হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়া

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আরেকটি মহারণ

আগামীকাল সকাল ৭টায় শুরু- জাতীয় দলে কে না খেলতে চায়? অথচ এই স্বপ্ন ইগনাসিও স্কোচ্চোর কাছে পরিণত হয়েছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নে। আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন আজ থেকে সাত বছর আগে, হোসে পেকারম্যানের জমানায়। চিলির বিপক্ষে ম্যাচটা খেলা হয়নি। পেকারম্যান আবার ডাকলেন তাঁকে, পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে। এবার একাদশে খেলা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে স্কোচ্চো নিজেই ছিটকে গেলেন! আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেললেন ঠিকই, ২০০৮ সালে। কিন্তু সেই ম্যাচটা ছিল আনঅফিশিয়াল!
আর্জেন্টিনা যুবদলের হয়ে মেসি-আগুয়েরোদের সঙ্গে খেলেছেন। মেসি-আগুয়েরোরা এখন কোথায়, আর তিনি কোথায়! এখনো একটিও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি। স্কোচ্চোর সেই স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। জাতীয় দল নিয়ে তাঁর পিছু লাগা অপয়া ভূতটা তাড়া না করলে আজ (বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল সাতটা) বহু আকাঙ্ক্ষিত অভিষেকটা হয়ে যাবে তাঁর। সেটিও ব্রাজিলের বিপক্ষে!
২৭ বছর বয়সী স্কোচ্চো এই মৌসুমে আর্জেন্টিনার অ্যাপার্চুরা চ্যাম্পিয়নশিপে নয় ম্যাচে ছয় গোল করে আলেজান্দ্রো সাবেলার দৃষ্টি কেড়েছেন। দুই ম্যাচ সিরিজের সুপার ক্লাসিকোর ফিরতি লেগের স্কোয়াডে তাই জায়গা পেয়েছেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের এই ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। দলে জায়গা নিয়ে হারনান বারকোস আর হুয়ান মার্টিনেজের সঙ্গে লড়তে হবে তাঁকে। এই দুজনেরই ব্রাজিলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। দুজনই খেলেন পালমেইরাস আর করিন্থিয়ানসে। ফলে ব্রাজিলের বিপক্ষে এই দুজনকে সাবেলার বেশি অগ্রাধিকার দেওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে, মার্টিনেজ প্রথম লেগের ম্যাচটায় গোলও করেছেন। মরিয়া স্কোচ্চো অবশ্য প্রয়োজনে উইংয়েও খেলতে রাজি। তাঁর প্রিয় পজিশন লেফট উইং। চাইলে তাঁকে ব্যবহার করা যেতে পারে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও।
ক্লাবসূচির ব্যস্ততার কারণে প্রথম লেগের মতো ফিরতি লেগেও ইউরোপে খেলা তারকাদের ডাকেননি সাবেলা। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল লিগে খেলাদেরই ডেকেছেন। মেসি-হিগুয়েইন-আগুয়েরো-ডি মারিয়াদের ভিড়ে কার্লোস তেভেজই সুযোগ পাননি ১২ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচটায়। সেখানে স্কোচ্চোর আশা করা তো রীতিমতো বাড়াবাড়ি।
দুই লেগের সুপার ক্লাসিকোর প্রথম ম্যাচটা ২-১-এ এগিয়ে আছে ব্রাজিল। নেইমারের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি জয় এনে দিয়েছে তাদের। এই ম্যাচটা ড্র করলেও জিতবে ব্রাজিলই। তবে মানো মেনেজেস ঘুণাক্ষরেও ড্রর কথা ভাবছেন না। ব্রাজিল কোচের মাথার ওপর চাপের পাহাড়। প্রথম ম্যাচটা জিতিয়েও মন পাননি সমর্থকদের। ‘মানো, তুমি বিদায় হও, ফেলিপে দায়িত্ব নাও’ স্লোগান উঠেছিল গ্যালারিতে। এর কদিন পর খোদ পেলেও বলেছেন, মেনেজেসের বদলে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো লুইস ফেলিপে স্কলারিকে চান তিনিও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ একটা জয় আপাতত এই চাওয়ার মুখে কুলুপ এঁটে দিতে পারে।
মেনেজেস অবশ্য দাবি করছেন, নিজের চাকরি নিয়ে মোটেও ভাবিত নন, ‘আমি কখনোই গ্যারান্টি চাইনি। আমি জানি, বিশ্বকাপ পর্যন্ত টিকে থাকতে হলে আমাকে কী করতে হবে। আমাদেরও এখন থেকে সাফল্য মাপার ক্ষেত্রে আরও বুদ্ধিমান হতে হবে। কখনো কখনো আপনি দুর্দান্ত খেলেও ম্যাচ জিতবেন না। এটা সব সময়ই হয় না।’
সামনে ব্রাজিলের টানা তিনটি ম্যাচ। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে না। কিন্তু দলকে খেলার মধ্যেই রাখতে চান কোচ। আর্জেন্টিনা ম্যাচের পর ১১ অক্টোবর ইরাক আর ১৬ অক্টোবর জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ওই দুই ম্যাচের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কদিন আগে এক প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা কাকাকে ডেকে পাঠিয়েছেন মেনেজেস। দুই বছর পর কাকা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। দেখা যাক, সুযোগ কীভাবে কাজে লাগান তিনি। ওয়েবসাইট।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.