টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশের ঔষধ-সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জেড করিম জিয়া, টেকনাফ …
টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে প্রতিনিয়ত পাচার হচেছ জীবন  রক্ষাকারী মূল্যবান ঔষুধ। অন্যদিকে চোরাইপথে দেশে ব্যাপক হারে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য। এসব ঔষধ চোরাইপথে মিয়ানমারে পাচার হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব। ওষুধ পাচারে সীমান্তের নামে-বেনামে ওষুধ কো¤পানির (এমআর) প্রতিনিধিরা  কতিপয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে আতাত করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এই চোরাই ব্যবসা। সীমান্ত দিয়ে ঔষধ ও মাদক পাচার রোধ করতে গিয়ে চোরাকারবারীরা দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র উপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারে অবৈধভাবে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফে বাংলাদেশী নাম-দামী বিভিন্ন ঔষধ কো¤পানির পাশাপাশি আজগবি নামধারী কিছু মেডিকেল রিপ্রেজেন্টটিভ (এমআর) দের ঘুরতে দেখা যায়। সেসব কোম্পানীগুলোর সরকার কর্তৃক বৈধ অনুমতি আছে কিনা তা সন্দিহান।
গোপন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের যে সব  সম্ভাব্য পয়েন্ট দিয়ে ওষুধ পাচার হচেছ টেকনাফের হোয়াইক্যং, উনচি প্রাং, কানজর পাড়া, হারাংখালী, হ্নীলা, মৌলভী বাজার, চৌধুরী পাড়া, লেদা, দমদমিয়া, টেকনাফ সদরের বরইতলী, কায়ুকখালী, খাংকার ডেইল নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, হাবিরপাড়া, জালিয়া পাড়া, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ। মিয়ানমার থেকে বিনিময়ে দেশে প্রবেশ করছে মরণ নেশা ইয়াবা, বিভিন্ন প্রকার মদ ও বিয়ার।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ঔষধ ব্যবসায়ীরা চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ঔষধ মজুদ করে সীমান্ত চোরাকারবারীদের হাতে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে অনায়শে টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ  টাকার দেশীয় ওষুধ পাচার হয়ে থাকে। মিয়ানমারে বাংলাদেশী ঔষধের ব্যাপক চাহিদার সুযোগে কিছু বেনামি ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা চোরাকারবীদের সাথে আতাত করে মিয়ানমারে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে রপ্তানী হওয়া ঔষধ বাজার ধংস করে দিচ্ছে। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ টেকনাফে দায়িত্বরত মোঃ আলমগীর জানান, টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে প্রতিবছর মিয়ানমারে ঔষধ রপ্তানী করে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। কিন্তু কিছু লোকের কারণে অবৈধভাবে মিয়ানমারে ঔষধ পাচারের কারণে ঔষধ রপ্তানী করে সরকার যে রাজস্ব পেত তা থেকৈ বঞ্চিত হচ্ছে।
তাছাড়া মিয়ানমার থেকে এদেশে সম পরিমাণ টাকার ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক নিয়ে আসছে চোরাচালানী সিন্ডিকেট। এসব চোরাকারবারীরা ঔষধ পাচার ও মাদক মজুদের ঘটনা রোধ করতে গিয়ে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বিজিবির জওয়ানদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর নাজিরপাড়া এলাকায় নাফনদীর বেড়িবাধ দেড় নং ¯¬ুইচ গেইট এলাকায় স্থানীয় চোরকারবারীরা অবৈধভাবে মিয়ানমারের পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা চোরাইপন্য ও মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে মাদক আসার খবরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ ৪২ ব্যাটলিয়ন সদর বিওপির জওয়ানরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি কাঠের নৌকা বোঝাই ভারতীয় তৈরি ২২ বোতল নিষিদ্ধ  ফেন্সিডিল, দেশীয় তৈরি বিপুল পরিমাণ ১৭ প্রকারের ঔষধ, ২৬ পিচ পানির ফিল্টার, ২৪১৭০ প্যাকেট ছোট-বড় ফেয়ার এন্ড লাভলি টিউব ও ৫ মণ কেজি কাচাঁ মরিচ, মিয়ানমারের তৈরি ৪৭ বোতল গোল্ডেন ড্রাইজিন, ১৮১০ ক্যান আন্দামান বিয়ার, ১টি চাপাতি, ১টি ছোরা ও ৫টি বৈঠা জব্দ করে ফেরার পথে লোকালয়ে আতœগোপনে থাকা চোরাকারবারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও তীর নিয়ে বিজিবির উপর গুপ্ত হামলা চালায়। এসময় বিজিবি আতœরক্ষার্থে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করলে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। এঘটনায় বিজিবির উপর হামলা, সরকারী কাজে বাধা ও চোরাইপন্য জব্দের ঘটনায় নাজিরপাড়ার চিহ্নিত চোরাকারবারী হাছু মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করেছিল।
নাম প্রকাশ না করার শতে স্থানীয় ঔষধ পাচারকারী জানান, যে সব কো¤পানীর প্রতিনিধি মিয়ানমারে ওষুধ পাচারে জড়িত তারা নিজস্ব গাড়ীতে বা হোন্ডা করে সরাসরি সীমান্তে গোপন আস্থানায় ঔষুধ পৌছে দিয়ে থাকে বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে একই গাড়ীতে করে মাদক নিয়ে আসে। চেক পয়েন্টগুলোতে যেহেতু মানবিক দিক বিবেচনা করে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ বহনকারী গাড়ী হিসেবে শিথিলভাবে তল্লাশীর সুযোগে কিছু অসাধু ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এ অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘেœ চালিয়ে যায়। সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি ওষুধ কো¤পানি মিয়ানমারে ওষুধ পাচারের অভিযোগে বিজিবি অভিযান চালিয়ে বেশ কিছুদিন আগে ওষুধ কো¤পানির গাড়ী দিয়ে ইয়াবা পাচারকালে ২ জন এমআরকে আটক করা হয়। এনিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়।
এব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪২ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জাহিদ হাসান বলেন, ঔষধ ও মাদক পাচার রোধে বিজিবি জওয়ানরা সদা তৎপর রয়েছে। এছাড়া চেক পয়েন্টগুলো দিয়ে যেসব ঔষধের গাড়ী যাওয়া-আসা করে সেগুলো দোকানের চাহিদার অনুপাতে নিয়ে আসার বৈধ কাগজপত্র দেখার পর ছাড় পায়।  তবে ঔষধ পাচার রোধে স্থানীয়দের সচেতনতা খুবই জরুরী বলে তিনি জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT