হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়া

মেসির হাতেই আজ ব্যালন ডি’অর!

(এবারও আসছেন না মরিনহো)

কার হচ্ছে জুরিখের আলো ঝলমলে আজকের রাতটা? লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নাকি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার? ফুটবলবোদ্ধাদের যুক্তি, জনপ্রিয় দৈনিকগুলোর জরিপ আর কোটি ভক্তের আবেগ মেসির দিকেই। প্রায় সবারই বিশ্বাস টানা চতুর্থবার হাজার ওয়াটের হাসি হাসতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। মার্কা, মুন্দো দেপোর্তিভো, গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত, দ্য টেলিগ্রাফসহ জনপ্রিয় দৈনিকগুলোর সর্বশেষ জরিপেও যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে মেসি।
খোদ মাদ্রিদের দৈনিক মার্কার সর্বশেষ জরিপে মেসি একাই পেয়েছেন ৫০ শতাংশ ভোট! বাকি ৫০ শতাংশ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সেরা তিনের অপর দুই তারকা রোনালদো ও ইনিয়েস্তা। বার্সার দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোর হিসাবে মেসির ভোট ৭৫ শতাংশ! সেই সঙ্গে যোগ করুন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোসহ সাবেক খেলোয়াড়দের মেসিস্তুতি, ফলটা আগেভাগে অনুমান করতে অসুবিধা হবে না। তাই দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে কিছুদিন আগে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন মরিনহো, ‘যেভাবে মেসির প্রশংসা করছে ফিফার কর্তারা তাতে ব্যালন ডি’অর তো নির্ধারিত হয়েই গেছে!’ এই ক্ষোভেই কিনা জুরিখের আজকের গালায় আসছেন না তিনি, ‘ওখানে যাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে আমার। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে বুধবারের কোপা দেল রে ম্যাচের জন্য।’ গতবারও অবশ্য এ অনুষ্ঠানে ছিলেন না রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ।
তবে মরিনহো না এলেও আসছেন তাঁর প্রিয় শিষ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, থাকছেন নেইমার, ইনিয়েস্তার মতো তারকারাও। মেসির সঙ্গে আসছেন তাঁর দুই ভাই রদরিগো ও মাতিয়াস। শেষ মুহূর্তে যোগ দিতে পারেন মেসির বাবা হর্জও। তবে আসছেন না বান্ধবী রোকুজ্জো। ছেলে থিয়াগোর দেখাশোনার জন্য তিনি থাকবেন স্পেনেই।
ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের এটি তৃতীয় সংস্করণ। তবে এর পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস। ফুটবলের বিশ্বসংস্থা ১৯৯১ সালে চালু করেছিল ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারের। এর আগে ১৯৫৬ সাল থেকে চলে আসছে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের দেওয়া পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। ২০১০ সালে দুটো মিলে হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর। তবে ফিফা বর্ষসেরা বা ব্যালন ডি’অরে কেউ একা পাননি চারটি শিরোপা। সবচেয়ে বেশি তিনবার ফিফা বর্ষসেরা হয়েছেন ব্রাজিলের রোনালদো ও ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। আর তিনবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন। ২০০৯ সালে মেসি জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর আর ফিফা বর্ষসেরা, দুটি পুরস্কারই। এরপর ফিফা ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন প্রথম দুবার। আজ পুরস্কারটা পেয়ে গেলে চারবার ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়বেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ছাড়িয়ে যাবেন টানা তিনবার (১৯৮৩-৮৫) ব্যালন ডি’অর জিতে হ্যাটট্রিক করা প্লাতিনির রেকর্ডকেও। সে ক্ষেত্রে পেলে, ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনাটা পাবে নতুন মাত্রা। পুরস্কারটা জিতে রেকর্ড গড়তে চান মেসিও। তবে ইনিয়েস্তা পেলেও খুশি হবেন বলেই জানিয়েছিলেন কদিন আগে, ‘রেকর্ড গড়তে ভালো লাগে সব সময়। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে আমার কাছে দলীয় অর্জন বড়। ইনিয়েস্তা জিতলে খুশি হব আমি। স্পেনের হয়ে ও যা করেছে তাতে পেতেই পারে এটা।’
রোনালদো আর ইনিয়েস্তার সম্ভাবনা যে একেবারেই নেই তা নয়। রোনালদো গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন করানোর পাশাপাশি পর্তুগালকে নিয়ে গিয়েছিলেন ইউরোর সেমিফাইনালে। এর পরও পুরস্কারটা না পেলে পৃথিবী থমকে যাবে না পর্তুগিজ যুবরাজের, ‘ব্যালন ডি’অর পেলে খুশিই হব। তবে না পেলে পৃথিবীটা থমকে যাবে না। এটাই জীবন।’
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন ইউরোর। এর পরও তাঁর দৃষ্টিতে মেসিরই পাওয়া উচিত এটা। তা ছাড়া মেসি এগিয়ে রয়েছেন এক বছরে ৯১ গোলের রেকর্ডের জন্যও। অ্যাগুয়েরো, নেইমার, হাল্ক, রুনি, ফ্যালকাওয়ের মতো তারকারা তো আর এমনি এমনি ফিফা ব্যালন ডি’অরের ট্রফিটা দেখছেন না মেসির হাতে। ওয়েবসাইট