টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মানবসমাজে এতগুলো ধর্ম কেন?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ২৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

allahআল্লাহ যদি এক ও অদ্বিতীয় হয়ে থাকেন তবে এতগুলো ধর্ম অস্তিত্বে আসার কারণ কী? ধর্মের উৎস আল্লাহতাআলা। অতঃপর মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মে, ধর্মীয় বিধানাবলিতে সংযোজন-বিয়োজন আরম্ভ করে দেয়, উদ্দেশ্য, একে অন্যের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা কুফরী করেছে, আজ তারা তোমাদের দীনের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছে। সুতরাং তোমারা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩)

আল্লাহতালা কাউকে তার সামনে আত্মসমর্পিত হতে বাধ্য করেন না। তিনি কেবল স্থাপন করেছেন সচ্ছ-সরল একটি পথ, অতঃপর মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন দু’টি রাস্তা (একটি বেহেশতের ও অপরটি দোযখের)। আর প্রতিটি ব্যক্তিকেই দিয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন স্বাধীনতা ভোগ করে তার নিজের পছন্দের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার।

ইরশাদ হচ্ছে, ‘দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়েত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগুতকে ( মিথ্যা উপাস্য ও মিথ্যা ইবাদত-আরাধনা) এর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনে, সে শক্ত রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে, যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

আরও ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা ইমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৭)

ইসলামি জীবন পদ্ধতিতে জোরজবরদস্তি নেই। যে ব্যক্তি অংশীদার স্থাপন করা থেকে দূরে অবস্থান করে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদতে ব্রতি হয় এবং নিজেকে আরোপিত করে আল্লাহর নির্দেশমালায়, ইলখাস-ঐকান্তিকতাসহ এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষিদ্ধ বিষয়-বস্তু থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে, সে তার মুঠোয় পেয়ে শক্ত রজ্জু যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকার করে এবং ইবাদত-আরাধনার অন্য কোনো পথ বেছে নেয়, অথবা আদৌ কোনো বিশ্বাসই পোষণ করে না, তার জন্য রয়েছে অনন্তকালের শাস্তি, নারকীয় জীবন, জাহান্নাম। সত্যকে অস্বীকার এবং আল্লাহর পক্ষ হতে দেওয়া জাজ্বল্যমান প্রমাণাদি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়ার ফলে মানুষ বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ে বিভক্ত হতে শুরু করল।

ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর কিতাবীরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরই কেবল মতভেদ করেছে। আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তারই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, আর এটিই হল সঠিক দীন।’ (সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৪-৫)

আল্লাহ মুসলমানদেরকে সতর্ক করেছেন, তারা যেন তাদের পূর্ববর্তীদের মতো একই ফাঁদে পা না রাখে, পরস্পরে মতদৈত্যতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে গিয়ে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব। সেদিন কতক চেহারা সাদা হবে এবং কতক চেহারা হবে কালো। আর যাদের চেহারা কালো হবে ( তাদেরকে বলা হবে) তোমরা কি ইমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা আযাব আস্বাধন কর, কারণ তোমরা কুফরী করতে।’ ( সুরা সূরা আল ইমরান, আয়াদ :১০৫-১০৬)

মানুষেরা ওহীর ব্যাপারে নানা প্রকার মিথ্যা ছড়িয়েছে, তারা পবিত্রগ্রন্থসমূহ নিজ হাতে পরিবর্তন করেছে, তারা নবীদেরকে নির্যাতন, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করেছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা নিজেদের জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা সেটা কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ সেটি কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে,’ অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে, অথচ তারা জানে। কোনো মানুষের জন্য সংগত নয় যে আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওত দান করার পর সে মনুষকে বলবে, ‘ তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও।’ বরং সে বলবে, ‘ তোমরা রব্বানী হও।’ যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৭৮-৭৯)

আল্লাহর নবীগণ মানুষদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের প্রতিই আহ্বান করেছেন, যিনি অদ্বিতীয়, যার কোনো অংশীদার নেই। নবীগণ তাদের নিজেদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করতে কখনো আহ্বান করেননি। তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করতে বলেননি।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনি নির্দেশ করেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদেরকে রব রূপে গ্রহণ কর। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবেন?’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৮০) মানবরচিত ধর্ম আল্লাহর কাছে সমধিক ঘৃণ্য-তিরস্কৃত বিষয় যা কখনো আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা তারই আনুগত্য করে, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, এবং তাদেরকে তারই নিকট প্রত্যাবর্তন করা হবে।’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৮৩)

আল্লাহ তো কেবল সত্যিকার বশ্যতাকেই কবুল করেন, সত্যিকার আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশমালাকে তৃপ্ত ও অকপট হৃদয়ে মেনে নেওয়াকেই তিনি গ্রহণ করেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৮৫) আল্লাহর প্রতি ইমান-বিশ্বাস এবং তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, মেনে চলার প্রতি আহ্বান করা সকল সকল নবী-রাসূলদের মিশন ছিল, যারা ছিলেন সন্দেহাতীতভাবে একত্ববাদী।

(আরবি থেকে অনুবাদ আবুশুআইব মুহাম্মাদ সিদ্দিক)

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT