টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বড়দের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ! ‘এটা নেবো না, ওটাও নেবো না, কার্টুন আঁকা জামা নেবো’-

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৩
  • ৩৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Khulna-eid-b‘এটা নেবো না, ওটাও নেবো না, কার্টুন আঁকা জামা নেবো’- ঈদের নতুন পোশাক কিনতে এসে শিশুদের এই পছন্দ-অপছন্দের বায়নায় অভিভাবকরা ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে।

শিল্পনগরী খুলনার শপিং কমপ্লেক্স, আড়ং, মীনা বাজার, নিউমার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, জলিল মার্কেট, আক্তার চেম্বার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট ও ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

ছোট্ট সিফাতের (৮) পছন্দ ডোরেমন ও সুপারম্যানের ছবি সম্বলিত টি-শার্ট। কিন্তু একই পোশাকে দুইটি কার্টুনের ছবি মেলানো সম্ভব হচ্ছে না তার মা ফিরোজা বেগমের। তবুও বাচ্চার চাওয়াকে প্রধান্য দিয়ে ঘুরছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। বোঝানোর চেষ্টা করছেন, একই জামায় দুই কার্টুনের ছবি থাকে না।

একইভাবে বাচ্চার পছন্দের পোশাক মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নাজমা সুলতানা। প্রজাপতি আঁকা পোশাক চাই তার মেয়ে সুমাইয়ার (৬)। কিন্তু প্রজাপতি আঁকা যে জামা তিনি পান তার কাপড় মোটা। গরমে কোনোভাবেই বাচ্চাকে তা পরানো সম্ভব নয়। বারবার সুমাইয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে তার বায়না থেকে সরছে না।

এ দুই অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তারা বাংলানিউজকে জানান, বাচ্চারা আমাদের হাত ধরে ঈদের কেনাকাটা করতে এলেও তাদের পছন্দেই পোশাক কেনা হচ্ছে। আমাদের সময়ের মতো এখন আর তাদের ওপর বড়দের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তারাই দোকান থেকে দোকান ঘুরে মিলিয়ে নেয় পছন্দের পোশাকটি।

সুমাইয়ার মা নাজমা সুলতানা বাংলানিউজকে জানান, ছোটবেলা বাবার সঙ্গে মার্কেটে আসতেন। বাবা যা পছন্দ করে কিনে দিতেন, তাই নিতেন। এসএসসি পর্যন্ত এভাবেই ঈদের পোশাক কেনা হতো। কিন্তু এখনকার বাচ্চাদের বেলায় সেটি হয় না।

এদিকে বাচ্চাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা মহানগরীর ফ্যাশন হাউজ, শো-রুম, ফুটপাতগুলোতেও নানা রঙ, প্রজাপতি ও কার্টুন চরিত্রগুলোর নকশায় অলঙ্কৃত করা পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। শিশুদেরও পছন্দের শীর্ষে এসব পোশাক।

দোকানিরা জানান, শিশুদের সব খুশি ঈদের পোশাক ঘিরে। ছোট্ট সোনামণিদের ঈদ আনন্দকে আরও স্মরণীয় এবং আনন্দময় করে তোলার জন্য তারা বিভিন্ন রঙের ও ডিজাইনের পোশাক কালেকশন রেখেছেন তারা।

বড়বাজারের নিউ ফ্যাশানের দোকানি মো. আব্দুল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, তারা বড়দের পাশাপাশি ছোট্ট শিশুদের জন্যও এনেছেন হাল ফ্যাশনের যতোসব পোশাক। তাদের আয়োজনে রয়েছে নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়সী শিশুদের পোশাক। বিভিন্ন রঙ ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের এসব পোশাক। দাম ৩০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

গৃহসুখন- এর মালিক মাসুমা রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ছোটদের পোশাকের ক্ষেত্রে এবারে ঈদে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। পোশাকের কাপড়গুলো তাদের ত্বকের উপযোগী করা হয়েছে। বিশেষ করে সুতি, হাতে বোনা কাপড়, অ্যান্ডি, শিফন ও সিল্ক দিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের পোশাক। এ ছাড়া স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, হালকা কারচুপি ও মেশিন অ্যামব্রয়ডারিতে আনন্দ আর উৎসবের রঙ তুলে ধরা হয়েছে শিশুদের পোশাকে।

তিনি জানান, মা-বাবার সঙ্গে এসে বাচ্চারা নিজেদের পছন্দের পোশাকটি কিনছে।

তিরানসের মালিক তন্ময় শাহরিয়ার বাংলানিউজকে বলেন, কার্টুন ও নকশাখচিত শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, চেক ও স্ট্রাইপ শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট ছেলে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।

মেয়ে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে নানা রঙের ফ্লোরাল মোটিফের ফ্রক, চেক ও স্ট্রাইপের শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট, ঝিলিক, দীপিকা, কারিনা, গোপি, রাশি, সুহানা।

তিনি জানান, ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে শিশুদের এসব পোশাক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT