টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে চীনের সমর্থন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১
  • ৪০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার পর বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নিন্দা জানালেও চীন সমর্থন জানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দ্য তাইওয়ান টাইমসের বরাত দিয়ে এএনআই জানিয়েছে, চীনা সেনাদের উড়োজাহাজে করে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে চীনা সেনাদের দেখা গেছে।

মিয়ানমারে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারবাসী যাতে অনলাইনে সংগঠিত হতে না পারে এর জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীন সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের (এএসপিআই) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন থেকে অনিবন্ধিত ফ্লাইট প্রতি সপ্তাহে মিয়ানমারে অজানা পণ্য এবং কর্মী নিয়ে যাচ্ছে।

বেইজিং নিজেদের নিরাপদ রাখতে মিয়ানমারে সামরিক শাসনের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

মিয়ানমারে চীনের রাষ্ট্রদূত চেন হাই বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান চীন সরকারকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের চীন দূতাবাসের বাইরে বহু গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য চীনকে দোষারোপ করার পরে তিনি মন্তব্য করেন।

চেন হাই বলেন, অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ও সেনাবাহিনী উভয়ের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। তবে এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। তাদের দমন করতে কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি ছুড়ছে সেনাবাহিনী। রোববার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে দেশটির পুলিশ। এতে নিহত হয়েছেন ১৮ জন।

ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং ঘোষণা দেন, জান্তা সরকার স্থবির হয়ে থাকা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় চালু করতে চায়। এরপরই চীনের জান্তা সরকারের সঙ্গে জড়িত থাকার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে অনুমান করেছেন, উত্তর মিয়ানমারে জান্তা সরকার এমন একটি জলবিদ্যুৎ পুনরায় চালু করতে চায় যেখানে চীন সরকার বিনিয়োগ করেছে। তবে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ঘোষণায় বাঁধটির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।

চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের অধীনে চীন একটি একটি বিরাট প্রকল্প নিতে চেয়েছিল। চীন প্রাথমিকভাবে ৩৮টি প্রকল্প পরিকল্পনা করলেও তার মধ্যে মিয়ানমার কেবল নয়টির অনুমোদন দিয়েছে।

এনএলডির শাসন আমলে এসব প্রকল্পে চীন সবুজ সংকেত না পেলেও দেশটির রাজনৈতিক পট পরিবর্তন চীনকে এসব প্রকল্প পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT