টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মায়াবি চাঁদের আলোয় রূহানি রমজান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১২
  • ২২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন…পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারা আয়াত ১৮৩)। কার ওপর রোজা রাখা ফরজ তার সিদ্ধান্ত দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, ‘তোমাদের যে কেউ এ (পবিত্র রমজান) মাস পাবে সেই যেন এ মাসে রোজা রাখে।’ (সূরা বাকারা-১৮৫)। অত্র আয়াতের মাধ্যমে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে। আর রোজা ফরজ হওয়ার কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শুহুদে শাহার’ বা রমজান মাসে উপনীত হওয়াকে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি রোজা রাখার যাবতীয় সামর্থ সহকারে পবিত্র রমজান মাস পাবে তার জন্যই রমজানের রোজা রাখা ফরজ।
কদরের রাতের কারণেই রমজান মাস বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। যে রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর ঘোষণা, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সূরা কদর-১-৫)। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা, রমজান মাস এতেই কোরআন মজিদ অবতীর্ণ হয়েছে তা গোটা মানব জাতির জন্য জীবনযাপনের বিধান এবং তা এমন সুস্পষ্ট উপদেশাবলীতে পরিপূর্ণ যা সঠিক ও সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কাররূপে তুলে ধরে। কাজেই আজ থেকে যে ব্যক্তিই এ মাসের সম্মুখীন হবে তার পক্ষে এ মাসের রোজা রাখা একান্ত কর্তব্য। আর যদি কেউ অসুস্থ হয় বা ভ্রমণে থাকে, তবে সে যেন অন্যান্য দিনে এ রোজার সংখ্যা পূর্ণ করে নেয়। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কাজ সহজ করে দিতে চান, কোন রকম কঠোরতা আরোপ বা কঠিন কাজের ভার দেয়া আল্লাহর ইচ্ছা নয়। তোমাদের এ পন্থা বলা হচ্ছে এ জন্য যে, তোমরা রোজার সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদের যে সত্য পথের সন্ধান দিয়েছেন সে জন্য যেন তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহানত্বের স্বীকৃতি প্রকাশ করতে পার এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞ হতে পার। (সূরা বাকারা আয়াত ১৮৫)।
মহাবিজ্ঞ আল্লাহতায়ালা রোজা ফরজ হওয়ার কারণ নির্ধারণ করেছেন ‘শুহুদে শাহার’ বা মাসের উপস্থিতিকে। আর মাসের উপস্থিতি প্রমাণিত হয় চাঁদ উদয়ের মাধ্যমে। অর্থাৎ পৃথিবীর আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা গেলেই সমগ্র পৃথিবীতে মাসের উপস্থিতি প্রমাণিত হবে। আর মাসের উপস্থিতি প্রমাণিত হলে সব মুসলিমের ওপর ওইদিন থেকেই রোজা রাখা ফরজ হবে।
রোজা রাখা ও ঈদ করার জন্য নিজ নিজ দেশে চাঁদ দেখতে হবে এ রকম বর্ণনা পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই। অতএব এ শর্তারোপ করা পবিত্র কোরআনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এতে করে রোজা কমবেশি হবে এবং শবে কদর নির্দিষ্ট রাতে পালন করা যায় না।
মাস প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই মাস সংশ্লিষ্ট যাবতীয় দায়িত্ব সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর সমভাবেই প্রযোজ্য হয় এর সুস্পষ্ট প্রমাণ এ পবিত্র হাদিসÑ হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যখন পবিত্র রমজান মাস এসে যায় তখন আসমান তথা জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।’ (বোখারি শরীফ)।
অত্র হাদিসের বর্ণনা মতে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা, মূল শয়তানকে বন্দি করা এবং জাবের রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বর্ণিত হাদিস মতে আল্লাহতায়ালার রহমতের দৃষ্টি দান করা রমজানের চাঁদ উঠার সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য একই সময়ে সমভাবে শুরু হয়। বাংলাদেশের স্থানীয় আকাশে চাঁদ দেখা যেতে ১ দিন বা ২ দিন বিলম্ব হওয়ায় উল্লেখিত কার্যক্রম এ দেশে এক বা দু’দিন পর শুরু হওয়া বিবেক গ্রাহ্য নয়। তাই পবিত্র রমজানের ফজিলতের কার্যকারিতা আল্লাহতায়ালার দরবারেও বিশ্বময় একই দিনে শুরু হয়। অতএব দেশ-মহাদেশের ভিন্নতায় রমজান ও অন্যান্য ইবাদত কখনই ভিন্ন ভিন্ন দিনে মেনে নেয়া যায় না।
রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। তাই রোজা শুরুর দিন তারিখ হেরফের করার অধিকার কোন আলেমের নেই। কিন্তু শরীয়তের সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে সত্য গোপনকারী দাম্ভিক কিছুসংখ্যক আলেমের প্রলাপবাক্য ‘বাংলাদেশের আকাশ সীমায় চাঁদ দেখেই এ দেশে রোজা, ঈদ ও কুরবানি হবে’ Ñএর ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশে যে ভাবে রোজা, ঈদ, কুরবানিসহ চাঁদের তারিখনির্ভর ইবাদতগুলো পালিত হচ্ছে তা সঠিক সময়ে হচ্ছে না এবং কমবেশি হচ্ছে।
এ সমস্যার সমাধানের জন্য কোরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের ভিত্তিতে ওআইসির ইসলামী ফিকহ একাডেমির ১৯৮৬ সালের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্বে সর্বপ্রথম নতুন চঁাঁদ দেখাকে চান্দ্র মাসের ১ তারিখ গণ্য করে, সে অনুযায়ী এসব ইবাদত সব দেশে একই দিনে পালিত হতে হবে।
পবিত্র কোরআন বিশ্বজনীন গ্রন্থ। অতএব এর প্রতিটি হুকুমই হবে বিশ্বজনীন। তাই এর যে কোন হুকুমই দেশ-মহাদেশের সীমারেখায় সীমিত নয়। সীমিত করার অধিকারও কারও নেই। তদুপরি যখন পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিলÑ তখন তো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান নামে বিশ্বে কোন দেশই ছিল না, তাহলে এ দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যেই চাঁদ দেখা যেতে হবেÑ এ কথা পবিত্র কোরআনের বাণীর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই বাংলাদেশ সরকার এবং সর্ব সাধারণের প্রতি অনুরোধ আল- কোরআন ও হাদিসের বাণী যথার্থভাবে উপলব্ধির মাধ্যমে দেশবাসীকে সঠিক সময়ে সঠিক ইবাদত করার সুযোগ করে দিয়ে সবার জন্য রহমত ও কল্যাণের দুয়ার উšে§াচিত করে দিন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT