হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ধর্ম ও দর্শনসাহিত্য

মায়ের প্রতি শুভেচ্ছা

y„nvnসেগুফতা শহীদ ইতু ::::প্রত্যেক সন্তানই স্নেহ মমতা ভালবাসা জন্মের পর থেকে মায়ের কাছ থেকেই শিখতে পায়। মা আমাদের আগলে রাখে, প্রতিটি সুখে দুঃখে। বাস্তবতা হচ্ছে কি পৃথিবীতে বাবা মায়ের মত আপন কেউ হতে পারে না। তারাই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুখী আর ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী মানুষ যারা মায়ের জন্য কিছু করে, মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে। আমরা যারা মা হারানো সন্তান তারা আসলেই কখনো এই শূন্যতাটা পূরণ করতে পারবো না। আমার আম্মু আমাদের ছেড়ে চলে -গেলেন আজ পাচঁ মাস হয়ে গেল, আজও বিশ্বাস করতে পারি না সে নেই, আজও বুঝে উঠতে পারি না, কেন ও আম্মু চলে গেল, কেন আল্লাহ আমাদের এভাবে একা করে দিলেন। এখন শুধু কল্পনা, স্মৃতী আর সপ্নের মাঝে আম্মুর সাথে কথা বলি, বার বার আললাদ আর জেদ ধরি, আম্মু যেওনা আমাদের ছেড়ে, আমরা অনেক মিস করি তোমাকে। প্রত্যেক বছর আজকের দিনে আম্মুকে মেসেজ করতাম, আর আকুতি মিনতি ভরা কত ভালবাসা দিয়ে ডরংয করতাম তা আসলেই বলে বোঝাতে পারব না। আমাদের ছিল বন্ধুত্ব পরায়ন মা মেয়ের সম্পর্ক। যত বন্দুর মত ছিলাম, আবার রাগ ও করতাম অনেক বেশী। আর সবচেয়ে মজার বেপার Shelly21ছিল আব্বু ঝগড়া করে ফোন টা দিত আম্মু আগে, আর নিজের সব দোষ ঐরফব করে আব্বুর দোষ দিয়েই যেত। পরে আবার নিজেই আমাদের ঝারি শুনত চোপচাপ। আমরা কখন ও আম্মুর দলের ছিলাম না। সব সময় আব্বুকেই ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ করতাম। এই নিয়ে আবার সে খুব রাগ করতো। দশ মাস দশদিন তো আমিই পেটে ধরেছি। যে দিনি থাকবো না বুঝবি মা কি!!! খুব কানে বাজে কথা গুলো, আর বার স্মরণ করিয়ে দেয় কোন ভুল বুঝতাম মা কে। চিন্তা ও করিনি কখন এভাবে সে আমাদের বুঝিয়ে দিবে মায়ের শূণ্যতা কি জিনিস। আমর মা অনেক সহজ সরল একজন মহিলা ছিলেন। তার অনেক গুণের মাঝে কয়েকটা গুন উল্লেখ করতে গেলে বলতেই হয় সে কখনই গরীব মানুষদের ভেদাভেদ করতো না। এতিম সন্তানদের অনেক আদর করতেন, যখন শুনত কারও নেই এত করুন চোখে তাকাতো আর আদর করতো , মনে হয় যেন সে তার কতটা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাঁর করুন অন্তরের গহীন থেকে যেন একটা বড় নিরশ্বাস ছেড়ে বলছে, “আল্লাহ কেন এদের এভাবে এতিম করে দিলে” আজ চিন্তা করে দেখি আমরা সেই জায়গায়। আমাদের এমন একটা দিন যায় না যে, আমরা বলি না, আম্মুকে মিস করতেছি, আম্মু থাকলে এটা করতো ওটা করতো। সত্যি কথা বলেতে কি, আমি এখন অনেক ঔবধষড়ঁংু গরহফ এর হয়ে গেছি, যখন কোন সন্তানকে তার মা থেকে ভালবাসা নিতে দেখি, ঋৎরবহফ দের মা কে দেখি খাওয়াই দিতে

ধশব পধৎব করতে, আবার ভধপব নড়ড়শ এ বসে ভৎরবহফ দের সাথে মায়ের ঢ়রপঃঁৎব দিতে, আবার পধঢ়ঃরড়হ দেয়া সব ধহফ ংবিবঃ সড়স অনেক নাড়া দেয় নিজের মাজে এত রাগ লাগে, কোন যে আল্লাহ আমাদের মা কে নিয়ে গেলেন, আমরা এসব থেকে বঞ্চিত কখনও কেউ পূরণ করে দিতে পারবে না। ছোট বেলায় একটা গল্প ঝযধৎব করছি, তখন আমি ক্লাস ৪ এর পড়ি। গ্রামে গিয়েছিলাম, খুব সম্ভবত তখন নির্বাচন ছিল, আব্বু ও প্রার্থী ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে জমজমাট আয়োজন বড়দের সাথে আমিও যেতাম ভোট খুজতে। এক দিন আমাদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে তাদের বাসা, সম্পর্কে কি হয় আমার ঠিক মনে নেই তবে সেই লোকের বউ মারা যায়। ছোট ছোট ৫,৬ জন সন্তান রেখে বলতে গেল অকালেই চলে গেলেন। আমি জেদ ধরে ফুপির সাথে গেলাম দেখতে ভেতরে আমি ভয়ে যায় নি, যতটুকু মনে আছে ছোট ছোট আমার বয়সী দুই তিন জন। এত কাঁদতে ছিল, আর মাটিতে গড়াগড়ি করতে ছিল, সবার ছোট সন্তানটা খুব সম্ভবত কোলের ছিল। বাচ্চাটা অত অমায়ীক চোখে সবার দিকে তাকাচ্ছিল তা বোঝাতে পারবো না, আমি দেখে চোছের পানি আটকাতে পারিনি। অজস্র ঝরে যেন চোখের পানি চলেই যাচ্ছে, বাসায় ফিরেও আমি ভুলতে পারছিলাম না, বলতে গেলে কয়েক দিনের ঘুম তো হারাম হয়েই গেল। মা হারানোর ব্যাথা যন্তানা যেন আমিই বুঝতে পারছিলাম।

আপনারা যাতের মা এখন ও বেঁচে আছেন, যাদের আসলেই এই সুযোগ আছে মায়ের সেবা যতœ করার, আমি বলবো আপনারা অনেক সৌভাগ্যবান কখনও অবহেলা করবেন না, পরে আসলেই যেদিন ঐ সুযোগ থাকবে না সে দিন খুব বেশী মিস করবেন কেন করতে পারি নি এই ভেবে। মা কে কখনও কষ্ট দেওয়া উচিত না, মা অনেক কষ্টে আমাদের গর্ভে ধারণ করে বড় করেছে। অথচ আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা বড় হয়ে , যখন মায়ের সেবা যতœ পাওয়ার সমই তখন পাঠিয়ে দেওয়া হয় বৃদ্ধশ্রম এ। আসুন আজকে আমরা এই দিনে নিজেদের ওয়াদবদ্ধ করি, আমরা মাকে কখনও কষ্ট দিব না, তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাকে সেবা যতœ করে যাব যেমনটা তিনি আমাদের করেছেন। আর আমি বলছি, “রাব্বিল হাম হুম কামা রাব্বয়ানিস সাগিরা” হে আল্লাহ তুমি আমার মা কে সমতেœ লালন পালন যে করে রেখো, যে মনটা আমাকে তিনি রেখেছিলেন। আপনাদের সকলের মা কে অনেক অনেক মা দিবসের শুভেচ্ছা আর অনেক ভালবাসা, তারা যে দীর্ঘজীবি হন, দোয়া করবেন আমাদের তিন ভাই বোন এর জন্য, আমরা যেন আম্মুর শূণ্যতা কেটে উঠতে পারি । আমরা যেন তার আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে পারি। আমাদের মা বাবা দুইটাই হচ্ছে আমাদের বাবা। আল্লাহ যেন আমাদের বাবার হায়াত অনেক অনেক গুন বৃদ্ধি করে, এই কামনা রেখেই আমি আমার ছোট অনুভূতি গুলো আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করলাম, সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন আর মায়ের দোয়া সারাজীবন সঙ্গে রাখুন। সবাই আরও একবার মা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা।