টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

leather-market-এবার ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানি পশুর চামড়া। তবে যারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চামড়া বিক্রি না করে সরাসরি ট্যানারি শিল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে চামড়া বিক্রি করছেন শুধুই তারাই ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

চামড়া ক্রেতারা জানান, বিগত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এবারই চামড়ার দাম চড়া।

ঘুরে দেখা গেছে, পাড়া মহল্লায় সিন্ডিকেটের মধ্যে কয়েকজন চামড়া সংগ্রহ করছেন পানির দরে। ১৫ জন বন্ধু এক হয়ে নিজ মহল্লায় চামড়া সংগ্রহ করছেন। এতে করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে চামড়া বিক্রেতাদের।

এখানে তিনটি ক্যাটাগরিতে চামড়া বিক্রি করতে দেখা গেছে।  চামড়ার দাম একটু কম থাকলেও থেকে চামড়ার দাম বাড়তে থাকে। গরুর ভালো মানের চামড়া সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া মাঝারি মানের চামড়া ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০  টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর পরের ক্যাটাগরির চামড়া বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় । তবে এ দাম অনেকের ভাগ্য জোটেনি। ততক্ষণে চামড়া মধ্যসত্ত্বভোগীদের হাতে চলে গেছে।

সৈকত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটিডের প্রধান হিসাবরক্ষক শাহ আলম  বলেন,‘এবার আমরা ভাল দামে চামড়া কিনছি যা বিগত ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় আমরা বেশি দামে চামড়া কিনছি। ট্যানারির সঙ্গে জড়িত থাকা সত্ত্বেও এবার আমরা চামড়া কিনতে হিমশিম খাচ্ছি।’

তবে যারা ট্যানারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করলেই ভাল দাম পাচ্ছেন। তবে হাত বদলের মাধ্যমে চামড়া যদি মৌসুমি ব্যবসায়ী বা ফঁড়িয়াদের হাতে চলে যায় তবে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কোরবানিদাতারা।

এবার ছাগলের চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কোরবানির ঈদে যা বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে।

 

না লাভ না লোকসানে হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা

বড় চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা তাদের লোকজন দিয়ে সিন্ডিকেট করে চামড়া কিনছেন।
তাদের আরো অভিযোগ, সকালের দিকে বেশি দামে চামড়া কিনে ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়া সংগ্রহের একটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হয়। এরপর হঠাৎ করে ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কিনতে শুরু করেন।
তারা জানান, ইতোমধ্যে, যেসব ব্যবসায়ী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চামড়া সংগ্রহ করে ফেলেছেন, তারা বিপদে পড়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আশানুরূপ লাভ না হলেও খুব একটা লোকসান হচ্ছে না বলে জানান তারা।
ক্ষুদে চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন টিপু। সারা বছর ধানমন্ডি এলাকায় ফিল্টার পানির ব্যবসা করলেও বছরে একবার কোরবানির সময় চামড়ার ব্যবসা করেন।
টিপু বাংলানিউজকে বলেন, ‘গড়ে দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকায় একেকটি চামড়া কিনেছি। এখন এ চামড়ার দাম ২১৫০ টাকা থেকে ২৩০০ টাকা বলছে ট্যানারির প্রতিনিধিরা।’
কয়েকশ চামড়া কিনতে তার অধীনে ৭০ জন ছেলে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকালের দিকে ট্যানারির মালিকরা যে দামে চামড়া কিনেছেন, এখন সে দামও বলছেন না। এত কম দামে চামড়া ছেড়ে দিলে নিজেরা কী লাভ নেবো, আর ছেলে-পুলেদেরইবা কী দেবো!’
বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০টি চামড়া সংগ্রহ করে রাজধানীর সিটি কলেজের সামনে ট্যানারি মালিকদের কাছে তা বিক্রি করতে আসেন হাজারীবাগের কিশোর কুমার দাশ (৩০)।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, বিভিন্ন আকারের চামড়া কেনেন তিনি। কিন্তু, বিক্রি করতে এসে ট্যানারি মালিকরা না মেপে চোখের আন্দাজের ওপর চামড়ার কিনতে চাচ্ছেন। তারা গড়ে চামড়ার দাম বলছেন ২১০০-২২০০ টাকা।
কিশোর জানান, তার চামড়ার মধ্যে বেশির ভাগই মাঝারি সাইজের। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ৪০ ফুটের চামড়া রয়েছে। ৮০ টাকা দরে ৪০ বর্গফুটের চামড়ার দাম হবে ৩২০০ টাকা। দাম কম দিতেই ট্যানারি মালিকরা মাপ-জোখের হিসাবে না গিয়ে চোখের আইডিয়ার ওপর হিসাব করে গড় দাম ধরে কিনছেন।’

চামড়ার দামের বিষয়ে উপস্থিত গ্রিন অ্যারো ট্যানারির অংশীদার মালিক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চামড়ার দাম বেশ ভালো। সকাল থেকে চামড়া সংগ্রাহকরা বেশি দাম চাইছেন। তারা দাম বেশি না পেলে চামড়া বিক্রি করতে চাইছেন না। আশা করি, বিকেল কিংবা সন্ধ্যা নাগাদ তারা কম দামে চামড়া ছেড়ে দেবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দাম দিয়ে চামড়া কিনছি।’
বেশির ভাগ মধ্যম সারির চামড়া ব্যবসায়ী ও ক্ষুদে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রত্যাশিত পরিমাণ লাভ না পেলেও মোটামুটি লাভ হচ্ছে। খুব একটা লোকসান হবে না বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে ক্ষুদে চামড়া ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘যতটা লাভ হবে চিন্তা করেছি, ততটা হচ্ছে না। তবে চামড়ার দাম মোটামুটি ভালো। আশা করি, লোকসান হবে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ফুট ও চামড়ার মানের ওপর ভিত্তি করে চামড়া কেনাবেচা হলে সবাই লাভবান হতে পারতেন। এখন কেউ কেউ নিয়ম মানছেন আবার অনেকেই নিয়ম মানছেন না।’
বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হাই বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবার চামড়ার দাম ভালো। চামড়ার দাম বাড়া-কমার সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এখন ক্ষুদে ব্যবসায়ীরাই একবার চামড়ার দাম বাড়ায় আবার তারাই চামড়ার দাম কমায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লবণযুক্ত চামড়া কিনবো আরো ১৫/২০ দিন পর।’   উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে।
ঢাকার লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ও ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দাম সবখানেই ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ছাগল, ভেড়া ও মহিষের লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারিত হয়েছে সবখানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT