টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বৌদ্ধ সহিংসতার সঠিক তদন্ত হলে ফেঁসে যেতে পারেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজল

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১২
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান,…সম্প্রীতির শহর রামুতে সংঘটিত সহিংসতার সঠিক তদন্ত হলে ফেঁসে যেতে পারেন স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল। কারণ সেইদিন তিনি উত্তপ্ত জনতার উদ্দেশ্যে রাতের মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিছিলের। এর পরপরই উত্তেজিত জনতা রাতভর তান্ডব চালিয়ে সেখানকার বৌদ্ধ মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
ঘটনার ৮ দিন পর গতকাল এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে উল্লেখিত তথ্য।
সূত্র জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনায় জড়িত সকলকে এখনো আইনের আওতায় না আনলেও এ জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে তারা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও মোবাইলে তোলা স্টিল ছবি দেখে মামলার আসামি করা হচ্ছে আরও কয়েক রথি-মহারথিকে। কারণ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শ’খানেক দুষ্কৃতকারী তাদের সামনে রেখেই মন্দির পোড়ানোর এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। এদিকে উসকানি ও হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনের নাম-ঠিকানার তালিকায় র‌্যাব ও পুলিশের কাছে সরবরাহ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধরা। ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে এখন তাদের স¤পৃক্ততার ব্যাপারে নিশ্চিত পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টায় রামুর চৌমুহনী চত্বরে পুলিশ যখন একটি সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন অপর চারটি ইউনিয়নে সংগঠিত হয় দুষ্কৃতকারীরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সামনে রেখে তারা খণ্ড খণ্ডভাবে মিছিল বের করে। যাতে একটি মিছিল বাধাগ্রস্ত হলেও নাশকতা চালাতে পারে অপর মিছিল থেকে। পরিস্থিতি না বুঝে স্থানীয় কয়েকজন মেম্বার মসজিদের মাইকে মানুষকে একত্র হওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে। কমপক্ষে সাত ভাগে বিভক্ত ছিল দুষ্কৃতকারীরা। প্রশাসনকে সমাবেশে ব্যস্ত রেখে দুর্বৃত্তরা চাকমারকুল ইউনিয়ন, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদের জড়ো করে মন্দির অধ্যুষিত ইউনিয়নে। এরই মধ্যে উপজেলা এলাকায় প্রবেশ করে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের নেতা নয়, স্থানীয় একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবেও আমি চেয়েছিলাম সেদিন রাতে কোনধরনের অঘটন যেন না ঘটে। তাই উত্তেজিত জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কোনভাবেই আমি এতে সম্পৃক্ত নই।
পুলিশের হাতে ভিডিও ফুটেজ ঃ
মসজিদের মাইক ব্যবহার করে হামলার জন্য উস্কানি দিয়েছে কারা? মধ্যরাতে কারা আনল গান পাউডার ও ¯েপ্র মেশিন? বহিরাগতরা কোন এলাকা দিয়ে কীভাবে এলো? স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের নেপথ্য ভূমিকা কেমন ছিল? ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজনরা কে কোথায় আছে? মিছিল ও সমাবেশের নেতৃত্বে ছিল কারা? এমন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার এক সপ্তাহের ব্যবধানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো চলছে। বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্যও রয়েছে তাদের হাতে। সময়মত শুরু হবে অভিযান। জড়িত কেউই রক্ষা পাবেনা। কয়েকজন রাজনীতিবিদও গোয়েন্দা নজরদারিতে।
মধ্যরাতের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছে কারা? ঃ
প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শনিবার মধ্যরাতে কিছু জনপ্রতিনিধির ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত হতে বলে পরে আবার ভাংচুরে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধিকে। আমরা তাদের অনেককে নজরদারিতে রেখেছি। আবার মসজিদের মাইক ব্যবহার করে যারা হামলার জন্য মানুষ একত্রিত করেছে তাদেরও শনাক্ত করছি। নিশ্চিত হয়ে গ্রেফতার করা হবে এদের সবাইকে।’ ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার কথা স্বীকার করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পাঁচ-ছয়টি বিষয় সামনে রেখে ইন্ধনদাতাদের ধরছি আমরা। ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও স্টিল ছবি হাতে আসায় কাজ এখন আগের চেয়ে দ্রুত হবে।’ ছেড়াংঘাটা রাখাইনপাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ন্যাপের সাধারণ স¤পাদক শামীম আহসান ভুলু জানান, রাত ১০টার দিকে রামু বাজারে আসা একটি মিছিল থেকে নারায়ে তকবির ¯ে¬াগান শোনেন তিনি। ওই মিছিলে হাফেজ ও নুরুল্লা নামক দুই ব্যক্তিকে ¯ে¬াগান ধরতে দেখেন তিনি। এ মিছিলে প্রায় ৪০ জন লোক ছিল। চৌমুহনী এলাকার এক স্টেশনারি ব্যবসায়ী জানান, মিছিলটির সামনে ছিলেন রামু উপজেলার আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সভাপতি আনছারুল হক ভুট্টো। এতে আরও ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও যুবলীগ নেতার ভাই হাফেজ মোহাম্মদ। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘মেরংরুয়া গ্রামে মিছিল বের করার আগে মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ একত্রিত করা হয়। আর এ কাজটি করেন বিএনপিপন্থি ইউপি মেম্বার কামাল উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির দিদার, জহিরসহ অন্তত ৩০ জন।’ ১২টি বৌদ্ধ মন্দিরের মধ্যে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের এই গ্রামে সর্বোচ্চ ৫টি মন্দির পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য এই ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো হচ্ছেন জামায়াতের সমর্থক। আবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি মন্দির পোড়ানো হয় জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নেও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান।
নেপথ্যের হোতাদের গ্রেফতার দেখতে চায় সাধারণ মানুষ ঃ
বৌদ্ধবিহার পোড়ানোর ঘটনায় রামুর বিক্ষুব্ধ মানুষ বিএনপি-আ’লীগ বোঝেনা, তারা বুঝে নৈপথ্যের হোতাদের শাস্তি। উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডেও দারুণ ক্ষুব্ধ তারা। শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক থাকলে রামুতে ইতিহাসের জঘন্যতম এ ঘটনা ঘটত না। উপজেলার শীর্ষ নেতারা রাত ১০টায় চৌমুহনী চত্বরের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখলেও পরে মন্দির রক্ষা করতে তাদের কোনো ভূমিকা দেখিনি। অথচ প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা যদি মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়েও থাকতেন তাহলে এত ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটত না।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT