টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মায়ানমার থেকে অবৈধ পথে দেশে আসছে মসলা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ৫০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ভারত ও মায়ানমার থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পথে দেশে আসছে মসলা। এতে একদিকে মার খাচ্ছেন আমদানিকারকরা, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
জানা যায়, দেশের মসল্লার বাজারের ৭৫ শতাংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন সীমান্ত পাথের চোরাচালানিরা। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত রমজানের পর থেকে অবৈধ পথে মসলা আসা শুরু হয়। এলাচ ছাড়া প্রায় সব মসলাই আসে সীমান্তের অবৈধ পথে।
এদিকে অবৈধ পথের মসলার কারণে ভোক্তারা কিছুটা কম দামে মসল্লা পেলেও বৈধ আমদানিকারকরা পথে বসেছেন। ক্রমাগত লোকসানের কারণে কয়েক দিন আগ প্রায় ১৭ কোটি টাকা দেনা রেখে খাতুনগঞ্জের দুই মসলা ব্যবসায়ী আত্নগোপন করেন।
জানা যায়, বর্তমানে রাজস্ব, পরিবহন খরচসহ সব মিলিয়ে প্রতিকেজি এলাচের আমদানিমূল্য পড়ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি এলাচের পাইকারি দাম ১ হাজার ১০০ টাকা। একইভাবে প্রতিকেজি লবঙ্গের আমদানি ব্যয় ১ হাজার ৫০০ টাকা।

আর পাইকারি বাজারে লবঙ্গ বিক্রি করতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা মসল্লার কারণে বৈধ আমদানিকারকরা প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি মসলা ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য সময়ের তুলনায় অবৈধ পথে চোরাচালান এ বছর বেশি হচ্ছে

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মসল্লার দাম কমলেও দেশের প্রধান বাজার খাতুনগঞ্জে মসল্লার দাম বেড়েই চলেছে।

কোরবানির ঈদের বাকি প্রায় ১ মাস। কিন্তু এর মধ্যেই মসল্লার দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে মসল্লা আমদানিকারক সিন্ডিকেট। এবার মসল্লা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানির পরিমাণ কমেছে এমন অজুহাতে ভারত থেকে অবৈধ পথে ঢুকছে নিম্নমানের প্রচুর পরিমাণ মসল্লাও।

এরপরও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত এক মাসে নতুন করে সব ধরনের মসল্লার দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ জিরা আমদানি করা হয় সিরিয়া থেকে। কিন্তু দেশটিতে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে ওই দেশের জিরার দাম বেড়ে গেছে। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সিরিয় জিরা বিক্রি হয়েছে ৪৩৫-৪৪০ টাকা। আর ভারত থেকে আমদানি করা জিরা বিক্রি করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। তবে আমদানিকারকদের দাবি ভারত থেকে আমদানি করা জিরায় প্রতিকেজিতে ব্যয় হয়েছে ৩৮০ টাকা। ভালো মানের এলএমজি ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি এলাচের দাম ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২২০, প্রতি কেজি দারুচিনি ১৫ টাকা বেড়ে ২০০, জায়ফল ১২০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকা, জয়ত্রী ১৩০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮০ টাকা, মিষ্টি জিরা ৯ টাকা বেড়ে ১২৪ টাকা ও গোলমরিচের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সূত্রে আরো জানা যায়, পাকিস্তান আর বার্মা থেকে আসা পোস্তদানার দাম এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে। রমজানের ৬০০ টাকার দামের পোস্তদানা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। একইভাবে ৯০-৯৫ টাকা কেজি দরের হলুদ এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১২ টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি আর সিরিয়ার জিরার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫-৪০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল ইন্ডিয়ান জিরা ৩৮৫-৪০০ টাকা, পাকিস্তানি জিরা ৪৮০-৪৯০ ও সিরিয়ার জিরা বিক্রি হয় ৪২০-৪৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। কানাডা থেকে আমদানি করা সরিষা বিক্রি হয় মণপ্রতি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে। জায়ফল বিক্রি হয় ১ হাজার ৩০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। আর জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে।

বাজারে এখন লবঙ্গের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা, সিঙ্গাপুরের এলাচ ১ হাজার ৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, চীন ও ভিয়েতনামের দারুচিনি ১৯০-২০০ টাকা, জিরা ৩৭০-৪৮০ টাকা, চীন ও ভারতের গোলমরিচ ৭৯০-৮০০ টাকা, কালিজিরা ২৫০ টাকা, পাঁচফোড়ন ১২০ টাকা, কাঠবাদাম ৭৮০ টাকা এবং কিসমিস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলা ব্যবসায়ী নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার অমল সাহা দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন মসলার চাহিদা বেড়ে গেছে, যার কারণে মসলার দাম বেড়েছে। বাজারে যেসব মসলা আছে তার অধিকাংশই চোরাই পথে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ মসলা অবৈধ পথে আসে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগির আহমদ দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিদিন অবৈধ পথে বিপুল পরিমাণ মসলা আসছে। এগুলো বন্ধের জন্য আমরা অনেক দেন দরবার করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজিবিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়েছি। তবুও বগুড়া, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পথে মসলা ঢুকছে দেশে। এর কারণে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। বছরে সরকার অন্তত ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT