টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বিষোদগার ও কুৎসা রটনায় শেষ হলো কক্সবাজার জাতীয় পার্টির সম্মেলন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১১৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

JP News ইমাম খাইর, কক্সবাজার। ব্যাপক সমন্বয়হীনতা, বিষোদগার ও একে অপরের কুৎসা রটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে শনিবার সকাল ১১ টার সম্মেলন শুরু হয়েছে দুপুর সাড়ে ১২ টায়। সভায় দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনাপূর্ণ বক্তব্য রাখার চেয়ে প্রত্যেক নেতা কর্মী আতœপ্রচার ও অপরের ছিদ্রান্বেষণে বেশী সময় ব্যয় করেছে। অনুষ্ঠানে ছিলনা কোন সিডিউল ও কর্মপরিকল্পনা। এতে সুনির্দিষ্ট পরিচালক না থাকায় পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিল ৫ নেতা। তাছাড়া অনুষ্ঠানে কেন্দ্র থেকে আগত অতিথিদের বরণ করা হয়নি এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের জন্য কোন ধরণের আসনের ব্যবস্থাও ছিলনা। বলতে গেলে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল বিশৃঙ্খলা আর উচ্ছৃঙ্খলায় ভরপুর। যে কারণে খোদ অতিথিদের অনেকটা অসন্তুষ্ট এবং স্থানীয় নেতাদের বারবার তাগাদা দিতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগর।   সাবেক সফল রাষ্ট্র নায়ক আলহাজ্ব হুসেইন মু. এরশাদের হাতে গড়া সংগঠন জাতীয় পার্টি কক্সবাজার জেলার বহুল প্রতীক্ষিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহা সচিব আলহাজ্ব এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি। এ সময় তিনি বলেন- আওয়ামী সরকারের আমলে হত্যা, সন্ত্রাস, খুন ও লুটপাটে দেশবাসি দিশেহারা। বিগত সময়ে জাতি অনেক দূর্গম পথ অতিক্রম করেছে। দেশবাসি এর পরিবর্তন চায়। দেশের কঠিন অন্ধকারময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য জনগণ পল্লিবন্ধু হুসেইন মু. এরশাদের হাতে দেশ পরিচালনার ভার তুলে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এ নেতা।

জাতীয় পার্টির যুগকে স্বর্ণালী যুগ উল্লেখ করে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এরশাদ আমলের উন্নয়ন কর্মকান্ডের  উপর রঙ লাগিয়ে সব সরকারই নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করেছেন। একমাত্র এরশাদ সরকার ছাড়া অতীতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তারা সকলেই আখের গোছানোর রাজনীতি করেছে। ক্ষমতা স্থায়ী রাখার জন্য তারা লাশের রাজনীতির চর্চা হয়েছে। জনগণ এ অপরাজনীতি আর চায়না। দেশের মানুষ দুই নেত্রীর শাসন শোষণে অতীষ্ট হয়ে গেছে। জনগণ তাদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

আলহাজ্ব কবির আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ঘুমিয়ে থাকলে আর চলবে না। তোমরা ঘুম থেকে জেগে উঠ। আরেকটি বার তোমাদের মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। অন্ধকারে আচ্ছন্ন দেশকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে গ্রহণযোগ্য পন্থায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা। প্রয়োজনে একক শক্তি নিয়ে লড়বে তার দল। এ লক্ষে জাতীয় পার্টি ইতিমধ্যে সারা দেশে ২’শ প্রার্থীর নাম  ঘোষণা করেছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদ। এ সময় তিনি  বলেন- জাতি হতাশ, আতঙ্কগ্রস্থ। দেশ অন্ধকারময় সময় অতিক্রম করছে। নির্বাচন নিয়েও রয়েছে প্রচুর আশঙ্কা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে তাদের পরীক্ষা সম্পন্ন করা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে।

ফিরোজ রশিদ বলেন, আওয়ামীলীগ বলছে তাদের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেনা। এ নিয়ে দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরী হয়েছে। দেশের গণতন্ত্র কবর রচনার মুখোমুখি। দেশে একদলীয় শাসন কায়েমে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আওয়ামীলীগ। গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে উদ্ধারে এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের কোন বিকল্প নেই বলেও তিনি দাবী করেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আমিন শানু, যুগ্ম মহাসচিব এড. রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক লিয়াকত হোসেন খোকা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি জাপা নেতা মাহবুবুল আলম ভুলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার আলম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ছৈয়দ, চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি নুরুচ্ছফা ও উত্তর জেলা সভাপতি হেলাল উদ্দিন।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার আলম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ছৈয়দ, কেন্দ্রীয় মহিলা পার্টির সহ-সভানেত্রী খোরশেদ আরা হক, জেলা জাপা সাবেক সভাপতি হাজি মু. ইলিয়াছ, কেন্দ্রীয় নেতা মফিজুর রহমান, শহর জাপা আহবায়ক কামাল উদ্দিন কামাল, সদর উপজেলা আহবায়ক মেহেরুজ্জামান, এড. মোহাম্মদ তারেক, জাপা নেতা এড. আহমদ কবির, জেলা আইনজীবি ফোরাম সভাপতি এড. বদিউর রহমান, জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দুলাল, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির জেলা আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, জাপা নেতা শামসুল আলম, মহেশখালী উপজেলা আহবায়ক নাজেম উদ্দিন চেয়ারম্যান, মহেশখালী পৌর আহবায়ক আব্দুল গফুর, টেকনাফ পৌর জাপা সদস্য সচিব মো. আয়াস, কুতুবদিয়া উপজেলা সাবেক সভাপতি মাষ্টার খুরশেদ আলম, এসএম বাবর, উখিয়া উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন, পেকুয়া উপজেলা সভাপতি এস এম মাহবুব ছিদ্দিকী, রামু উপজেলা সভাপতি মাষ্টার হোসাইন মাতব্বর, টেকনাফ উপজেলা সভাপতি শফিক আহমদ বিএ, মাতামুহুরী আহবায়ক মৌলানা ছিদ্দিক আহমদ, চকরিয়া পৌরসভা সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, জেলা যুব সংহতি সভাপতি শহীদুল ইসলাম মুন্না, জেলা ওলামা পার্টির সভাপতি মাওলানা শফিউল আলম জিহাদি, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ জেলা-উপজেলা তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT