টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১২
  • ১৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালসহ আরও কিছু জনদাবিতে আগামী ঈদুল আজহা পর্যন্ত দুই মাসজুড়ে জনসভা, বিক্ষোভ ও জনসংযোগের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
গতকাল নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালে কোনো আলোচনা নয়, আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবি মেনে নিলে ‘নির্দলীয় সরকারের প্রধান’ ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল ও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহানগর-জেলা-উপজেলায় গণমিছিল ও জনসভা এবং জোট নেতাদের গণসংযোগ। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে জনসভায় বক্তৃতা করবেন ১৮ দলীয় জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং সোমবার ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালে ঈদুল ফিতরের পর বিএনপির কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার কথা ছিল। তবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিল তারা। কর্মসূচি ঘোষণা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সচেতনভাবে এমন কোনো কর্মসূচি দিতে চাই না, যাতে জনগণের দুর্ভোগ হয়, দেশে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে সারাদেশে জনমতকে আরও শক্তিশালী করতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এ বিষয়টি সরকারকেও অনুধাবন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল দাবিতে জনসংযোগের পাশাপাশি জনইস্যুতে আরও কিছু কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দলীয়করণ ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মিছিল হবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে ৯ সেপ্টেম্বর এবং দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুত্, গ্যাস, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের মূল্য বাড়ানোর প্রতিবাদে ১৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ হবে।
এছাড়া জনপ্রিয় বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিসহ গুম-হত্যার প্রতিবাদে ২৩ সেপ্টেম্বর এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ এবং কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।
এসব কর্মসূচি শেষে আবার জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জোটনেত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমির হামিদুর রহমান আযাদ, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস লীগের সভাপতি গরীব নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা আমরা কেন দেব। আগে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে। এরপর নির্দলীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
‘বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে’ দাবি করে ফখরুল বলেন, সরকারের একগুঁয়েমি, অযোগ্যতা ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে দেশের রাজনীতি বিপজ্জনক অবস্থায় মোড় নিয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে অসত্ উদ্দেশে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষার লক্ষ্যে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন আনতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের ‘দুর্নীতির’ সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক তা বাতিল করেছে। সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক নামের একটি অখ্যাত কোম্পানির মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। আওয়ামী লীগের নেতারাই সোনালী ব্যাংকের পর্যদের সদস্য। সোনালী ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সিংহ রায়, সাইমুম সরওয়ার, কাশেম হুমায়ুন, মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা প্রমুখ।
তিনি বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের মাধ্যমেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। পুঁজিবাজারেও ক্ষমতাসীনরা হাজার হাজার কোটি টাকা ‘লুট’ করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিচার বিভাগ ও সংসদকে আজ মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। গতকাল হাইকোর্টের একটি রায়ে এ সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্পিকার নিরাপদ অবস্থানে থাকলেও ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনের বক্তব্য আক্রমণাত্মক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT