টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

মায়ানমার সীমান্তে ৩৭ ইয়াবা কারখানা, মালিকানায় নাসাকা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ২০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মায়ানমার সীমান্তে ৩৭ ইয়াবা কারখানা, মালিকানায় নাসাকা


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মায়ানমার থেকে প্রতিদিন কেবল বাংলাদেশেই প্রায় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পাচার হয়। আর এজন্য মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমারের আটটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা। মুখোশধারী চোরাচালানীদের হাত দিয়ে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের অলিতে গলিতে। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এর শিকড় অনুসন্ধানে নামে বাংলানিউজ। দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা অজানা তথ্য। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

মায়ানমার সীমান্ত থেকে (টেকনাফ, কক্সবাজার): মায়ানমার থেকে প্রতিদিন কেবল বাংলাদেশেই পাচার হয় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা। আর এজন্য মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমারের আটটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা!
মায়ানমারের শীর্ষ কয়েকজন ডিলার এসব কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ৩০ লাখ পিস ইয়াবা প্রতিদিন টেকনাফের প্রধান দু’টি ইয়াবা সিন্ডিকেটের ১৭ জনেরও বেশি ডিলারের কাছে পৌঁছে দেয়।
এসব ডিলারের আবার রয়েছে ‘ক’ শ্রেণির প্রায় ৭শ’ সাব ডিলার। যারা ৫ হাজার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা সারাদেশের খুচরা ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেয়।
এটা বর্তমানের অবস্থা। ফিরে যাওয়া যাক একটু পেছনের দিকে। মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা আসা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই প্রদেশ থেকে আসে এসব ইয়াবা।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ইয়াবার ক্রমবর্ধমান ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মায়ানমারের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী দল তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থের যোগান বাড়ায়। একই সঙ্গে বাড়ায় মায়ানমার প্রশাসনের মদদে সে দেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা কারখানা স্থাপন ও ইয়াবা পাচার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মায়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশের মইং, শানাইস্টিস, টেংইং, সেন, কাইয়াং, কেউও, কাশিন ও আইক্কা নামক শহরগুলোতে ইয়াবা উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় ইয়াবা উৎপাদন করা হয় মায়ানমারের সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে।
বাংলানিউজের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মায়ানমারের সীমান্তবর্তী ৩৭টি কারখানার তথ্য। এসব কারখানায় ১৩ ধরনের ইয়াবা তৈরি করা হয়।
এসব কারখানার মধ্যে মায়ানমারের কুখাই এলাকায় কেচিন ডিফেন্স আর্মিরই রয়েছে ১০টি কারখানা। নামকখাম এলাকায় পানশে ক্যাও ম্যাও অং মৌলিন গ্রুপের কারখানা রয়েছে দু’টি। কুনলং এলাকার স্পেশাল পুলিশ এক্স হলি ট্র্যাক্ট গ্রুপের রয়েছে একটি, এক নম্বর ব্রিগ্রেড তাংইয়ান এলাকায় ম্যাংপাং মিলিশিয়া ও মংঙ্গা মিলিশিয়া শান স্টেট আর্মির (নর্থ) রয়েছে একটি করে কারখানা।
লুই হুপসুর (মংশু) এলাকায় ইয়ানজু গ্রুপের একটি কারখানা ও নামজাং, মাহাজা অ্যান্ড হুমং এলাকায় শান ন্যাশনালিটিজ লিবারেশন (এসএনপিএল) অ্যান্ড কাই-সান চুউ শাং (নায়াই) গ্রুপের রয়েছে চারটি কারখানা, কাকাং মংটন এলাকার ইউনাইটেড ওয়া এস্টেট আর্মির (ইউডব্লুএসএ) আছে আরও তিনটি ইয়াবা কারখানা।
এছাড়া মংশাত, তাশিলেক, মংপিয়াং, মংইয়াং ও পাংশাং এলাকায় ইউনাইটেড ওয়া এস্টেট আর্মি (ইউডব্লুএসএ) ও লাহু মিলিশিয়ার কারখানা রয়েছে ১০টি। মাওকমাই এলাকায় শান ন্যাশনালিটিজ পিপল আর্মির রয়েছে দু’টি কারখানা, কোকান এলাকায় মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মির কারখানা রয়েছে (এমএনডিএএ) একটি।
এসব কারখানায় ১৩ ধরনের ইয়াবা তৈরি করা হয়। এরমধ্যে ডব্লুওয়াই, ৮৮৮আর২, ওকে, গোল্ড, টাইগার, এইচসিআর্ট, চিকেন ওয়ার্ল্ড, স্কালহোয়ে, হর্স-সুয়ে, হর্স হেড এবং ফ্লাওয়ার অ্যান্স এলর্টাট উল্লেখযোগ্য।
বাংলানিউজের অনুসন্ধানে মায়ানমারের শীর্ষ ১৭ জন ডিলারের কথা জানা যায়। এর মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, মায়ানমারের মংড়– এলাকার শফিউর রহমানের ছেলে মো. আলম (৩৭), আকিয়াবের ফয়েজপাড়ার কেফায়েত আলীর ছেলে মো. সৈয়দ (৩৫), মংড়–র গোজাবিল এলাকার মৃত খুল মোহাম্মদের ছেলে কালা সোনা (৪০) এবং একই এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মোহাম্মদ নুর (৩২)।   মায়ানমারের এসব ডিলার এদেশিয় ১৭ জনেরও বেশি ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ওইসব কারখানায় তৈরি করা ইয়াবা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে।
এই ১৭ জন শীর্ষ ডিলার পরিচালিত হয় টেকনাফের শক্তিশালী দু’টি ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- টেকনাফের স্থানীয় সংসদ সদস্যের চার ভাই, এপিএস, ভাগ্নে ও তালতো ভাইয়ের একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অন্য সিন্ডিকেটের গড ফাদারের নাম এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আসেনি।
মায়ানমারে উৎপাদিত এসব ইয়াবা বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের প্রায় ৪৩টি পয়েন্ট দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর মধ্যে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রায় ১৪ কিলোমিটার নাফ নদীর চ্যানেল এলাকা ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হয় ছোট নৌকা, ট্রলার, মালবাহী ছোট জাহাজও। এছাড়াও অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নারীদের গোপনাঙ্গে এবং শিশুদের মলদ্বারে বিশেষ পদ্ধতিতে দেড় থেকে দু’হাজার ইয়াবা পাচার করা হয়।
মায়ানমারের ফেডারেল পার্লামেন্ট ও শান স্টেট লেজিসলেচার (সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি) ও বিচ্ছিন্নাতবাদী দলের নেতৃত্বস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
এসব ব্যক্তিদের সঙ্গে মংডু, বুথিডং এলাকায় সদ্য লুপ্ত নাসাকা বাহিনী (বর্তমানে লুটিং), সেনা কর্মকর্তা, কাস্টমস অফিসার ও পুলিশ বাহিনীর যোগাযোগ থাকায় শান স্টেট থেকে ইয়াবা আসার সময় কোনো সমস্যা হয় না। বিভিন্ন চেক পয়েন্টে পাস ও পরিচয় নিশ্চিত হলে চালান ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইয়াবা বহনকারীদের বেশিরভাগই শান স্টেট এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সক্রিয় সদস্য। মায়ানমারের ইয়াবা কারখানাগুলো এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের প্রধান উৎস হওয়ায় ইয়াবা উৎপাদন, বিতরণ ও বহনের কাজে দলের সদস্যরা সরাসরি সম্পৃক্ত।
এছাড়া মগ, রাখাইনদের অনেকের কক্সবাজারে আত্মীয় স্বজন থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ইয়াবা পাচার হয় বলে জানা গেছে।

0

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT