টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ভিন্নতর অনির্বাচিত সরকার, নেপথ্যে আ.লীগের ‘সেফ এক্সিট’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 বিশেষ প্রতিনিধি: দেশে আবারো একটি অনির্বাচিত সরকার আসছে। তবে, অনির্বাচিত হলেও এবারের সরকার হবে আগের চেয়ে ভিন্নতর ও সেই সঙ্গে কিছুটা রাজনৈতিকও। নেপথ্যে ক্ষমতাসীনদের ‘সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান’।
সব রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নতুন এই সরকারে থাকবে বিশেষ ক্ষমতাধররা। প্রধান দুই দল ও জোটের পরস্পর বিরোধী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির অন্দরমহলে তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র আভাস দিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৫ অক্টোবর। সে হিসেবে তাদের হাতে সময় আছে মাস দুয়েক। আগামী নির্বাচন কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে এখনো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে চলছে টানাপড়েন।
সংলাপ ও সমঝোতার কোনো লক্ষণ নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন ও সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলেই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের। একই আশঙ্কা করে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সে ধরনের কিছু হলে তার দায় নিতে হবে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে।
এদিকে, এরই মধ্যে পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে কূটনীতি। সেই কূটনীতি আবার মাঝে মধ্যে পর্দা ভেদ করে আলো ছড়াচ্ছে বাইরেও। বৈঠক এখন ড্রয়িংরুম ছাড়িয়ে বিভিন্ন হোটেল, সচিবালয়, গণভবন এবং বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে, নিজে ক্ষমতায় থেকেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত অনঢ় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ। দেশে- বিদেশে বিভিন্ন সভা ও বৈঠকে শেখ হাসিনা এ কথাই বলছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।
এদিকে,  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল অংশগ্রহণ করবে না। আর সরকারের একগুঁয়েমির কারণে গণতন্ত্র বিনষ্ট হলে এর দায়দায়িত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।
গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্টের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনার সঙ্গে বৈঠকেও বিরোধীদলীয় নেতা একথাই বলেছেন। দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার ইস্যুতে সরকার সমঝোতায় এলে নির্বাচন তিন মাস পিছিয়ে দিতেও বিএনপির আপত্তি নেই বলেও বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। আর সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে লাগাতার হরতালে যাবে বিএনপি।
পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সবকটিতেই জয়ী হওয়ায় আগামী দিনের আন্দোলনের সফল হওয়া নিয়ে বিএনপি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বলেও জানা গেছে। তাছাড়া, এই নির্বাচরে পরে পশ্চিমাদেশগুলোসহ বিদেশ কূটনীতিকরাও বিরোধী দলকে আগের চেয়ে বেশি কদর করছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের আন্দোলনকে রাজপথে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট। সরকার ও মহাজোটের একাধিক নীতিনির্ধারক ইতোমধ্যেই বলেছেন, আন্দোলনে দাবি পূরণ নয়, বরং বিরোধী দলই সরকারের কথা মানতে বাধ্য হবে।
গত ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের এক কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না।
রাজনৈতিক এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দেশে-বিদেশে গুঞ্জন উঠেছে, প্রধান দুই দলের হানাহানির মধ্যে বাংলাদেশে আবারো আসছে একটি অনির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার, যেখানে থাকবে সুশীল সমাজের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। এ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজনীতির অন্দরমহল।
আগামী দিনে আসলে কি হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে নান কানাঘুষা। রাজনীতির মাঠে গুঞ্জন রয়েছে, দু’দলের মধ্যে সমঝোতা বা সংলাপের কোনো সম্ভাবনাই নেই। আছে সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা।
এ অবস্থায় সব ধরনের চেষ্টা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে সময় থাকতেই পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। তবে, শেষ পর্যন্ত তা না পরলে মহাজোট সরকার ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করতে একটি ব্যতিক্রমী ধরনের সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে শেষ পর্যন্ত সম্মত হতে পারে। আর সেটি হবে আগামী অক্টোবরের পর যে কোন সময়, তাতে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনও থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম আরটিএনএন-কে বলেন, ‘আমরা কেউই চাই না যে, অসাংবিধানিক কোনো সরকার ক্ষমতায় আসুক। তবে, এ ধরনের সরকার আসার যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, দুই জোটের অনমনীয় অবস্থানে সে গুঞ্জন আরো শক্তিশালী হচ্ছে।’
‘আর একথা বলা যায় যে, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে অরাজনৈতিক ও অনির্বাচিত সরকার ক্ষতায় আসা অনিবার্য হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে কে কী চাইল, না চাইল আর কী ইচ্ছা আর অনিচ্ছা তার ওপর কিছু নির্ভর করবে না’ যোগ করেন তিনি।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সমঝোতায় আসার মাধ্যমে আগামীতে অসাংবিধানকি সরকারের ক্ষমতায় আসা রুখতে পারে মন্তব্য করে ড. পিয়াস করিম বলেন, ‘কিন্তু সে ধরনের সমঝোতার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপকক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ নজরুল আরটিএনএন-কে বলেন, ‘রাজনৈতিক দুই প্রধান পক্ষ সমঝোতার পরবির্তে সংঘাতে জড়ানোর মাধ্যমে তৃতীয় কোনো পক্ষ ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে, দেশের প্রধান দুই নেত্রী ওয়ান-ইলেভেনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভুলে না গেলে এমনটি হবে না। আর তা মনে না রাখলে ডেফিনেটলি ওয়ান ইলেভেনের মতো বা আরো ভয়াবহ সরকার ক্ষমতায় চেপে বসবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার একই আশঙ্কা জানিয়ে আরটিএনএন-কে বলেন, ‘অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে দেশ আছে। প্রধান দু’দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে সঙ্ঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছে। ফলে যে কোনো সময় দেশে যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।’
সুজন সম্পাদক আরো বলেন, ‘২০০৭ সালে বিএনপি জোটের একতরফা নির্বাচনের চেষ্টাকালে অনিশ্চয়তা ঠেকাতে ভিন্ন ধাঁচের সরকার এলেও সংবিধানে সে সময় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকায় সামরিক শাসন এড়ানো গেছে। কিন্তু এবার সংবিধানে সে ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখন করো পক্ষেই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
‘তাই সময়ক্ষেপণ না করে কেবল প্রধান দু’দলই নয়, সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও পেশাজীবী সমাজসহ সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী বিষয় নিয়ে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে’ যোগ করেন তিনি।
বদিউল আলম বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। আর তা না হয়ে গণতন্ত্র যদি ভেঙ্গে যায়, তখন রাষ্ট্রের শূন্য অবস্থান পূরণ হবে অন্যভাবে- যা আমরা কেউই চাই না।’

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT