টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের নিরপদ স্থান ইসলামপুর (ঈদগাঁওয়ের অন্যন্য খবরসহ)

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আযাদ/আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও::::বৃহত্তর ঈদগাঁও’র ইসলামপুর খালের বিভিন্ন ঘাট সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারে নিরাপদ এলাকায় পরিনত হয়েছে। সাগর মোহনার কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত ইসলামপুর খাল দিয়ে ট্রলারযোগে প্রতিনিয়ত রাতের আধারে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে অনিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা করছে হতভাগ্য আদম সন্তানরা। আদম পাচারকারী চক্রের এজেন্ট হিসেবে কাছ করছে ইসলামপুরের স্থানীয় কতিপয় দালাল। সমুদ্র পথে মানব পাচারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়ায় উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজারের পরিচিত আদম পাচার পয়েন্ট সমূহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীতে থাকায় বিকল্প পথ হিসেবে ইসলামপুর খালকে বেছে নিয়েছে দালালচক্র। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালয়েশিয়াগামীদের নিয়ে এসে ইসলামপুরে জড়ো করে সুবিধাজনক সময়ে ট্রলারে তুলে চালান দেয়া হচ্ছে। ইসলামপুর বাজার থেকে তুলনামূলক বেশী দূরত্বে উত্তর-পূর্ব খান ঘোনার গ্রাম এলাকায় অবস্থিত বন্ধ হয়ে যাওয়া এফ আলম লবণ মিলের ঘাট থেকে প্রায়সময়ে রাতের আধারে মানব পাচার করা হচ্ছে। সর্ব সাধারণের চোখ এড়াতে দিনের বেলায় উক্ত মিলের অভ্যন্তরে ও আশপাশের এলাকায় আাত্মগোপন করে থাকে অবৈধ মালয়েশিয়াগামীরা। রাত নামলেই চিড়া, মুড়ি, গুড়, চিনি ও পানিসহ শুকনো খাবার নিয়ে কাঠের লক্কর-ঝক্কর ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমাচ্ছে। বিগত মাসখানিকের মধ্যে মালয়েশিয়াগামীতে বড় বড় কয়েকটি চালান উক্ত মিলের ঘাট থেকে পাচার করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে গঠিত আদম পাচারকারী দালাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় জনৈক গিয়াস উদ্দিন বাবুল ও অপর কয়েকজন। উক্ত দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাত্রা করতে গিয়ে অনেক হতভাগ্য নিখোঁজ হয়ে গেছে। মাঝ সমুদ্রে মারা গিয়েছে অনেকেই। সম্প্রতি জালালাবাদ ফরাজী পাড়ার জনৈক শিক্ষিত বেকার যুবক এদের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়া যাত্রা করে থাইল্যান্ড সীমান্তে সমুদ্র উপকূলে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছে। উক্ত হতভাগ্যের স্ত্রী ২ বছর বয়সী কন্যা সন্তান নিয়ে এখন স্বামী শোকে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

 

নির্বাচন আসলেই শুধুমাত্র প্রতিশ্র“তি ইসলামাবাদ গজালিয়ার ২০ হাজার গ্রামবাসী নদী ভাঙ্গন কবলে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আযাদ, ঈদগাঁও অফিস। জেলার বাণিজ্যিক এলাকা এলাকা নামে খ্যাত বৃহত্তর ঈদগাঁও’র অন্যতম ইউনিয়ন ইসলামাবাদ গজালিয়ার প্রায় ২০ হাজার গ্রামবাসী নদীর ভাঙ্গন কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৫ একর জমি ইতিমধ্যেই নদী গ্রাস করে ফেলেছে। এতে করে ওই এলাকার অসহায় কৃষকেরা মাথা গোচার একমাত্র সম্বলটি হারিয়ে অনেকে দিশেহারা হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়ার প্রায় ২০ সহস্রাধিক জনগণ জীবনের ঝূঁকি নিয়ে নৌকা পারাপারের মাধ্যমে তাদের জীবন পরিচালিত করে আসছে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়ায় প্রতিদিন ওই এলাকার লোকজন ঈদগঁাঁও বাজারে আসলেও এক সময় সপ্তাহে ২ দিন তথা শনি ও মঙ্গলবার হাট বাজারে আসত। এক সময় গোটা বৃহত্তর ঈদগাঁও এক ইউনিয়ন থাকার সময়ে ও ওই পারের লোকজন পায়ে কিংবা নৌকার সাহায্যে পারপার করত। তাছাড়া ইউপি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন আসলেই ওই এলাকার ভোটারের মন জয় করতে কলাকৌশল হিসেবে নদীর উপর ব্রীজ করে দেওয়ার কথা বলে মন ভূলিয়ে ভোট আদায় করে থাকে। অথচ প্রতি বর্ষাতে ওই পারের বিশাল এলাকা নদীর ভাঙ্গন কবলে পড়ে বিলীম হয়ে গেছে। গজালিয়া এলাকার মাতবর বাড়ীর কৃতি সন্তান শহিদুল হক বাবুল জানান, এক সময় নদীটি স্থানীয় রেঞ্জ অফিসের পার্শ্ববর্তী হয়ে নদীর পশ্চিমাংশের বর্তমান বালুচর এলাকার উপরই নদীটি ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে ঈদগাঁও ছড়ার এ নদীটি গজালিয়ার  বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তিদের জমি একেবারেই নদীতে একাকার হয়ে গেছে। প্রতি বছর এ নদীটি গোটা গজালিয়া গ্রাস করে ফেলেছে। এ গ্রাস অব্যাহত থাকলেও সময়ের ব্যবধানে হয়তো গোটা গজালিয়া গ্রামবাসী এক সময় নদীর সাথে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গজালিয়া ২০ সহস্রাধিক জনগণকে নদীর কবল থেকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ ও ব্রীজ স্থাপন করা গজালিয়াবাসীর গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। অন্যতায় ওই এলাকার লোকজনের জীবন শংকামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন শহিদুল হক বাবুলসহ ওই ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এছাড়া জীবনের ঝূঁকি নিয়ে বর্ষাতেই ওই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা নদী পারাপার হয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাতে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। চলতি বর্ষাতেই নৌকা ডুবে ৬/৭ জন ছাত্র-ছাত্রী নদীতে ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তদন্ত পূর্বক স্থায়ী ভাবে ব্রীজ ও টেকসই বেড়িবাঁধ স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যতায় ওই এলাকার লোকজন জীবনের ঝূঁকি নিয়ে তাদের জীবন পরিচালিত করবে বলে একাধিক লোকজন জানিয়েছেন। ====================================== ঈদগাঁওয়ের প্রবীন শিক মাস্টার ফরিদুল আলম আর নেই, বিভিন্ন মহলের শোক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আযাদ, ঈদগাঁও অফিস। সদর উপজেলার ইসলাবাদ ইউনিয়নের বোয়ালখালী গ্রামের প্রবীন শিক, এবং ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা আবু বক্কর ছিদ্দিকের শ্বশুর মাস্টার ফরিদুল আলম (৬৫) ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি…………..রাজেউন। ওই দিন বিকেলে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার মৃতুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন জেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের সভাপতি শিাবিদ অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক দল সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সহ সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল রাহাতসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। তারা শোকবানীতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ঈদগাঁওতে গ্যারেজ শ্রমিককে মারধরকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত-২, প্রতিবাদে সকল ওয়ার্কশপ বন্ধ এস. এম. তারেক, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে গ্যারেজ  শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় দু’ গ্যারেজ শ্রমিক আহত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা’য় ঈদগাঁও বাস ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঈদগাঁও মাইক্রো মালিক সমিতির সভাপতি শফিউল আলম  গ্যারেজ শ্রমিক সবুজ (২২) কে মারধর করে। ঘটনার বিচার দাবী করে, পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল থেকে গ্যারেজ শ্রমিকেরা তাদের সকল গ্যারেজ বন্ধ রাখে। অন্যদিকে শফিউল আলম,  আপেল (২৪) নামক এক গ্যারেজ শ্রমিকের নিকট হতে আড়াই হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। আপেলের সতীর্থ সবুজ হামলার শিকার হওয়ায় অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে আপেলও তাদের দাবীর প্রতি একাতœতা ঘোষনা করে। এতে শফিউল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে আপেলকে পাওনা টাকা পরিশোধের তাগিদ দেয়। আপেল দেরী না করে বন্ধু বান্ধবদের নিকট হতে ধারকর্জ করে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য শফির দোকানে গেলে শফি টাকাগুলো হাতে নিয়ে কোন কথাবার্তা ছাড়া আপেলকে বেধড়ক পিটুনি দেয় এবং এতে আপেলের মাথা ফেটে যায়। এ  সংবাদ অন্যান্য শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং  জোট বেঁধে শফির দোকানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সংবাদে  ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ও জেলা যুবলীগের সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান আজাদের সহায়তায় তাদের নিবৃত্ত করা হয়। আইসি মনজুর কাদের ভুঁইয়া জানান, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে গ্যারেজ খোলা থাকলেও শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেয়ায় কোন গাড়ী মেরামত হয়নি গ্যারেজগুলোতে। আহত সবুজ এবং আপেল  জানান, শফি তাদের অন্যায়ভাবে মারধর করেছে এজন্য তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবী করেন। যুবলীগ নেতা লুৎফুর রহমান আজাদ জানান, তিনি সময়মত ঘটনাস্থলে এসে না পৌঁছালে ঘটনা আরো অনেকদুর পর্যন্ত গড়াতে পারত। এ ব্যাপারে শফির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা কিছু শ্রমিক তার দোকানে হামলা চালিয়ে ক্যাশ ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কারা এ হামলার সাথে জড়িত তিনি তা জানাতে পারেননি। বাসষ্টেশনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।  ২১ সেপ্টেম্বর’১৩

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT