টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

মহেশখালীর পাহাড়ে অস্ত্রের ৩০ কারখানা, ১৫০০ টাকায় মেলে বন্দুক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
আবু তাহের, মহেশখালী থেকে ফিরে **

সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর। হত্যা, দখল আর প্যারাবন নিধন এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এ দ্বীপের পাহাড়ে গড়ে উঠেছে ৩০টিরও বেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা। সেখানে মাত্র দেড় হাজার টাকায় মেলে বন্দুক। বিভিন্ন হাত ঘুরে দ্বীপে তৈরি অস্ত্র যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, মহেশখালীর কারখানায় রাতদিন অস্ত্র তৈরির কাজ করছেন শতাধিক কারিগর। লম্বা বন্দুক, পিস্তল, রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে তারা দক্ষ। উপজেলার কালারমারছড়া, হোয়ানক, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী ও বড় মহেশখালীর পাহাড়ে কারখানাগুলোর অবস্থান। দেড় হাজার টাকায় অস্ত্র মিললেও প্রকারভেদে দাম ওঠানামা করে। কিছু অস্ত্রের দাম ১০ হাজার টাকারও বেশি। দ্বীপে গত তিন বছরে ১৫টি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতার হয়েছেন ২৭ কারিগর। তবুও থামেনি অস্ত্র তৈরি ও বেচাকেনার জমজমাট ব্যবসা।

জানা যায়, বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়তলী এলাকার গহিন জঙ্গলে গত বুধবার সকালে একটি অস্ত্রের কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে দু’জন কারিগর আটক করা হয়। উদ্ধার হয়েছে ২২টি বন্দুক, পিস্তলসহ অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম। আটকরা হলেন_ একই এলাকার আবদুল মাবুদ ও ছোট মহেশখালীর আবু তাহের। র‌্যাব সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দু’জন অস্ত্রের কারখানা ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছেন।
জানা যায়, বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকায় অস্ত্র তৈরির নামকরা কারিগর ছিলেন বাদশা মিয়া মিস্ত্রি। পাঁচ বছর আগে তিনি মারা যান। তার কাছ থেকে অস্ত্র তৈরি করা শিখেছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে বাদশা মিয়ার ছেলে জাফর, ভাতিজা শামসু অন্যতম। তাদের হাত ধরেই ওই এলাকায় অস্ত্র তৈরির আরও কারিগর তৈরি হয়েছে।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কমান্ডার আশেকুর রহমান বলেন, মহেশখালীর পাহাড়ে সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা কারখানা গড়ে তুলে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করছেন। সেসব অস্ত্র স্থানীয় সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, জলদস্যু ও ডাকাতরা কিনছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার
ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেট সদস্যদেরও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
অজানা আতঙ্ক, নিরাপদ নয় কেউ :২৬৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহেশখালী দ্বীপ ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। উত্তর-দক্ষিণ লম্বা দ্বীপকে বিভক্ত করেছে পাহাড়। পাহাড়ে একসময় ঘন আচ্ছাদিত বন থাকলেও এখন তেমন বৃক্ষ নেই। পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য পানের বরজ। এ সুযোগে দুর্গম পাহাড়কে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা।
মহেশখালীর হোয়ানক বাজারে একজন পানচাষি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্যও নিরাপদ নয়। ইতিপূর্বে পাহাড়ে অস্ত্র কারখানায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে পুলিশের এসআই পরেশ কুমার কারবারি নিহত হয়েছেন। এছাড়া অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে খুন হয়েছে আরও অনেকই। সবার মধ্যেই কাজ করে অজানা আতঙ্ক।
কালারমারছড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ২ বছরে শুধু এ ইউনিয়নে খুন হয়েছেন ১৩ জন। এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী। তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, এ ইউনিয়নে দুই বছরে ছয়টি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের রয়েছে ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের একাধিক বাহিনী। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শাপলাপুরের পাহাড়েও রয়েছে বেশ কিছু অস্ত্রের কারখানা। হাত বাড়ালেই এখানে পাওয়া যায় বন্দুক ও শর্টগান।
অভিযানের আগেই খবর যায় পেঁৗছে :সূত্র জানায়, কড়ইবনিয়া, পুটিরঝিরি, সারসিয়া, গুলুরবরঘোনা, মরাঝিরি, মুদিরছড়া ঢালাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অস্ত্র তৈরি হচ্ছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী ও কারিগরদের রয়েছে নির্ভরযোগ্য সোর্স। অভিযানের খবর সোর্সদের মাধ্যমে দ্রুত তাদের কাছে পেঁৗছে যায়। প্রতিটি কারখানার পরিবেশ অনেকটা কামারের দোকানের মতো। সেখানে রয়েছে লেদ মেশিন, কয়লা পোড়ানোর যন্ত্র (বাদি), বিভিন্ন আকারের লোহার পাত, বন্দুকের হাতল তৈরির জন্য সাইজ মতো কাঠসহ বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম। কারখানাগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, তা খুব দ্রুতই স্থানান্তর করা যায়।
মহেশখালী থানা পুলিশ জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় পুলিশ অভিযানে যাওয়ার আগেই অস্ত্র ব্যবসায়ী ও কারিগররা নিরাপদে সরে পড়েন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT