টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মিয়ানমার থেকে ৩ হাজার গরু আমদানী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১২
  • ৯৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মিয়ানমার থেকে গরু আসা এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে আমদানী হয়েছে ২৯৩০ টি পশু। ফলে কক্সবাজারের ৮ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে অতিরিক্ত পশু থাকায় জমে উঠতে না উঠতে কোরবানির পশুর দাম কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আন্তরিকতা এবং সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতার কারণে এ সফলতটা এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট লোকজন।
টেকনাফ কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানী হয়েছে ২৯৩০ টি। তার মধ্যে গরু ২৭০৬ টি, মহিষ ১০৫ টি ও ছাগল ১১৯টি। অথচ গত বছর আমদানী হয়েছিল ১৫২৬ টি। তার মধ্যে গরু ১৫৬৪ টি, মহিষ ৭৬১ টি ও ছাগল ২০১ টি।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এই সময়ে অর্থাৎ কোরবানির সাত-আট দিন আগে কক্সবাজারের ১৪টির বেশি বড় পশুর হাট বাজারে গরু-মহিষ কম থাকায় তেমন জমেনি বাজার। কিন্তু এ বছর বাজারে অতিরিক্ত পশু থাকায় গরু-মহিষের দামও কমে গেছে। ফলে ক্রেতারা চাহিদা মতো কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারছে। অথচ অন্যান্য বছর ক্রেতারা অপেক্ষায় থাকতো মিয়ানমারের গরু-মহিষের জন্য।
গতকাল শহরের বাসটার্মিনালস্থ গরুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে,মহিষ তেমন চোখে না পড়লেও বিশাল এলাকা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে শত শত গরু। এসব গরুর দামও বেশী নয়। তবে তেমন কোন ক্রেতা নেই। যারাই বাজারে গিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই গরুর দাম দেখে ফিরে যাচ্ছেন।
দেখা গেছে, এই হাটে ৪০-৪৫ হাজার টাকার দেশি গরু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। দুই থেকে চার মণ ওজনের গরু-মহিষের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
আব্দুল জব্বার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা তিন জন মিলে ৬০ টি মিয়ানমারের গরু এনেছি। তার মধ্যে আজ(গতকাল) ১০ টি বিক্রি করেছি। তবে অন্যান্য বছরের চাইতে এ বছর গরু মহিষের দাম কম বলে তিনি জানান।
শহিদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, কোরবান আসতে আরো ৪/৫ দিন বাকী আছে। তাই দরদাম দেখে বুঝে পরে ক্রয় করবো। তবে হামিদুল হক নামের এক ক্রেতা জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, বাজারে এ বছর গরুর দাম কম থাকায় কোরবান আসতে আরো ৪/৫ দিন বাকী থাকলেও আজ(গতকাল) ৪৬ হাজার চাকা দিয়ে একটি গরু কিনে নিয়েছি।
বাজারের ইজারাদার বেলাল হোসেন বলেন, এ বছর বাজারে প্রচুর গরু আসছে। গরুর দামও অন্যান্য বছরের চেয়ে সস্তা। কিন্তু সে অনুপাতে ক্রেতা কম। কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া, বাংলাবাজার, বাস টার্মিনাল পশুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র করিডোর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের করিডোর। এ করিডোর দিয়ে যে সব পশু আসছে তা দ্রুত কিনে নিয়ে ব্যবসায়ীরা কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিচ্ছেন।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস সুপার আনোয়ার মাসুম বলেন, ‘জেলার একমাত্র শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে এখন বেশ কিছু কোরবানির পশু আসছে। এর আগে পশু আসা প্রায় বন্ধ ছিল। তবে তিনি দাবী করেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর মিয়ানমার থেকে প্রচুর গরু আসছে। এতে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ও। এ ছাড়া
কোরবানকে সামনে রেখে চাহিদা মতো পশু আমদানির জন্য আমরা ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছি।
সূত্র জানায়, দেশে মাংসের চাহিদা পূরণ করতে সরকার ২০০৩ সালে ২৫ মে এই করিডোরটি চালু করা হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT