হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

ভোটারদের আগ্রহ নেই উপজেলা নির্বাচনে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: উপজেলা নির্বাচনের প্রতি ভোটারের খুব একটা আগ্রহ নেই। নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে প্রথম ধাপের নির্বাচনে মাত্র ৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। নির্বাচনের প্রতি এদেশের মানুষের আগ্রহ সব সময়ই বেশি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ স্বতস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনী এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

তবে এবারের নির্বাচনের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। অনেক উপজেলায় বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছে। ভোটাদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোন আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নেতিবাচক প্রভাব সিটি কর্পোরেশন এবং উপজেলা নির্বাচনে পড়ছে। ভোট ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। কারণ ভোট এখন আর মানুষকে দিতে হয় না। আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখা হয়। এ ছাড়া ভোট দিলেও যার পক্ষে ভোট দিয়েছে তার পক্ষে গণনা করা হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না। মানুষ ভোট দিতে গিয়েও ভোট দিতে পারে না। কেন্দ্র থেকে ফিরে আসতে হয়। পুরো বিষয়েই কারসাজি বিদ্যমান। এসব কারণে ভোট নিয়ে মানুষের মনে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এ জন্য নির্বাচনের প্রতি, নির্বাচন কমিশনের প্রতি ভোটারদের এখন আর আস্থা নেই।
এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মোট পাঁচটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চারটি ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় নির্বাচনও হয়ে গেছে। এউ চারটি ধাপে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয় পেতে যাচ্ছেন শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এর মধ্যে অর্ধশতাধিকই উপজেলা চেয়ারম্যান।
গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সারাদেশে ৬৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপের জন্য নির্বাচন কমিশন ৮৭টি উপজেলার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ৪টি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ৩টি উপজেলায় ভোট স্থগিত হয়। এছাড়া ১১টি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় ৬৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা যায় যে, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ জন, তৃতীয় ধাপে ২১ জন এবং বাকিরা চতুর্থ ধাপে একক প্রার্থী হয়েছেন। আইন অনুযায়ী তাদের বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনেও জাতীয় নির্বাচনের মতো আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরার ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য এক উপজেলার তিন জন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। নির্বাচনে বেশির ভাগ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দিনভর ভোটারদের অপেক্ষায় কেন্দ্রে বসে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ঘুমানোর দৃশ্য দেখা গেছে। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তার পরও নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে জানা যায় প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৩৩শাতাংশ মত ভোট পড়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রভাব এর পরের সব নির্বাচনের ওপরে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে যত যাই কিছু বলা হোক না কেন নির্বাচনগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে কমছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিকদল অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নির্বাচনে তেমন কোন প্রতিদ্ব›িদ্বতা নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯৬জন চেয়াম্যান বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি উপজেলাগুলোতেও সরকার দলীয় প্রার্থী জয়ী হবেন এমন ধারণা সবার মনে। এ সব কারণে ভোটাররা ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
তবে নির্বাচনের প্রতি বা নির্বাচন কমিশনের প্রতি ভোটরদের আস্থা নেই এমন অভিযোগ মানতে নারাজ প্রধান নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য হলো সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও নির্বাচন বেশ ভাল হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ হিসাবে সিইসি বলেন, বড় একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে গণতন্ত্র ও খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। ভোট ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। কারণ ভোট এখন আর মানুষকে দিতে হয় না। নির্বাচনের পুরো বিষয়েই কারসাজি বিদ্যমান। এসব কারণে ভোট নিয়ে মানুষের মনে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় একই দিনে ৪৭৫টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ২০১৪ সালে ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়। এবার দলীয় প্রতীকে মোট পাঁচটি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.