টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বিপুল ভোটে আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১২
  • ১৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) উপ-নির্বাচনে  বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রাথী আমানুর রহমান রানা বিজয়ী হয়েছেন।

রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে বেসরকারিভাবে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের শহীদুল ইসলাম লেবু।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো: আলিমুজ্জামান বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, আমানুর রহমান খান রানা আনারস প্রতীকে মোট ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮০৮ ভোট,  অন্যদিকে শহীদুল ইসলাম লেবু নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪০হাজার ৫৩১ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন সৈয়দ আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ তুহিন। তিনি পেয়েছেন ১১হাজার ৬৮৪ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১লাখ ৫৪ হাজার ২৩টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১হাজার ৪’শত ৯টি। মোট ভোট পড়েছে ১লাখ ৫৫হাজার ৪৩২টি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি উপ-নির্বাচন বর্জন করেছে।

সন্ধ্যা পৌনে ৮ টা পর্যন্ত ৮০ টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আনারস প্রতীকের ভোট ৮০ হাজার ৯৯০, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৩৫হাজার ৩৯৬। আর লাঙ্গল প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট ৯ হাজার ৭৭৬। এই ৮০টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ১লাখ ২৭ হাজার ৩০৪ ভোট। এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ১৪২টি। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১লাখ ২৬ হাজার ১৬২টি।

ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৩ আসনের অধীনে ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড রয়েছে। এ আসনের মোট ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৩২৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৮৬ আর নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩ জন।

এর মধ্যে ৭৪ নং কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২হাজার ৮৪৭টি। এর মধ্যে আনারস প্রতীক পেয়েছে ১০২টি ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ৩৭, লাঙ্গল পেয়েছে ৩৮টি ভোট। ২২ নং কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩হাজার ৭২৮। এর মধ্যে আনারস প্রতীক পেয়েছে ১হাজার ১৫৯টি ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ৭৫২, লাঙ্গল পেয়েছে ১৮৯টি ভোট।

৫৩ নং কেন্দ্রে আনারস প্রতীক পেয়েছে ১হাজার ২৭৪টি ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ৫৬, লাঙ্গল পেয়েছে ২৭টি ভোট।

৭৩নং কেন্দ্রে আনারস প্রতীক পেয়েছে ৬৭টি ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ১৩, লাঙ্গল পেয়েছে ১২ ভোট। ২১নং কেন্দ্রে আনারস প্রতীক পেয়েছে ৮১৯ট ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ৩৪৮, লাঙ্গল পেয়েছে ১৬১ ভোট। ৪ নং কেন্দ্রে আনারস প্রতীক পেয়েছে ১হাজার ৯১ট ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ৩৬৫, লাঙ্গল পেয়েছে ২৫৪ ভোট। ২নং কেন্দ্রে আনারস প্রতীক পেয়েছে ৯৮১ট ভোট, নৌকার প্রাপ্ত ভোট ২৬৩, লাঙ্গল পেয়েছে ১৩৬ ভোট।

জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য রোববার সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাবে তা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত । সকালের দিকে ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকলেও দুপুরে দিকে প্রায় ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র। বিকেলের দিকে অবশ্য ভোটার ‍উপস্থিতি বেড়ে যায়। তাও তুলনামূলক অনেক কম। তবে গ্রামাঞ্চলের কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বেশ লক্ষ্য করা গেছে।

ভোটার উপস্থিতি যাই হোক, নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের প্রস্তুতি ছিল পর্যাপ্ত। উপনির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৭ জন করে সদস্য ছিলেন।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম মোকাবিলায় ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।

সকাল আটটা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দিঘলকান্দি ও দিগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুর রহমান খান মুকুল একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে রতনপুরে শহিদুল ইসলামের কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি তেমনটা চোখে না পড়লেও ভোট বেশি পড়েছে বলে উৎসুক্য জনতার মধ্যে কানাঘুষা ছিল। তবে এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের পক্ষে তেমন অভিযোগ অনুযোগ শোনা যায়নি।

দুপুরের দিকে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছিলেন, দুপুর পর্যন্ত ৩৫-৪০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। শেষ সময় পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হবে।

দুপুরের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের বাইরে লোক সমাগম থাকলেও ভেতরে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই শূন্য। কোনো কোনো কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের একেবারেই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

টাঙ্গাইল-৩ নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ মতিউর রহমান এ বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে মারা যান। এরপর এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শূন্য এ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আজ ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে গত ৮ অক্টোবর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT