টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মালয়েশিয়ায় মানব পাচার: মুক্তিপণ আদায়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩
  • ২৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

malaysia20130724022432বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম:::ছবি: সংগৃহীত সমুদ্র পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার হওয়া লোকজনকে মাঝপথে থাইল্যান্ডে জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের মুক্তিপণ।

কক্সবাজারের যে সব দালালরা মালয়েশিয়াগামীদের ট্রলারে করে জাহাজে পৌঁছে দেন তারা এর কিছুই জানেন না। থাইল্যান্ড ভিত্তিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এ মোটা অংকের মুক্তিপণের টাকা আদায় করছেন বাংলাদেশের প্রভাবশালী একটি চক্র।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতোমধ্যে কক্সবাজার উপকূল থেকে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের এক যুগ পেরিয়েছে। ২০০১ সালের শেষ দিক থেকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার শুরু হয়। ওই সময়ে এক রোহিঙ্গা মাঝিকে ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী টেকনাফের মৌলভী পাড়ার আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার এই পথটি বের করেন।

প্রথম দিকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া মানুষ পাঠানো হলেও বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়। আর প্রথম থেকে বর্তমানে মানব পাচারের কৌশলও পরিবর্তন হয়েছে অনেক।

মালয়েশিয়াগামী লোকজন ও দালালদের দেওয়া তথ্য মতে, এখন ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করা হয় না। সাগরে বিশাল আকারের জাহাজে করে পাঠানো হয় এসব লোকজন। দালালরা কেবল মাত্র ট্রলারে করে ওই যাত্রীদের জাহাজে পৌঁছে দেন। আর এ কাজে জড়িত রয়েছে আর্ন্তজাতিক মানব পাচারকারী একটি চক্র।

টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন উপকূলে সরেজমিন ঘুরে কোনো দালালই মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি। এসব দালালরা কেবল মাত্র ট্রলারে করে জাহাজে যাত্রী পৌঁছানোর খবরটি জানেন। এরপর এসব মানুষ কোথায় যাচ্ছেন তার খবর রাখেন না কেউ। এমন কি ট্রলারে করে যাত্রী জাহাজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে টাকা মালয়েশিয়াগামীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় তার পুরোটাই ভোগ করছেন দালালরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দালাল বাংলানিউজের কাছে স্বীকার করেছেন, মালয়েশিয়াগামীদের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। আর এ টাকার একটি অংশ ট্রলারের তেল এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার চাঁদা দিয়ে বাকি টাকা নিজেরাই রেখে দেন। অধিক টাকা পাওয়ার কারণে মানব পাচারে দালালের ভূমিকায় রয়েছেন অনেক লোক। কিন্তু যাত্রী হিসেবে জাহাজে পৌঁছানো ওই সব লোকজনের গন্তব্য সম্পর্কে তারা আর কিছু জানেন না।

মানব পাচার ইস্যুতে কক্সবাজারে পাচার হওয়া লোকজন, বিভিন্ন দেশে জেল ফেরত লোকজনের সঙ্গে অনুসন্ধানমূলক কাজ পরিচালনা করছেন বেসরকারি সংস্থা ইপসা।

ইপসা প্রোগ্রামের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বেলাল বাংলানিউজকে জানান, মালয়েশিয়ায় সাগর পথে মানব পাচারের পুরো বিষয়টি এক ধরনের প্রতারণা। মালয়েশিয়ায় বৈধ পথে যেতে চাইলে যে খরচ হবে এসব লোকদের জিম্মি করে তার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের উপকূলে এসব মানুষকে নিয়ে জিম্মি করা হয়। ওখান থেকে মোবাইল ফোনে বাংলাদেশের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আদায় করা হয় জন প্রতি তিন থেকে চার লাখ টাকা। যারা মোটা অংকের টাকা দিতে পারেন তারাই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। আর যারা এ টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা বিভিন্ন দেশে আটকের পর জেল এবং পরে দেশে ফেরত আসছেন। আবার অনেকের সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না।

সাগর পথে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকার হাফেজ আহমদ। তার এক ভাই রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে তার ভাইয়ের খরচ হয়েছে চার লাখ ২০ হাজার টাকা। ট্রলারে যেতে দালালদের ২০ হাজার টাকা দিতে হলেও থাইল্যান্ডে জিম্মি করে তার কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে চার লাখ টাকা। মোবাইল ফোনে দেওয়া তথ্য মতে টেকনাফের একটি ব্যাংকের একাউন্টে তিন দফায় চার লাখ টাকা দেওয়ার পর তার ভাই মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, মালয়েশিয়াগামীদের থাইল্যান্ডে জিম্মি করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়কারী প্রভাবশালী সদস্য রয়েছে বাংলাদেশে। তারা বাংলাদেশের ব্যাংক একাউন্ট, এসএ পরিবহন কুরিয়ার, বিকাশের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করছেন।

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী দালালদের নিয়ন্ত্রণকারী ১০ প্রভাবশালীসহ অনন্ত ৫০ জন সদস্য এই মুক্তিপণের টাকা আদায় করছেন।

গত ২ জুলাই মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের এক রোহিঙ্গা সদস্যকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আটক করেছিল র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-৭) এর সদস্যরা। আটক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হোসন (২৭) টেকনাফের নোয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের মৃত গুরা মিয়ার ছেলে। বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা প্রদানের কৌশল করে তাকে আটক করা হয়।

এরপর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে মুক্তিপণ আদায়ের দেশীয় সদস্যকে চিহ্নিত করার জন্য কাজও করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজের ইনভেস্টিগেটিভ টিম মানব পাচারের মূল পয়েন্ট কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সরেজমিন ঘুরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করলেও পাচারকারী গডফাদাররা থামছেন না। বরং পুলিশের একটি শ্রেণীকে ম্যানেজ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় পাচার অব্যাহত রেখেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT