হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

ধরাছোঁয়ার বাইরে ১৩১ যুদ্ধাপরাধী

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩১ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর অধিকাংশ দেশেই পলাতক। অনেকে রয়েছে দেশের বাইরে। এই যুদ্ধাপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী শহীদ পরিবারের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা যেসব দেশে পালিয়ে আছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তৎপরতাও অব্যাহত আছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিকে দেশে এনে সাজা কার্যকরের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চলছে। গত ৯ বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৩৮টি মামলার রায়ে ৮৮ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় তদন্ত বা বিচার কাজ চলছে এমন পলাতক আসামির সংখ্যা ৩২।

২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছয় যুদ্ধাপরাধীর চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকর হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ছয়টি মামলার বিচার চলছে। ৩৬টি মামলায় ৭৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্মান্তরকরণসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি সাতক্ষীরার জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান বিচার চলাকালীন গত মে মাসে ভারতে মারা যায়। গত ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নেত্রকোনার পলাতক আসামি নূর উদ্দিনের মৃত্যু হয়। গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় পলাতক ছিল এ আসামি। বিচার চলাকালীন শেরপুরের ইমদাদুল হক মারা যায় গত বছর জানুয়ারিতে। একই বছরে মারা যায় বাগেরহাটের মোকছেদ আলী দিদার। ময়মনসিংহের নুরুল আমিন সুজন মারা যায় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই মারা যায় ময়মনসিংহের কাজী বদরুজ্জামান। গত ৩ ডিসেম্বর মারা যায় গাইবান্ধার আজগর হোসেন খান। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর মারা যায় কক্সবাজারের আবদুল মজিদ মাওলানা। শুধু আজগর হোসেন বা টিক্কা খানই নয়; আরও অনেকেরই পলাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

জানা যায়, বর্তমানে পলাতক জীবন-যাপন করছে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ১৩১ আসামি। এদের মধ্যে ৮৬ জনের বিচার চলমান। তাদের সবার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর বাইরে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রয়েছে ৩২ জন। আর আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ১৩ জন। মাঝেমধ্যে পলাতক আসামি অনেকের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে জীবিত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কেবল মারা গেলেই তাদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নাগরিক। ওইসব দেশে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার বিধান না থাকায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে পলাতক ৫ আসামি যেসব দেশে আছে তাদের ফিরিয়ে আনা অনেকটা অনিশ্চিত। পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তান, নগরকান্দার এমএ জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকার সুইডেন, মঠাবাড়িয়ার আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। এ ছাড়া সৈয়দ হাসান আলী কোথায় পলাতক, জানা যায়নি। ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারির পরও তাদেরকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

বিচারাধীন মামলাগুলোতে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আদালত। তাদের গ্রেফতারের জন্য ২০১৫ সালের ১৩ মে একটি তদারকি সেল বা কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই বছরের ২১ মে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মনিটরিং সেল গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব। পুলিশ সদর দপ্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, এনএসআই, ডিজিএফআই, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা এ তদারকি সেলের সদস্য। তবে মনিটরিং সেল গঠনের চার বছরেও কোনো পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাননান খান সমকালকে বলেন, পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ নিয়মিত মনিটরিং করছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারা দুঃখজনক। আর এদের গ্রেফতারের জন্য একটি শক্তিশালী কমিটিও রয়েছে। তবে এ কমিটির জোরালো কোনো ভূমিকা নেই। ফলে বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী শহীদ পরিবার হতাশাগ্রস্ত। কারও কোনো জবাবদিহিও নেই। প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত সমকালকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ কার্যকরের ক্ষেত্রে শৈথিল্য বা উদাসীনতা আছে। নইলে আসামিরা দেশে থাকার পর মারা যায়, কিন্তু গ্রেফতার হয় না!

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.