টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে কোস্টগার্ড স্টেশনের প্রশাসনিক ভবন অফিসার্স মেস ও নাবিক নিবাস উদ্বোধন টেকনাফে সার্জিক্যাল ডটকম এর পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন রাজারবাগের পীরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার নির্দেশ শাহপরীরদ্বীপ থেকে ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট চাইনিজ সিগারেটসহ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ হাইকোর্টের সেকশন থেকে রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে করা মামলার নথি গায়েব জাওয়াদে উত্তাল সমুদ্র: সেন্টমার্টিনে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ : প্রভাব বাংলাদেশে, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রবালদ্বীপের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালম ইন্তেকাল আজ সোমবার সূর্যগ্রহণ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা ৭ মিনিট পর্যন্ত

মাসে চাঁদাবাজি ৩৫ লাখ টাকা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ৬৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
আবু তাহের, কক্সবাজার **

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পে নিবন্ধিতদের বাইরে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বসবাস করছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের কারণে গত কয়েক মাসে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে এই ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এ সুযোগে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়তনও বাড়ছে দ্রুত। বনভূমি দখল করে প্রতিদিন নতুন নতুন ঝুপড়ি ঘর উঠছে। এছাড়া বালুখালীতেও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অর্থে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ আছে। এই সুযোগে স্থানীয়দের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ঘর ভাড়া আদায়ের নামে বিপুল টাকা চাঁদাবাজি করছে। এ চক্রই বনভূমি দখল করে রোহিঙ্গাদের ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করছে।একটি এনজিওর তথ্য মতে, কুতুপালং ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার। এদের জন্য সরকারিভাবে ঘর নির্মাণ করে সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই ক্যাম্পে সদ্য অনুপ্রবেশকারী ৩৫ হাজারসহ দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বসবাস করছে। তাদের জন্য নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা। অবৈধভাবে বসবাসরত এই রোহিঙ্গারা বনভূমি দখল করে এরই মধ্যে ১২ হাজার ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেছে। বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কুতুপালং ক্যাম্প সংলগ্ন ৬০০ একর বনভূমি দখল করেছে রোহিঙ্গারা। এখানে বৃক্ষনিধন করে বসতি গড়ে তুলেছে তারা। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে প্রভাবশালী লোকজন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বনভূমি দখলে সহযোগিতা দিচ্ছে। ঘর ভাড়ার নামে তারা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আদায় করছে বিপুল টাকা। বন কর্মকর্তা জানান, উখিয়ায় সংরক্ষিত বনে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে গেলে বনকর্মীদের ওপর হামলা করে রোহিঙ্গারা। এতে ৯ বনকর্মী আহত হন। গত ৫ জানুয়ারি সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, গত এক মাসে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা দেড় হাজারের বেশি ঝুপড়িঘর নির্মাণ করেছে। স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার আগে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল ৭ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার। ৯ অক্টোবরের পর নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে আরও প্রায় ৫ হাজার পরিবার। ক্যাম্পে অনুপ্রবেশ করে প্রথমে আত্মীয়-স্বজনের ঘরে আশ্রয় নিলেও এখন বন দখল করে নির্মাণ করছে নতুন নতুন ঝুপড়িঘর।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা হারে প্রতি মাসে ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ব্যবস্থাপনা কমিটির নামে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বঘোষিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪৩ জন। ক্যাম্পের বাইরে থেকে এদের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। এরাই রোহিঙ্গাদের নতুন ঘর তোলার অনুমতি দেয় এবং প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে ঘর ভাড়ার নামে চাঁদা আদায় করে। এ টাকা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। কেউ চাঁদা দিতে না পারলে ক্যাম্প থেকে বিতাড়িত হতে হয়। কুতুপালং ক্যাম্পকে ব্যবস্থাপনা কমিটি নিজেদের সুবিধা মতো ১৫টি ব্লকে ভাগ করেছে। ব্লকভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রয়েছে। এ ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হচ্ছেন আবু সিদ্দিক। ভাইসচেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা ও সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম। বি-৩ ব্লকের বাসিন্দা শফিকুর রহমান জানান, বস্তিতে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন আগে মাসে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করত। গত অক্টোবর থেকে তা ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে গত মাসে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং ক্যাম্পের এ-২ ব্লকে আশ্রয় নিয়েছেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘নিকটাত্মীয় একটি পরিবারের সঙ্গে এতদিন ছোট একটি কক্ষে গাদাগাদি করে থেকেছি। ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ক্যাম্প সংলগ্ন বনভূমিতে এখন একটি ঝুপড়ি তুলেছি। এ ছাড়া মাসে এর জন্য ভাড়া দিতে হচ্ছে ৩০০ টাকা।’ শামসুল আলমের মতো তথ্য দিয়েছে আরও অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। কমিটির চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্ট ছোটখাটো বিরোধ বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধান এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আদায় করা বিপুল অঙ্কের টাকা জঙ্গি তৎপরতায় ব্যয় হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি তৎপরতা চলছে। এরই মধ্যে এখান থেকে অনেক জঙ্গি আটক হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও মানব পাচার, চোরাচালান, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। চাঁদার টাকা জঙ্গি তৎপরতায় ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘জেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকার বিষয়টি অবহিত নই। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT