টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ঘোষনায় নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে কতিপয় দুর্নীতিবাজরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৯১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেেিত সরকার চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ৯ তারিখ ঢাকার অনুষ্ঠিত্বব্য শিক সমাবেশ থেকে দেশে ২৯ হাজার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৩ ধাপে জাতীয়করণের ঘোষনা দেন। প্রথম ধাপের প্রায় ২৬ হাজার ৯শত বেসরকারী রেজিষ্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতি বছরের জানুয়ারী ১ তারিখ থেকে জাতীয়করণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে জুলাই মাসে ১ তারিখ থেকে তৃতীয় ধাপে ২০১৪ সালে জানুয়ারী থেকে সমস্ত বেসরকারী, এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণের আওতায় আনার ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষনার পরপরই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শুরু হয়েছে শিক নিয়োগ বাণিজ্য। যারই ধারাবাহিকতায় নাই্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু গর্জনবনিয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি উপেন্দ্র লাল তংচংগ্যা এবং কতিপয় প্রধান শিক নামধারী ছৈয়দ হামজা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কর্মরত ৩জন নিয়মিত শিক বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে শিা অফিসকে না জানিয়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩জন নতুন শিক নিয়োগ দেওয়া পায়তারা করে যাচ্ছে। এতে উক্ত বিদ্যালয়ে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। যে কোন মুহুর্তে রক্তয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় অভিভাবক মহল।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফরিদুল আলম জানান, দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক ছৈয়দ হামজার স্কুলটি প্রতিষ্টার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত শিক নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের কোন বৈধতা নেই। বর্তমানে তিনি আবারো পুর্বের নিয়মিত ৩জন শিক শফিউল ইসলাম, সিরাজুল হক এবং বুলবুল আক্তারকে বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে নতুন শিক নিয়োগের তদরিব চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক অফিসার সৎ ব্যক্তি হওয়ায় এই দুর্নীতি ছৈয়দ হামজা তার অফিস কোন প্রকার আশ্রয়-পশ্রয় পাচ্ছেনা।
উপজেলা শিক অফিস সুত্রে জানা গেছে, ছৈয়দ হামজার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের পিএসসি পরীায় জালিয়াতির অভিযোগে নাই্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাদী হয়ে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীা আইনে নাই্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং- ০৫, তাং-২৯/১১/২০১২। এতে পুলিশ প্রতিবেদনে তিনি অভিযুক্ত প্রমাণিত হয়েছেন, যাহা বর্তমানে বান্দরবান আদালতে বিচারাধীন আছেন। এত কিছূর পরও অভিযুক্ত ছৈয়দ হামজা নিজেকে এখনো প্রধান শিক দাবী করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপেন্দ্র লাল তংচংগ্যাকে হাতে নিয়ে বিভিন্ন শিতি বেকার যুবক-যুবতিদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। ঘুমধুম রেজু আমতলী গ্রামের নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ছৈয়দ হামজা তাকে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু আজ ৮ বছর যাবৎ তাকে চাকুরী ও দেয়নি এবং টাকা ফেরত দেয়নি। একই অভিযোগ আমেনা বেগম ও খালেদা আক্তার নামে ২ জন মহিলার। তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে লাধিক টাকা নিয়েছে ছৈয়দ হামজা কিন্তু চাকুরী দেয়নি। এছাড়া ও আরো অনেকেই একই অভিযোগ করে বলেন, এই দুর্নীতিবাজ ছৈয়দ হামজার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এধরনের অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাবেন। বিদ্যালয়ের বর্তমানে দায়িত্বরত সহকারী শিকিা বুলবুল আক্তার বলেন, দুর্নীতি কতিপয় প্রধান শিক ছৈয়দ হামজার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েকটি তদন্ত হয়েছে এসব তদন্তে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন, এমনকি গত ২মাস পুর্বে বান্দরবানের থানচি উপজেলা শিা অফিসার একটি তদন্ত করেছে তাতে তার সব অপকর্ম বেরিয়ে এসেছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে নাই্যংছড়ি উপজেলা শিা কর্মকর্তা আবু আহমদ জানান, ছৈয়দ হামজার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত সরজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে, যাহা রিপোর্টের অপোয় রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মন্তব্য করে বলেন, সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগকে পুঁজি করে যারা শিক নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে, এদের শাস্তি হওয়া দরকার। নচেৎ সরকারের চরম ভাবমূর্তি ুন্নের পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।

উখিয়া প্রতিনিধি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT