে ৷ পরিশেষে সে মালিককে পেয়ে যাবে এবং তার আঙ্গুলগুলোকে লোকমা বানিয়ে মুখে পুরবে ৷’ ⑥ ①সূরা বাকারা- ১১০ ②সূরা তাওবা- ১০৩ ③সূরা আলে ইমরান- ১৮০ ④সূরা তাওবা- ৩৪-৩৫ ⑤বোখারী শরীফ- খ২-পৃ১০৬ ⑥মুসনাদে আহমদ রহ: খ১৩-পৃ ৫১৩

(মুফতী রহিমুল্লাহ শরীফ  01815808848)

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.