টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

বিজিপির ‘বাণিজ্যের’ শিকার বাংলাদেশি জেলেরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ২৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
আবদুর রহমান **

নাফ নদ আর সাগর বাংলাদেশি জেলেদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ২১ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরা। তাদের মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে চারজন ফিরেছেন। বাকি ১৭ জনের খবর মেলেনি। এ ছাড়া মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি ছয় জেলে। জেলেদের অভিযোগ, বিজিপির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে বাণিজ্য করছে। তাই অনেকে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশের জলসীমায় নাফ নদে মাছ ধরার সময় বিজিপি সদস্যরা জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। মুক্তিপণ দিতে রাজি না হলে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার দুপুরে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণ সাগরের মৌলভীশিল নামক এলাকায় বাংলাদেশের জলসীমায় পতাকাবাহী একটি মাছ ধরার ট্রলার লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। এতে গুলিবিদ্ধ ছয় জেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত ১২ ডিসেম্বর টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদে মাছ ধরার সময় দুটি নৌকাসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে বিজিপি। তারা হলেন টেকনাফের চৌধুরীপাড়া এলাকার মো. হোসেন, আবদুর করিম, আক্তার ফারুক, সাদেক হোসেন, মো. ফারুক ও মো. সাদেক। ওইদিন রাতেই দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, আবদুল করিম ও মোহাম্মদ সাদেক। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) দাবি, বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফেরত আনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে মাছ শিকারে গিয়েছিল। এ কারণে ফিরিয়ে আনার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছয়জনের মধ্যে সাদেক হোসেন ও আক্তার ফারুককে এখনও বিজিপি আটকে রেখেছে। এ ছাড়া একই মাসে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, ঝিমংখালী, লেদা, পৌরসভার জালিয়া পাড়া, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের নাফ নদে মাছ ধরার সময় আরও ১৫ জেলেকে অপহরণ করে বিজিপি। তারা হলেন আবদুর রহমান, মো. ইউনুস, মো. খালেক, আবদুল হামিদ, ফজল আহমদ, মোহাম্মদ হাশিম, মোহাম্মদ সাদ্দাম, মোহাম্মদ হোসাইন, রশিদ উল্রাহ, মো. হামিদ হোসেন, মো. ইসমাঈল ও নুর হোসেন। এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর নাফ নদের ১ নম্বর স্লুইসগেট এলাকায় বাংলাদেশের সীমানায় মাছ ধরার সময় ছয়জনকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে বিজিপি। ওইদিন রাতেই ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। অপহৃত জেলে আবদুল হামিদের স্ত্রী উম্মে খায়ের জানান, ধরে নেওয়ার পর বিজিপি মুক্তিপণ দাবি করেছিল না দেওয়ায় তাকে ছাড়েনি। জানি না এখন কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে?
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ জানান, জেলেদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই মাছ ধরতে যাচ্ছেন না। অপহৃতদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী জানান, জেলেদের ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমার বিজিপিকে চিঠি ও ফোনের মাধ্যমে বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে তাদের দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে একটু সময় লাগছে। তিনি জানান, নিষেধ সত্ত্বেও বাংলাদেশি জেলেরা মিয়ানমার জলসীমায় মাছ শিকারে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

fil pic

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT