টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মধ্যসত্ত্বভোগীরা নিয়ন্ত্রন করছে পেঁয়াজের বাজার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ONION_PRICE- চাহিদা ও আমদানি সংকটকে পুঁজি করে ‘মধ্যসত্ত্বভোগীরা’ নিয়ন্ত্রন করছে পেঁয়াজের বাজার। আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ‘মধ্যসত্বভোগীরা’ ক্রমান্বয়ে বাজারে পণ্য ছাড়ছে। ফলে একদিকে যেমন বাজারে সংকট থেকে যাচ্ছে অন্যদিকে সরকারের কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

দিন দিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দাম আরো বাড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের অদূরদর্শীতা ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ভারতে প্রতিনিয়ত মূল্য বৃদ্ধি, সরকারের বাজার তদারকির অভাবের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ ও সংকট নিরসন করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বাংলাদেশের চাহিদার  ৬০-৭০ শতাংশই মেটানো হয় আমদানি করা  পেঁয়াজ দিয়ে। এর পুরোভাগই আসতো ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর হয়ে। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভারতের যে সব রাজ্য থেকে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সেসব রাজ্যে অতি বৃষ্ঠির কারনে এবছর পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যহত হয়। ভারতেই সৃষ্ঠি হয় পেঁয়াজ সংকট। পূর্ব থেকে বিকল্প বাজার সৃষ্ঠি ‍না করায় বাংলাদেশে দফায় দফায় বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৬৫০ ডলারে। কিন্তু শুক্রবার থেকে ভারত সরকার তা নির্ধারণ করে ৯০০ মার্কিন ডলার। পাকিস্তানে কয়েক মাস আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৭ থেকে ২৯ টাকার মধ্যে। বর্তমানে তা দাড়িয়েছে ৩৬ টাকা থেকে ৪৩ টাকা। মিয়ানমারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা।

দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে রোববার সকালে ভারতের সাউথ পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫-৬০। নাসিক পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০টাকা। পাকিস্তানি ৫৫-৬০ টাকা। মিয়ানমার ৬৭-৭০। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৬৫।

রোববার নগরীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

মধ্যসত্ত্বভোগী:

বাজারের চাহিদা ও সংকটকে পুঁজি করে কমদামে আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করছে আমদানিকারক ও মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার যারা ৬৫০ ডলারে পেঁয়াজ আমদানি করেছে তারা শনিবার ৯০০ ডলারেই বিক্রি করছে। তাই পাইকারি দরও বাড়াতে হয়েছে। এছাড়া আমদানিকারক বিভিন্ন অজুহাতে বন্দরে আসা পেঁয়াজ খালাস করছে না বেশি দামে ছাড়ার জন্য।

খালাস করলেও অতি ধীর গতিতে করা হচ্ছে। যাতে বাজারে সংকট থাকে। একইভাবে আমদানিকারকদের কাছ থেকে যারা পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে ছাড়ছে তারাও একই কায়দা অবলম্বন করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে বন্দরে প্রায় ১০ কনটেইনার পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। যা পূর্বের দামে আমদানি করে বর্তমান দামে ক্রমান্বয়ে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চাহিদার হিসাব নেই সরকারের কাছে :

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বছরে ২৩ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয় তথ্য অনুযায়ী,  এ বছর দেশে ১৯ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সে হিসাবে দেশে পেঁয়াজ উদ্ধৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু গত আগস্ট মাস থেকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে থাকে।

সংশ্লিষ্ঠদের বক্তব্য:

খাতুনগঞ্জ হক স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদ  বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ না থাকায় দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০-৫০টি ট্রাকে পেঁয়াজ আসতো সেখানে এখন আসছে মাত্র ৫-৭টি। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বাংলানিউজকে বলেন, সরকার শুরু থেকে আমদানিকারকদের বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে উৎসাহিত করলে এ সমস্যা হতো না।

হিলি স্থল বন্দরের আমদানিকারক মো. শহীদ বাংলানিউজকে বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন ২০-২৫টি ট্রাকে পেঁয়াজ আসলেও বর্তমানে আসছে ১০-১৫টি। দিন দিন ভারত সরকার দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ আমদানি করছে না।

টিসিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা কাজী মো. ইফতেখার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি ভারত থেকে ১’শ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জন্য ১০টন পেঁয়াজ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ৫৫ টাকা করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হবে। প্রতিজন এক কেজি করে নিতে পারবে।

কনজিউমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, সরকারি সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের অদূরদর্শীতা ও আন্তরিকতার অভাবে পেঁয়াজের এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশে কি পরিমান পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে তার কোন সঠিক হিসাবও নেই সরকারের কাছে।

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT